Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

৭২ স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

Published September 14, 2026 · Updated September 14, 2026 · By Betty Rodriguez - patrikajournal.com

Foto : Betty Rodriguez - patrikajournal.com

ফুলবাড়ীর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট, চাপে শিক্ষা কার্যক্রম

Patrikajournal.com – ৭২ স ক ল ন ই প - দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা শিক্ষাব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। উপজেলার ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। একই সঙ্গে ৮০টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরির পদও খালি রয়েছে। এতে পাঠদানের প্রশাসনিক দিক যেমন দুর্বল হচ্ছে, তেমনি বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও ডিজিটাল শিক্ষা সরঞ্জাম রক্ষাও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকলে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ পড়ে অন্য শিক্ষকদের ওপর। পাঠ পরিকল্পনা, শিক্ষক সমন্বয়, শিক্ষার্থী উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে সামলানো কঠিন হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে এ সংকট চলতে থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে।

পদোন্নতি জটিলতায় আটকে রয়েছে নিয়োগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রচলিত কাঠামোয় ৩৫ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ পদ সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা। কিন্তু সরাসরি নিয়োগ পাওয়া বহু প্রধান শিক্ষক ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন। অন্যদিকে উচ্চ আদালতে চলমান মামলার কারণে ২০০৯ সাল থেকে পদোন্নতি কার্যক্রম স্থবির রয়েছে। ফলে খালি পদগুলো পূরণের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় অভিজ্ঞ সহকারী শিক্ষকদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে। যাঁরা বহু বছর ধরে বিদ্যালয়ে পাঠদান ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের অনেকে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পরবর্তী পদে যেতে পারছেন না। এতে কর্মক্ষেত্রে আগ্রহ ও প্রেরণার ওপরও প্রভাব পড়ছে বলে শিক্ষক প্রতিনিধিরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উপজেলা শাখার সভাপতি এস কে মোহাম্মদ আলী দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম বলেন, দীর্ঘদিন সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও অনেকে পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন না। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের বিষয়টি তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।

“যাঁরা ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করছেন। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের পদোন্নতি না দিয়ে নতুনদের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। আইনি জটিলতার কারণে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগতমান ব্যাহত হচ্ছে।”

প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে দেয়। তাই এখানে নেতৃত্বের শূন্যতা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শেখার পরিবেশ, শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক মানোন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত। প্রধান শিক্ষক থাকলে বিদ্যালয়ের নানা সিদ্ধান্ত ও তদারকি একটি নির্দিষ্ট দায়িত্বশীল কাঠামোর মধ্যে থাকে। পদ খালি থাকলে সেই ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

নিরাপত্তাহীনতায় বিদ্যালয়ের সরঞ্জাম

ফুলবাড়ীর ১০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮০টিতে নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরি নেই। রাতে এসব বিদ্যালয় কার্যত অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে। নৈশপ্রহরীর অনুপস্থিতি শুধু ভবন পাহারার প্রশ্ন নয়; বিদ্যালয়ে রাখা সরকারি সম্পদ সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ দুর্বলতার সুযোগে বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম, বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ নানা সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব উপকরণ হারিয়ে গেলে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদানও বাধাগ্রস্ত হয়। ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য সরবরাহ করা যন্ত্রপাতি নিরাপদে ব্যবহার করতে না পারলে শিক্ষার্থীরাও এর প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

বিদ্যালয়গুলোতে নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরির দায়িত্ব সাধারণত নিরাপত্তা, দাপ্তরিক সহায়তা এবং অবকাঠামো দেখভালের সঙ্গে সম্পর্কিত। পদটি দীর্ঘদিন খালি থাকলে শিক্ষকদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হয়, যা তাঁদের মূল পাঠদানের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহায়ক জনবলের প্রয়োজনীয়তাও তাই সামনে এসেছে।

শূন্যপদের তথ্য পাঠানো হচ্ছে

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহসিন আলী জানান, সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে প্রক্রিয়াটি আটকে আছে। তবে শূন্যপদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

“সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রাপ্তির বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলায় দীর্ঘদিন তাঁদের পদোন্নতি আটকে আছে। তবে শূন্যপদের তালিকা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নিয়োগ ও পদোন্নতিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই সংকট দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সংকট শুধু ফুলবাড়ীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সারা দেশেই এ পদে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। সরকার নিয়োগের দায়িত্ব পিএসসির মাধ্যমে নেবে, নাকি পদোন্নতির পথেই তা সম্পন্ন করবে—এ প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

“প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সারা দেশে একই অবস্থা। এই পদে মামলাজনিত জটিলতা রয়েছে। সরকার এটি কি পিএসসির মাধ্যমে করবে, নাকি পদোন্নতির মাধ্যমে করবে—দীর্ঘদিন ধরে এ কারণে পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি প্রায় মোটামুটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা যায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করবে।”

তিনি আরও বলেন, নৈশপ্রহরীর শূন্যপদের বিষয়টিও সরকারের নজরে রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব বিদ্যালয়কে এর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হলে বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়বে, শিক্ষকরা দায়িত্ব বণ্টনে স্বস্তি পাবেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুশৃঙ্খল শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ৭২ স ক ল ন ই প?

৭২ স ক ল ন ই প is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ৭২ স ক ল ন ই প matter?

৭২ স ক ল ন ই প matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.