Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

৮ হাজার কোটির পাইপলাইন: চালুর আগেই শেষ গ্যারান্টির মেয়াদ

Published October 1, 2026 · Updated October 1, 2026 · By James Martinez - patrikajournal.com

Foto : James Martinez - patrikajournal.com

অপারেটর সংকটে আটকে থাকা এসপিএম প্রকল্পে বাড়ছে আর্থিক চাপ

Patrikajournal.com – ৮ হ জ র ক ট র - বঙ্গোপসাগরে বড় ট্যাংকার থেকে সরাসরি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ডিপোতে জ্বালানি তেল পৌঁছানোর জন্য নির্মিত প্রায় ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকার সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডাবল পাইপলাইন বা এসপিএম প্রকল্প এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। কাজ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর পর অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলেও প্রকল্পটি কার্যক্রমে যেতে আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। এর মধ্যেই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ১৮ মাসের কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ গ্যারান্টির সময়সীমা গত আগস্টে শেষ হয়েছে।

ফলে পাইপলাইন, যন্ত্রপাতি বা অন্য কোনো অংশে এখন সমস্যা দেখা দিলে মেরামতের দায় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিপিপিইসি) ওপর থাকবে না। প্রয়োজনীয় ব্যয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) নিজস্ব তহবিল থেকেই বহন করতে হবে।

সমুদ্রপথে ১১০ কিলোমিটারের সংযোগ

মহেশখালী থেকে সমুদ্রতলদেশ অতিক্রম করে পতেঙ্গা ডিপো পর্যন্ত এই ব্যবস্থার পাইপলাইন বিস্তৃত ১১০ কিলোমিটার। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল বড় জাহাজ থেকে তেল খালাসের প্রচলিত ধীর ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়ার পরিবর্তে সরাসরি ডিপোতে তেল আনা। এ ব্যবস্থায় সাগরে ভাসমান বয়ার সঙ্গে নোঙর করতে পারবে বড় ট্যাংকার। এরপর অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল সমুদ্রের নিচের পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থলভাগে পৌঁছাবে।

বিপিসির পরিকল্পনায়, এতে তেল খালাসের সময়সীমা ১০ থেকে ১২ দিন থেকে নেমে প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় আসার কথা। বর্তমানে বড় জাহাজ থেকে সাগরেই ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়, যা সময় ও ব্যয়—দুই দিক থেকেই চাপ সৃষ্টি করে।

২০১৮ সালের আগস্টে শুরু হওয়া প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের মার্চে। কিন্তু পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ না হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। প্রকল্পটি দেশের প্রথম সমন্বিত সমুদ্র ও স্থলভিত্তিক তেল সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।

অপারেটর নিয়োগ ও নতুন ব্যয়

গত ২৩ সেপ্টেম্বর এসপিএম পরিচালনার জন্য পাঁচ বছরের মেয়াদে ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানকে অপারেটর হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হয়। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা, যা বিপিসি নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধ করবে।

মহেশখালীতে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি পিএলসির (পিটিসিপিএলসি) উপমহাব্যবস্থাপক, অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং, জামান নাহিদ রায়হান জানিয়েছেন, অপারেটর নিয়োগের পরও এসপিএম চালু করতে আরও কয়েক মাস লাগবে। তাঁর ভাষ্য, কিছু কাজ বাকি থাকলেও সেগুলো সরাসরি অপারেশনের অংশ নয়। দীর্ঘদিন প্রকল্পটি অব্যবহৃত থাকায় যন্ত্রাংশ বা লোহার ট্যাংকের ক্ষতির আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি বলেন, এগুলো নষ্ট হয়নি।

“এগুলো নষ্ট হয়নি।”

পিটিসিপিএলসি প্রকল্পটির দেখভাল করলেও দাপ্তরিক হস্তান্তর নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিপিসির সচিব শাহেনা সুলতানা বলেছেন, এসপিএম প্রকল্পটি পিটিসিপিএলসি তত্ত্বাবধান করে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির সচিব মো. মাহবুবুর রহমান জানান, তাঁদের কাছে প্রকল্পটি তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি।

“আমাদের কাছে এখনো এসপিএম প্রকল্পটি দাপ্তরিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি।”

সাশ্রয়ের সুযোগ হারানোর হিসাব

প্রকল্পটি চালু হলে শুরুতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে অপারেটর নিয়োগে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে সেই সুবিধা কাজে লাগানো যায়নি। বিপিসির এক হিসাব বলছে, দুই বছরের বিলম্বে সম্ভাব্য ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সাশ্রয় হাতছাড়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, বাস্তব আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ এর চেয়েও বেশি হতে পারে, কারণ এখনো সমুদ্রে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর করতে হচ্ছে।

একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারের ১৮ মাসের গ্যারান্টি গত আগস্টেই শেষ হয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে যান্ত্রিক বা কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা সারাতে বিপিসির অতিরিক্ত অর্থ লাগবে। আরেক কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটি পড়ে থাকার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

“এত টাকার একটি প্রকল্প দুই বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে। এসপিএমসহ পাইপলাইন পরিচালনার জন্য পিটিসিপিএলসিকে কোটি কোটি টাকা বেতন দেওয়া হচ্ছে। অথচ তারা অপারেশনে যেতে পারছে না।”

ঋণের কিস্তিও সামনে

পরিচালন ব্যয় ও গ্যারান্টি-পরবর্তী ঝুঁকির পাশাপাশি প্রকল্প ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপও রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৬৯০ কোটি টাকা কিস্তি ঋণদাতা সংস্থাকে দিতে হবে বিপিসিকে। এর আগে সংস্থাটি ৩ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এই দায় মেটাতে বিপিসি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় বিপিসিকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার সম্মতি দিয়েছে। তবে এসপিএম প্রকল্পের পরিচালনা, ঋণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় প্রকল্পটির অর্থায়ন হয়েছে চীনের সহজ শর্তের ঋণ, সরকারি বরাদ্দ ও বিপিসির নিজস্ব অর্থে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অংশ ৫৯৬ কোটি টাকা, চায়না এক্সিম ব্যাংকের ঋণ ৫ হাজার ১১৬ কোটি টাকা এবং বিপিসির তহবিল থেকে ব্যয় ২ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা।

এসপিএম চালু হলে জ্বালানি তেল আমদানি ও খালাসের সময় কমার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায় গতি আসার কথা। কিন্তু কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখন প্রকল্পটির সফলতা শুধু চালুর সময়সূচির ওপর নয়, প্রথম পর্যায়ের নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ পরিচালনার ওপরও নির্ভর করছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ৮ হ জ র ক ট র?

৮ হ জ র ক ট র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ৮ হ জ র ক ট র matter?

৮ হ জ র ক ট র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.