Bangladesh

৯২ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই কোনো চিকিৎসক

khrisna-edit-1788557822-968be40486

গ্রামের দরজায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ভেতরে খালি চেয়ার

Patrikajournal.com – ৯২ স ব স থ যক ন – দুই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে জেলা সদরের হাসপাতালে পৌঁছানো সুমাইয়া আক্তারের জন্য এখন একটা দীর্ঘ যুদ্ধ। চাঁদপুরের বাগাদী ইউনিয়নের সোবহানপুর গ্রামে তাঁর বাসা। ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র তাঁর গ্রামের কাছেই অবস্থিত, তবু সেখানে এমবিবিএস চিকিৎসক বসেন না। ফলে একটা সাধারণ জ্বর বা সর্দি-কাশির ওষুধ পেতেও তাঁকে ছুটতে হয় দীর্ঘ পথ পার করে। সম্প্রতি ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীর উপস্থিতি প্রায় শূন্য। কয়েকজন রোগী জানান, সাধারণ জ্বর বা ঠান্ডার ওষুধও অনেক সময় পাওয়া যায় না, ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না নিয়েই ফিরতে হয়। বাইরে থেকে ওষুধ কেনার সামর্থ্য অনেকের নেই।

কাগজে-কলমে থাকা চিকিৎসকের বাস্তবতা

চাঁদপুর জেলার আটটি উপজেলায় মোট ৯২টি ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই ৯২টির মধ্যে ২০টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৭২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসক বরাদ্দ দেওয়া আছে। এই কেন্দ্রগুলোর মূল দায়িত্ব সাধারণ রোগের চিকিৎসা, মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবারপরিকল্পনা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

তবে বাস্তবে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বরাদ্দপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বেশিরভাগই সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে সামান্য সেবা পেতেও উপজেলা কিংবা জেলা সদরে ছুটতে হচ্ছে।

জনবলসংকটের সংখ্যা

চিকিৎসকের অনুপস্থিতির পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের পদেও বিশাল ফাঁক রয়েছে। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের ৫৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১৪ জন; ৩৯টি পদ পুরোপুরি শূন্য। পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকার ১৪২ পদের মধ্যে কর্মরত ৫৯ জন, শূন্য ৮৩টি। পরিবারপরিকল্পনা পরিদর্শকের ৯১ পদের বিপরীতে কর্মরত ৮২ জন, শূন্য মাত্র ৯টি। আর পরিবারকল্যাণ সহকারীর ৫১৩ পদের বিপরীতে কর্মরত ৩৩৭ জন; ১৭৬টি পদ খালি। এই বিশাল জনবল-ফাঁক প্রত্যন্ত গ্রামের স্বাস্থ্যসেবাকে কার্যত অকার্যকর করে তুলছে।

ওষুধের অভাব: আরেকটি বাধা

সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দরিদ্র মানুষের জন্য বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ার কথা। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক রোগীকে বাইরের বাজার থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। যাদের আয়ের সীমাবদ্ধতা আছে, তাদের জন্য এটি প্রায় অসম্ভব। ফলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি আর ওষুধের অভাব—দুইটি সমস্যা মিলিত হয়ে গ্রামের মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।

স্থানীয় মানুষের কণ্ঠ

ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও সেখানে এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। চিকিৎসার জন্য যেতে হয় জেলা সদরে। দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে সদর হাসপাতালে যাওয়া আমার জন্য কষ্টকর।

— সুমাইয়া আক্তার, সোবহানপুর, বাগাদী ইউনিয়ন

বালিশা ইউনিয়ন পরিষদের পাশে অবস্থিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের অবস্থাও প্রায় একই রকম। স্থানীয় শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কেন্দ্রটির ভূতুড়ে অবস্থা। চিকিৎসক নেই, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীও নেই। একসময় অধিকাংশ মানুষ এখানে এসে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিতেন। এখন মাত্র একজন স্বাস্থ্য সহকারী বসেন। বালিশা ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, চিকিৎসক না থাকলে কেন্দ্র থাকা না-থাকা একই কথা। দ্রুত এসব পদ পূরণ করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সচল করার দাবি তাঁদের।

কর্তৃপক্ষের অবস্থান

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন স্বীকার করেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেসব চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে রাখা হয়েছে। এ কারণে তাঁরা ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে যথাযথ সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হবে।

চাঁদপুর পরিবারপরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল জানান, জনবলসংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আছে। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য সরকার ইতিমধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করেছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হলে সংকট অনেকটাই কমে যাবে।

ওষুধ সংকটের বিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন, বর্তমানে কিছুটা সংকট আছে। তবে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তখন ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা ও ওষুধ পাবেন।

প্রত্যন্তের জন্য কেন এটি জরুরি

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্য

Frequently Asked Questions

What is ৯২ স ব স থ যক ন?

৯২ স ব স থ যক ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ৯২ স ব স থ যক ন matter?

৯২ স ব স থ যক ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *