গান গাওয়া থেকে সংগীত পরিচালনা: উত্তমকুমারের অসমাপ্ত সংগীত-পথ
Patrikajournal.com – গ ন গ ওয় থ ক স – বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তমকুমারের নাম যখনই উঠে, মনে আসে ক্যামেরার সামনে সেই অদ্বিতীয় মুখ। কিন্তু তাঁর শৈশবের আসর থেকে শাস্ত্রীয় সংগীতের দরজা পর্যন্ত একটা পথ ছিল, যা কখনোই সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়নি। গান গাওয়া থেকে সংগীত পরিচালনার দিকে তাঁর ভ্রমণ ছিল অসমাপ্ত — দুটি চলচ্চিত্রের সুর-পরিচালনা ছাড়া আর কিছুই নয়, তবুও সেই দুই মুহূর্ত বাংলা সিনেমার এক অনন্য অধ্যায়।
গিরিশ মুখার্জি রোডের আসর ও শাস্ত্রীয় ভিত্তি
উত্তমকুমারের সংগীত-প্রবৃত্তির উৎস ছিল তাঁর পরিবারের গিরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে নিয়মিত বসত গানের আসর। থিয়েটার-মঞ্চে অভিনয় করতেন, তবু সংগীতের টান থেমে থাকত না। ম্যাট্রিক পরীক্ষার পর তিনি নিদানবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতের শিক্ষা শুরু করেন। নিদানবাবু তখন কণ্ঠশিল্পী ও সংগীতশিক্ষক হিসেবে নামডাকে ছিলেন।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল এক বাস্তব উদ্দেশ্যও। উত্তমকুমার তাঁর আত্মজীবনী আমার আমি-তে সেই সময়ের মানসিক অবস্থা বর্ণনা করেছেন:
“সিনেমায় আত্মপ্রকাশের আকাঙ্ক্ষা তখন প্রবল আমার। শুনেছিলাম গান জানলেই নাকি সহজেই সিনেমায় সুযোগ পাওয়া যায়।…আমি তাই গান শেখবার জন্য মরিয়া হয়ে গেলাম। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম গান শিখবই। কিন্তু কে শেখাবে আমাকে? এই ভাবনায় আমি নিদারুণ ব্যাকুল হয়ে পড়েছি। হঠাৎ মনে পড়ল নিদানবাবুর কথা।”
এই শাস্ত্রীয় ভিত্তি পরে তাঁর অভিনয়ে সরাসরি কাজে লাগে। ক্যামেরার সামনে ঠোঁট-মিলানোর সময় গানের ভঙ্গি, মাত্রার অনুভূতি — সবকিছু ছিল নিজের, অন্য কেউ গাইছেন মনে হতো না।
‘নবজন্ম’ থেকে ‘সব্যসাচী’: সংগীত-পরিচালনার দুই মুহূর্ত
১৯৫৬ সালে দেবকী বসু পরিচালিত নবজন্ম মুক্তি পায়। তখন উত্তমকুমার বাংলা চলচ্চিত্রের একচ্ছত্র তারকা; দর্শক ঢেউয়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছিল প্রেক্ষাগৃহে। সেই আবহেই নচিকেতা ঘোষের সুরে সাতটি বৈষ্ণব পদাবলি গান নিজেই গাইলেন উত্তম। গানগুলো দর্শকের কাছে ভালো সাড়া পেল। তবে এই অভিজ্ঞতা তাঁর চলচ্চিত্র-গানের শেষ ছিল। ‘নবজন্ম’-এর পর তিনি আর কখনো কোনো চলচ্চিত্রের জন্য গান রেকর্ড করেননি।
বরং গান গাওয়া থেকে সংগীত পরিচালনার দিকে তাঁর সম্পৃক্ততা অন্য রূপ নেয়। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত কাল তুমি আলেয়া চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালক হিসেবে প্রথমবার আবির্ভূত হন উত্তমকুমার। ছবিতে তিনটি গানের একটি ছিল হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে, বাকি দুটি গাইছিলেন আশা ভোঁসলে। গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করলেও উত্তম তৎকালেই অন্য কোনো চলচ্চিত্রের সুর দিতে যাননি। পরবর্তী সংগীত পরিচালনা আসে আরও এগারো বছর পর।
১৯৭৭ সালে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি সব্যসাচী চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেন তিনি। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় এবং শেষ চলচ্চিত্র-সংগীত পরিচালনা।
ঘরোয়া মঞ্চ ও পরিচালকের চেয়ার
চলচ্চিত্রের গানে আর না গাইলেও উত্তমকুমার বিভিন্ন ঘরোয়া অনুষ্ঠানে গান গাইতে থাকেন। দুস্থ শিল্পীদের অর্থসাহায্যের উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও তাঁর কণ্ঠ শোনা গিয়েছিল। রবীন্দ্রসদনের এক অনুষ্ঠানে নচিকেতা ঘোষের সুরে আরতি মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘এই মোম জোছনার’ গানটি প্রথমবার গাইলেন উত্তমকুমারই। গানটি এতটেন পছন্দ হয়েছিল যে এইচএমভি-ও তা রেকর্ড করে।
উত্তমকুমারের মাত্রাজ্ঞান ছিল প্রখর, যা তাঁকে সংগীত-পরিচালনায় সক্ষম করেছিল। পরিচালক হিসেবে তিনি তিনটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন — শুধু একটি বছর, বনপলাশীর পদাবলী এবং কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী। তিনটিই আলোচিত হয়। তবুও তিনি নিয়মিত পরিচালনার দিকে ঝোঁকেননি। সংগীত ছিল তাঁর শৈশবের প্রেম, শাস্ত্রীয় শিক্ষার অর্জন, দুটি চলচ্চিত্রের সুর — কিন্তু কখনোই তাঁর পরিচয়ের কেন্দ্র নয়। কেন্দ্র ছিল সবসময় ক্যামেরার সামনে সেই মুখ, সেই ভঙ্গি, সেই অভিনয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
উত্তমকুমার কতটি চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন? মোটমোট দুটি। প্রথমটি কাল তুমি আলেয়া, দ্বিতীয় এবং শেষটি ১৯৭৭ সালের সব্যসাচী।
‘নবজন্ম’ ছবির গানগুলো কে সুর করেছিল? নচিকেতা ঘোষ। উত্তমকুমার নিজেই সেই সাতটি বৈষ্ণব পদাবলি গান গাইয়েছিলেন।
উত্তমকুমারের শাস্ত্রীয় সংগীত-শিক্ষক কে ছিলেন? নিদানবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি তখন কণ্ঠশিল্পী ও সংগীতশিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
উত্তমকুমার কি চলচ্চিত্র-পরিচালনাও করেছেন? হ্যা
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is গ ন গ ওয় থ ক স?
গ ন গ ওয় থ ক স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does গ ন গ ওয় থ ক স matter?
গ ন গ ওয় থ ক স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

