Entertainment

ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান দিয়ে বাদ পড়লেন ম্যাকলেমোর

260914-Macklemore-ew-150p-a3c1fa

ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্যের পর এড শিরানের সফর থেকে বাদ ম্যাকলেমোর

Patrikajournal.com – ফ ল স ত ন র পক – যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এড শিরানের চলমান ‘লুপ ট্যুর’-এর বাকি আটটি কনসার্টে আর দেখা যাবে না মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলেমোরকে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী পরিবেশনার সময় ফিলিস্তিনের অধিকার ও গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে বক্তব্য দেওয়ার পর তাঁকে সফরের লাইনআপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ম্যাকলেমোর ওই মঞ্চে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের প্রতি সংহতি জানান। তাঁর বক্তব্যের সময় পর্দায় গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে সৃষ্টি হওয়া ধ্বংসযজ্ঞের ছবিও দেখানো হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে সফরটির আয়োজনে জটিলতা দেখা দেয়।

স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের আপত্তি

কনসার্ট প্রমোটার মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ জানায়, একাধিক স্টেডিয়াম ও ভেন্যুর পক্ষ থেকে বলা হয়, ম্যাকলেমোর লাইনআপে থাকলে তারা অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নাও দিতে পারে। এতে এড শিরানের পুরো সফরই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, সফরের অবশিষ্ট আটটি শোতে ম্যাকলেমোর অংশ নেবেন না। সংগীত সফরের মতো বৃহৎ আয়োজন নির্ভর করে শিল্পী, প্রমোটার, স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ এবং নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নানা ব্যবস্থার ওপর। ফলে কোনো শিল্পীকে কেন্দ্র করে ভেন্যু ব্যবহারে বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব কেবল একটি পরিবেশনাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো সূচিই বদলে যেতে পারে।

বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় ম্যাসাচুসেটসের জিলেট স্টেডিয়ামের মালিক এবং মার্কিন ধনকুবের রবার্ট ক্রাফট ম্যাকলেমোরের প্রবেশের বিরোধিতা করলে। তিনি অন্য স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকেও একই ধরনের অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

মেটলাইফের মঞ্চে বার্তা

৪ সেপ্টেম্বর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে গান গাওয়ার বিরতিতে ম্যাকলেমোর বলেন, বড় পরিসরের এই সফরে যুক্ত হওয়ার পেছনে তাঁর একটি বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল—ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা। গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিশ্বের বহু মানুষ তাঁদের দুর্দশা ভুলে যায়নি।

“এই সফরে যুক্ত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল স্টেডিয়ামের মতো বিশাল পরিসরে দাঁড়িয়ে দুটো শব্দ উচ্চারণ করা—ফ্রি প্যালেস্টাইন। গাজা থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষ যেন জানে, আমরা তাদের ভুলে যাইনি।”

পরদিন, ৫ সেপ্টেম্বরের পরিবেশনাতেও তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। কনসার্টে থাকা ইহুদি দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রের নীতি বা বর্ণবাদের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। তাঁর ভাষ্যে, তিনি ভালোবাসা, শান্তি এবং সকল মানুষের সমান মর্যাদার পক্ষে কথা বলেছেন।

“ইসরায়েল ও বর্ণবাদের সমালোচনা করা মানে ইহুদিদের বিরোধিতা করা নয়। আমার বার্তা ভালোবাসা, শান্তি এবং সব মানুষের সমান মর্যাদার পক্ষে।”

প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ

ম্যাকলেমোরের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে ইসরায়েলি আমেরিকান কাউন্সিল বা আইএসি। সংগঠনটির অভিযোগ, তিনি কনসার্টের মঞ্চকে একতরফা রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য ব্যবহার করেছেন। শিল্পী ও দর্শকের সম্পর্কের জায়গায় রাজনৈতিক বক্তব্য বহু সময়েই বিতর্ক তৈরি করে, বিশেষত যখন কোনো যুদ্ধ, মানবিক সংকট কিংবা পরিচয়ভিত্তিক প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে।

তবে ম্যাকলেমোরের বক্তব্য ছিল, তাঁর অবস্থান কোনো ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। বরং গাজায় বেসামরিক মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নকে সামনে আনাই তাঁর লক্ষ্য। এই অবস্থান প্রকাশের জেরে সফরের মঞ্চ হারালেও তাতে অনুতাপ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

‘আমরা ভুক্তভোগী নই’

চারবারের গ্র্যামিজয়ী এই শিল্পী মনে করেন, এই বিতর্কে তাঁর বা অন্য প্রতিষ্ঠিত সংগীতশিল্পীদের ক্ষতিকে কেন্দ্রবিন্দুতে আনা ঠিক হবে না। তাঁর বক্তব্যে এড শিরান ও পিঙ্কের নামও উঠে আসে। তাঁদের সবারই প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার, আর্থিক নিরাপত্তা এবং পরিবার রয়েছে; তাই তাঁদের অসুবিধাকে গাজার মানুষের বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

“আমি, এড কিংবা পিঙ্ক—আমরা কেউ ভুক্তভোগী নই। আমাদের ক্যারিয়ার, অর্থ, নিরাপত্তা এবং পরিবার আছে। আসল ভুক্তভোগী তো গাজার ফিলিস্তিনিরা, যেখানে ২০ হাজারের বেশি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। ফ্রি প্যালেস্টাইন বলার কারণে যদি আমাকে মঞ্চ হারাতে হয় এবং তাতে যদি আবারও বিশ্ববাসীর নজর ফিলিস্তিনের দিকে ফেরে, তবে আমার ক্যারিয়ারে এটিই হবে সবচেয়ে সফল ট্যুর।”

ম্যাকলেমোরের বাদ পড়ার ঘটনাটি আবারও দেখাল, বড় সংগীত আয়োজন কেবল বিনোদনের ক্ষেত্র নয়; কখনো কখনো তা জনমত, প্রতিবাদ এবং মানবিক সংহতির ভাষাও হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে এটি শিল্পীর মতপ্রকাশ, আয়োজকের বাণিজ্যিক দায় এবং ভেন্যু কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের মধ্যকার টানাপোড়েনও সামনে এনেছে।

এড শিরানের বাকি শোগুলো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চললেও ম্যাকলেমোর আর সফরের অংশ থাকছেন না। কিন্তু তাঁর মঞ্চের বক্তব্য এবং সেই বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি বিতর্ক ফিলিস্তিন প্রসঙ্গকে বিনোদন অঙ্গনের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

Frequently Asked Questions

What is ফ ল স ত ন র পক?

ফ ল স ত ন র পক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ফ ল স ত ন র পক matter?

ফ ল স ত ন র পক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *