চাপে পড়ে ১৩ কোটি নাম ভোটার তালিকায় ফেরাতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ
বাদ পড়া ভোটারদের ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন
Patrikajournal.com – চ প পড় ১৩ ক ট ন - ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পর বিপুলসংখ্যক নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় নতুন করে তৎপর হয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে যেখানে এই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, সেই ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ যাওয়া যোগ্য ভোটারদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কমিশন দীর্ঘদিন ধরেই চাপ ও সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। নতুন উদ্যোগের আওতায় মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের সমন্বয়ে বাদ পড়া ও প্রথমবার ভোটার হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের আবেদন গ্রহণ করা হবে।
২৯ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনা
গত ২৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সচিব সব রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত নির্দেশনা পাঠান। সেখানে বলা হয়, যেসব রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর শেষ হয়েছে, সেসব জায়গায় চলমান হালনাগাদ ব্যবস্থার মধ্যে বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তি এবং নতুন যোগ্য ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি করা।
‘যেসব রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে, সেখানে বাদ পড়ে যাওয়া এবং নতুন/প্রথমবারের মতো যোগ্য ভোটারদের ধারাবাহিক হালনাগাদ প্রক্রিয়ার অধীনে নাম তোলার জন্য মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা (সিইও), জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা (ডিইও) এবং ইআরও-দের মাধ্যমে একটি বিশেষ অভিযান চালাতে হবে।’
পরে বৃহস্পতিবার সব রাজ্যের সিইওদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কমিশন বিষয়টি আবার সামনে আনে। ওই বৈঠকে কর্মকর্তাদের এসআইআর শুরুর আগের তালিকা এবং সংশোধনের পরের তালিকা মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে কারা বাদ পড়েছেন, কেন বাদ গেছেন এবং তাঁদের মধ্যে কেউ অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়েছেন কি না—তা চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে।
বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের নির্দেশ
বৈঠকে উপস্থিত ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার সিইওদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলেন, যাতে স্থানান্তরিত নন, মৃত নন এবং ভুয়া ভোটার নন—এমন কোনো বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না থাকে। এ ধরনের ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বিশেষ করে যেসব ভোটার অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হননি, ভুয়া ভোটার নন বা মারা যাননি, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে হবে এবং তাদের ফরম ৬ পূরণ করিয়ে নিতে হবে।’
এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল এবং তাদের বুথ-স্তরের এজেন্টদের সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। লক্ষ্য হলো, কোনো যোগ্য ব্যক্তি যদি ভুলবশত বাদ পড়ে থাকেন, তবে তাঁকে ফরম–৬ পূরণ করিয়ে আবার ভোটার তালিকায় আনা। সাধারণভাবে ফরম–৬ নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত হলেও এবার বাদ যাওয়া ভোটারদের ক্ষেত্রেও একই পথ ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফরম–৬ নিয়ে বিতর্ক ও পরিবর্তন
জুলাই মাসে ফরম–৬-এ একটি অতিরিক্ত প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছিল। অনলাইনে আবেদনকারীদের জানাতে হতো, সর্বশেষ এসআইআরের পর তাঁরা কিংবা তাঁদের বাবা-মা ভোটার তালিকায় ছিলেন কি না। প্রশ্নটির উত্তর না দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
এই শর্তে বিশেষ সমস্যায় পড়েন ১৮ বছর বয়সী তরুণ ভোটাররা, যাঁদের বাবা-মায়ের নামও তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল। তাঁদের পক্ষে তথ্য গোপন না করে আবেদন করা কার্যত জটিল হয়ে উঠেছিল। সরকারি বিধি সংশোধন ছাড়া ফরমে এমন পরিবর্তন আনা যায় কি না, তা নিয়েও কমিশনের ভেতরে প্রশ্ন দেখা দেয়।
নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী এই পরিবর্তনসহ একাধিক সিদ্ধান্তে লিখিত আপত্তি তুলেছিলেন। সান্ধু আগস্টে ফরম পরিবর্তনকে ‘অননুমোদিত/অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেন। এখন ২৯ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনায় ওই অতিরিক্ত ঘোষণাকে কেবল এসআইআর পর্যায়ের জন্য সীমিত করা হয়েছে। ফলে ২০টি রাজ্যে প্রথমবারের ভোটার এবং বাদ পড়া ব্যক্তিরা আগের মূল আইনগত ফরম ব্যবহার করতে পারবেন।
সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ
ভোটার তালিকা তৈরির সময় ইসিআইনেট সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়েছে এবং বর্তমানে তালিকার তথ্যও এ ব্যবস্থায় সংরক্ষিত আছে। তবে সফটওয়্যারে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ না থাকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। গোয়ায় ৯৭ জন ভোটারের ক্ষেত্রে এমন জটিলতা দেখা দেয়।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া ওই ৯৭ জন পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেন। তদন্ত শেষে ইআরওরা তাঁদের যোগ্য ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও সফটওয়্যারে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। গোয়ার সিইও সাত দিনে আটবার কমিশনকে চিঠি পাঠান এবং আইটি বিভাগের মহাপরিচালক সীমা খান্নাকেও কপি দেন। তবু সমাধান না হওয়ায় তাঁদের নাম বাদ রেখেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
পরে ওই ভোটারদের ফেরাতে ফরম–৬ পদ্ধতিই ব্যবহার করতে হচ্ছে। ঘটনাটি দেখিয়েছে যে, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা কারও যোগ্যতা নিশ্চিত করলেও প্রযুক্তিগত কাঠামোর সীমাবদ্ধতা ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতভেদ
গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে আসা বিভিন্ন নথিতে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনার সান্ধু ও জোশী ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন, যেগুলো তাঁদের অজান্তে কমিশনের নামে নেওয়া হয়েছিল। ফরম–৬-এর পরিবর্তনের পাশাপাশি ইসিআইনেটের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণও তাঁদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ ছিল।
১৪ আগস্ট সান্ধু লিখিতভাবে বলেন, ভোটার তালিকার দায়িত্ব আইন অনুযায়ী ইআরও, ডিইও ও সিইওদের ওপর ন্যস্ত। তাঁর বক্তব্য ছিল, আইটি বিভাগের মহাপরিচালকের সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাধীন আইনি ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
‘ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্ত দায়িত্ব ইআরও, ডিইও এবং সিইও-দের ওপর ন্যস্ত।’
ভোটার তালিকা শুধু প্রশাসনিক নথি নয়; নাগরিকের ভোটাধিকার প্রয়োগের মৌলিক ভিত্তিও এটি। তাই বাদ যাওয়া নামগুলো দ্রুত যাচাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকায় ফেরানো এবং আবেদনপ্রক্রিয়াকে সহজ রাখা নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কমিশনের নতুন বিশেষ অভিযান সেই চাপ কমাতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is চ প পড় ১৩ ক ট ন?চ প পড় ১৩ ক ট ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does চ প পড় ১৩ ক ট ন matter?চ প পড় ১৩ ক ট ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.