Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

দাবানলে বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়া, বিষাক্ত ধোঁয়াশা কমাতে শুষ্ক বরফ ছড়ানোর উদ্যোগ

Published October 15, 2026 · Updated October 15, 2026 · By Charles Jones - patrikajournal.com

Foto : Charles Jones - patrikajournal.com

Patrikajournal.com – দ ব নল ব পর যস ত - ইন্দোনেশিয়ায় বন ও পিটভূমিতে সৃষ্ট দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধোঁয়াশা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী দেশগুলোও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার নতুন এক পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করতে যাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর আগে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটাতে মেঘে রাসায়নিক ছড়ানো, হেলিকপ্টার থেকে পানি ছিটানো এবং আগুন নেভাতে সেনাসদস্য মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয়মন্ত্রী জানিয়েছেন, দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের আকাশে উড়োজাহাজ থেকে শুষ্ক বরফের ছোট ছোট টুকরা ছড়ানো হবে। ধোঁয়াশায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি এই প্রদেশ। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারার প্রতিবেদনে মন্ত্রী দুডুং আবদুররচমানের বরাতে জানানো হয়, দক্ষিণ সুমাত্রার ধোঁয়াশা মোকাবিলায় সহায়তা করতে প্রেসিডেন্টের সরাসরি নির্দেশে শুষ্ক বরফ ছড়িয়ে দেওয়ার এই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমে আমরা এর ফলাফল পর্যবেক্ষণ করব। পদ্ধতিটি কার্যকর প্রমাণিত হলে অন্য অঞ্চলগুলোতেও এটি প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।’ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে প্রায় ৯ লাখ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মৌসুম। এ বছর ‘গডজিলা’ নামে পরিচিত শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে। পাশাপাশি পাম তেলের মতো ফসল চাষের জন্য জমি পরিষ্কার করতে গাছপালা কেটে পুড়িয়ে ফেলার প্রচলিত পদ্ধতিও দাবানলের বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। বিপজ্জনক বায়ুদূষণ কমাতে ইন্দোনেশিয়া ও প্রতিবেশী মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের আবহাওয়া পরিবর্তন পদ্ধতি প্রয়োগ করছে। এর মধ্যে রয়েছে মেঘে রাসায়নিক ছড়িয়ে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানো। এ পদ্ধতিতে সিলভার আয়োডাইডের মতো যৌগ মেঘে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং বরফের স্ফটিক তৈরিতে সহায়তা করে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই এ ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে বৃহস্পতিবারের শুষ্ক বরফ ছড়িয়ে দেওয়ার পরীক্ষাটি এ পদ্ধতি থেকে আলাদা। মেঘের সঙ্গে বিক্রিয়া ঘটিয়ে বৃষ্টি নামানো এর উদ্দেশ্য নয়। বরং শুষ্ক বরফ দিয়ে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে থাকা ধোঁয়াশাকে ‘ভেঙে’ ওপরের দিকে উঠতে সহায়তা করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন আবদুররচমান। তিনি বলেন, ‘এই পরীক্ষা সফল হলে ধোঁয়াশার প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত মধ্য কালিমান্তান ও এর আশপাশের অন্যান্য এলাকাতেও আমরা এ পদ্ধতি প্রয়োগ করব।’ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো দাবানল নেভাতে এবং আগুনের কেন্দ্রস্থল থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাব কমাতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ধোঁয়াশায় বিপর্যস্ত আরেক অঞ্চল মধ্য কালিমান্তানে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার নতুন করে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এদিকে মাটিতে থাকা দমকলকর্মীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবানল নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ কয়েক ডজন হেলিকপ্টারও মোতায়েন করেছে। তবে ধোঁয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় এসব কার্যক্রম মাঝেমধ্যে ব্যাহত হচ্ছে। বিষাক্ত ধোঁয়াশায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছেন কালিমান্তান ও দক্ষিণ সুমাত্রার বাসিন্দারা। এসব অঞ্চলের অনেক শহরের আকাশ ও বাতাস ধুলোমাখা অ্যাম্বার বা হলদে-বাদামি রং ধারণ করেছে। অন্যদিকে দাবানলের ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়াতেও পৌঁছেছে। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অনেক এলাকায় বায়ুমান সূচক অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। মালয়েশিয়ার যেসব এলাকায় ধোঁয়াশা বেশি, সেসব স্থানের মধ্যে রয়েছে রাজধানী কুয়ালালামপুর এবং সিঙ্গাপুরের কাছের শহর জোহর বাহরু। এসব এলাকায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষও নিজস্ব উদ্যোগে মেঘে রাসায়নিক ছড়িয়ে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর কার্যক্রম চালিয়েছে। গত মাসে ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়ার সংস্থাগুলোকে দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর জন্য নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেয়। দাবানল নিয়ে জনসাধারণের ক্ষোভের বড় অংশের লক্ষ্য কৃষি কোম্পানিগুলো। বড় বড় জমি দ্রুত ও কম খরচে পরিষ্কার করতে এসব প্রতিষ্ঠান গাছপালা ও অন্যান্য উদ্ভিদ পুড়িয়ে থাকে। দাবানলের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ ২০০ জনের বেশি ব্যক্তি ও নয়টি কোম্পানিকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is দ ব নল ব পর যস ত?

দ ব নল ব পর যস ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does দ ব নল ব পর যস ত matter?

দ ব নল ব পর যস ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.