দুই গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলা, কিয়েভকে ‘বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে’ রাশিয়া
দিনিপ্রোর দুই তীরের যোগাযোগে চাপ, কিয়েভে নতুন উদ্বেগ
Patrikajournal.com – দ ই গ র ত বপ র - ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দিনিপ্রো নদীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ দুটি সেতু লক্ষ্য করে রুশ হামলার পর শহরটির পূর্ব ও পশ্চিম অংশের যোগাযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, সেতুগুলোকে অকার্যকর করে রাজধানীর স্বাভাবিক চলাচল ও জরুরি পরিষেবা ব্যাহত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো জানিয়েছেন, শনিবার সকালে পিভনিচনি বা নর্দার্ন সেতুতে হামলা হয়। এতে অন্তত দুজন আহত হন। তাঁর ভাষায়, এই আক্রমণের লক্ষ্য কিয়েভকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা। এর আগে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পিভদেনি বা সাউদার্ন সেতুতে পাঁচ দফা হামলা চালানো হয়েছিল।
দিনিপ্রো নদী কিয়েভকে দুই অংশে ভাগ করেছে। শহরের পূর্বাঞ্চলে বড় আবাসিক এলাকা থাকলেও পশ্চিম অংশে বহু মানুষের কর্মস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো রয়েছে। ফলে নদীর ওপরের সড়ক, রেল ও ট্রলিবাস সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি চিকিৎসা, সরবরাহ এবং জরুরি সেবাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সেতুতে আঘাত ও বিকল্প প্রস্তুতি
হামলার প্রভাবে দিনিপ্রো পারাপারের সড়ক, রেলপথ ও ট্রলিবাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে রাজধানীর দুই প্রান্তের যোগাযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। সেতুগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হলে কীভাবে সংযোগ বজায় রাখা যাবে, তা নিয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। সম্ভাব্য বিকল্পের মধ্যে রয়েছে ফেরি চালু করা এবং ভাসমান পন্টুন সেতু স্থাপন করা।
রাশিয়ার বক্তব্য হলো, ইউক্রেনীয় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হওয়ার কারণেই দুটি সেতুতে হামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে কিয়েভের নেতৃত্ব বলছে, এই হামলার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এবং নগরজীবন অচল করার চাপ বাড়ছে।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মনে করেন, সম্মুখভাগে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না পাওয়ার পর রাশিয়া জনবহুল এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মানুষের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তি দুর্বল করাই এই তৎপরতার অন্যতম উদ্দেশ্য।
“রুশরা আমাদের দখল করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এখন তারা ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে এবং নির্বিচারে মানুষ হত্যা করছে।”
জেলেনস্কি আরও বলেছেন, হামলার লক্ষ্য শুধু সেতু নয়; যোগাযোগ ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোও ঝুঁকিতে রয়েছে।
“তারা আমাদের সেতু ধ্বংস করতে চায়...আমাদের ডেটা সেন্টার, ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, হাসপাতাল, কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়—সবকিছু ধ্বংস করতে চায়। তারা চায় মানুষ যেন নিজেদের শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়।”
জেটচালিত ড্রোন মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জ
কিয়েভে সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে জেট ইঞ্জিনচালিত ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এসব ড্রোন সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৩৭৫ মাইল গতিতে উড়তে পারে। এত দ্রুতগতির লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে প্রচলিত প্রপেলারচালিত প্রতিরোধী ড্রোন কার্যকর নয় বলে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জেলেনস্কির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে কিয়েভ জেটচালিত রুশ ড্রোনের প্রায় ৫৭ শতাংশ ভূপাতিত করতে পারছে। তুলনায় পুরোনো ধরনের ড্রোন প্রতিহত করার হার প্রায় ৮৫ শতাংশ। এই ব্যবধান থেকেই বোঝা যায়, নতুন প্রযুক্তির ড্রোন ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য কতটা কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করছে।
এই হুমকি মোকাবিলায় পাঁচ ধরনের পরীক্ষামূলক অস্ত্রের নমুনা পরীক্ষা করছে ইউক্রেন। যুদ্ধ শুরুর চার বছরের বেশি সময় পর দ্রুতগতির এসব ড্রোন ব্যবহারের বিস্তার রাজধানীর বাসিন্দাদের জন্য বিমান হামলার ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সতর্কতা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বহাল থাকছে।
দীর্ঘ সতর্কতা, রাতের হামলার আশঙ্কা এবং চলাচলের অনিশ্চয়তা কিয়েভবাসীর দৈনন্দিন জীবনে চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতির তীব্রতা বোঝাতে অনেকে রসিকতা করে খারকিভে ছুটি কাটাতে যাওয়ার কথা বলছেন—যদিও শহরটি সম্মুখযুদ্ধের রেখা থেকে ২০ মাইলেরও কম দূরে।
শীতের আগে জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে শঙ্কা
সেতুতে হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় আঘাত জোরদারের প্রস্তুতি নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে। শীতের আগে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঘরবাড়ি গরম রাখা, পানি সরবরাহ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও হাসপাতালের কার্যক্রমে বড় চাপ পড়তে পারে। রাজধানীর মতো বৃহৎ শহরে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা পরস্পর নির্ভরশীল হওয়ায় একটি খাতে বিঘ্ন অন্য ক্ষেত্রেও দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
কিয়েভের সেতুগুলো তাই শুধু যানবাহন পারাপারের অবকাঠামো নয়; এগুলো শহরের কর্মজীবন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দুই তীরের মানুষকে যুক্ত রাখার গুরুত্বপূর্ণ পথ। হামলার ধারাবাহিকতা নগর নিরাপত্তা ও বেসামরিক সুরক্ষার প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে।
শান্তি আলোচনায় তেল চুক্তির প্রসঙ্গ
যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের শান্তি আলোচনা পুনরায় চালুর উদ্যোগেও যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই প্রধান দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ৬ সেপ্টেম্বর প্রথম সরকারি সফরে কিয়েভে যান।
আলোচনার পরিধিতে কয়েক শ কোটি ডলারের একটি তেল চুক্তির প্রসঙ্গও এসেছে। সম্ভাব্য এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাশিয়ার বড় একটি জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন তেলক্ষেত্র, শোধনাগার এবং পেট্রলপাম্প কেনার চিন্তা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, এমন লেনদেন ক্রেমলিনের সঙ্গে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে; পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সম্পদকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে আনা এবং জ্বালানির দাম কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
৫ সেপ্টেম্বর উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই চুক্তির প্রস্তাব দেন বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে রুশ নাগরিকদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসার সম্ভাবনার বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা থাকতে পারে।
মার্কিন ধনকুবের টড বোহলি সম্ভাব্য প্রধান ক্রেতাদের একজন হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের সমর্থক এবং আগে চেলসি ফুটবল ক্লাবের মালিক ছিলেন। কাতারভিত্তিক একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীরও বড় অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন মুতাজ আল-খাইয়াত ও তাঁর ভাই রামেজ আল-খাইয়াত; গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানেও তাঁদের দেখা গিয়েছিল।
তবে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা কতটা এগোবে, তা অনিশ্চিত। কিয়েভের সেতু ও অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়তে থাকায় সামরিক পরিস্থিতির পাশাপাশি রাজধানীর বেসামরিক জীবন রক্ষা করাও ইউক্রেনের জন্য ক্রমেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is দ ই গ র ত বপ র?দ ই গ র ত বপ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does দ ই গ র ত বপ র matter?দ ই গ র ত বপ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.