ফকল্যান্ড ইস্যুতে ব্রিটেনের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব ২ ইসরায়েলি মন্ত্রীর, রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের আহ্বান
ফকল্যান্ড ইস্যুকে হাতিয়ার করে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পাল্টা নিষেধাজ্ঞার দাবি ইসরা৳েলি দুই মন্ত্রীর
Patrikajournal.com – ফকল য ন ড ইস য ত - অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরা৳েলি বসতিগুলোর ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে লন্ডন। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরা৳েলের দুই সিনিয়র মন্ত্রী — নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ — ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলেছেন। তাঁদের যুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের অবস্থান। মঙ্গলবার বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার কথা রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে, আর ঠিক সেই মুহূর্তেই ইসরা৳েলি মন্ত্রণালয়গুলো দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুকে কূটনৈতিক লড়াইয়ের মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্মতরিচের তীব্র বক্তব্য ও রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের আহ্বান
অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে ইসরা৳েল থেকে বহিষ্কারের সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে ব্রিটেনকে একটি উগ্র ইসলাম দ্বারা দখল হয়ে যাওয়া দেশ হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে বাঁচতে ইহুদি ও ইসরা৳েল রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করছে। স্মতরিচের শব্দে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের সমাপ্তির কথাও উল্লেখ আছে।
আমরা কোনো ইহুদিবিদ্বেষী সরকারের পদদলিত হওয়ার মতো পাপোষ হতে থাকব না। এমন একটি দেশে, যা উগ্র ইসলাম দ্বারা দখল হয়ে গেছে এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ইহুদি ও ইসরা৳েল রাষ্ট্রকে আক্রমণ করছে। ইসরা৳েল ভূখণ্ডে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের সমাপ্তি ঘটেছে।
বেন-গভিরের স্প্যানিশ পোস্ট ও নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান
নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্প্যানিশ ভাষায় একটি পোস্ট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর ব্রিটেনের 'দখলদারিত্ব' স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষা তীব্র ও সরাসরি — আর্জেন্টিনার ভূখণ্ডকে ব্রিটিশরা সহিংসভাবে চুরি করে রেখেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সময় এসেছে ইসরা৳েল রাষ্ট্রের প্রকাশ্যে স্বীকার করার যে মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আর্জেন্টাইন নাম) দখল করা আর্জেন্টিনার ভূখণ্ড। ব্রিটিশরা আর্জেন্টিনার জনগণের কাছ থেকে এই ভূখণ্ড সহিংসভাবে চুরি করে রেখেছে।
বেন-গভিরের পোস্টে তেল উত্তোলন ইস্যুও রয়েছে। তিনি লিখেছেন, ব্রিটিশরা শুধু ভূখণ্ড দখলেই সন্তুষ্ট নয়; তারা সেখানে তেল উত্তোলনের কাজও চালাচ্ছে এবং আর্জেন্টিনার জনগণের কাছ থেকে সেই অর্থ চুরি করছে। শেষে তিনি নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন — মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দিতে এবং দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকা পর্যন্ত গ্রেট ব্রিটেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ: দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব সংঘাত
দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্য উভয়েই সার্বভৌমত্বের দাবি করে আসছে দশক ধরে। দ্বীপগুলোর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ বাসিন্দার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভি৳ের মিলেই আর্জেন্টিনার জাতীয় সার্বভৌমত্ব 'লঙ্ঘিত' হয়েছে বলে দাবি করেছেন এবং তাঁর দেশ 'যে-ই বিরক্ত হোক না কেন, দাঁতে দাঁত চেপে' নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ফকল্যান্ডের আশপাশে তেল উত্তোলনের চেষ্টা করা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দিয়েছেন মিলেই। তাঁর ভাষায়, 'পরিবর্তনের হাওয়া' ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে বইছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ও কূটনৈতিক জটিলতা
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালালে তিনি ব্রিটেনকে সমর্থন নাও করতে পারেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গতকাল সোমবার বিকেলে ট্রাম্পকে ইসরা৳েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থানের ঘোর বিরোধিতা করছে বলে জানা গেছে। ফলে ব্রিটেন ও ইসরা৳েলের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াবাড়ির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্রিটেন-ইসরা৳েল সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এখনো ইসরা৳েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। ইসরা৳েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদি৳ন সা'আর গত সপ্তাহে সতর্ক করে বলেছিলেন, ব্রিটেন ইসরা৳েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ইসরা৳েলও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। বেন-গভির ও স্মতরিচের মন্তব্যগুলো এই হুমকির বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে পড়া হচ্ছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ফকল্যান্ড ইস্যুকে কূটনৈতিক লড়াইয়ের মাঠে নামানোর এই চেষ্টা মূলত ব্রিটেনের ফিলিস্তিনি বসতি-নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্তের প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে যে কূটনৈতিক ফাঁক তৈরি হয়েছে, তা এখন আরও গভীর হওয়ার পথে — বিশেষ করে যখন ওয়াশিংটন এই সমীকরণ
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ফকল য ন ড ইস য ত?ফকল য ন ড ইস য ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ফকল য ন ড ইস য ত matter?ফকল য ন ড ইস য ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.