Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বিদেশি কূটনীতিকদের কিয়েভ ছাড়তে বলল রাশিয়া, ব্যাপক হামলার পূর্বাভাস

Published October 4, 2026 · Updated October 4, 2026 · By Barbara Hernandez - patrikajournal.com

Foto : Barbara Hernandez - patrikajournal.com

কিয়েভে হামলার হুমকির মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের সতর্ক করল মস্কো

Patrikajournal.com – ব দ শ ক টন ত কদ - ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে থাকা এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার মধ্যেই জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ ম্যার্ৎজ শহরটিতে পৌঁছেছেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি সংহতি জানাতে তাঁর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন রাশিয়া কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

মস্কো বিদেশি নাগরিকদের, বিশেষত কূটনৈতিক মিশনে কর্মরতদের, ইউক্রেনে না থাকা এবং সেখানে ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বানও জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সতর্কতা অগ্রাহ্য করে কেউ ক্ষতির মুখে পড়লে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।

কূটনীতিকদের জন্য রাশিয়ার নতুন সতর্কবার্তা

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রুশ বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবে ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা অব্যাহত থাকবে। ওই বিবৃতিতে কিয়েভের পাশাপাশি অন্য ইউক্রেনীয় শহরগুলোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

“আমাদের দেশের বেসামরিক জনগণ ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাবে রুশ সশস্ত্র বাহিনী কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ও ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিক ও কূটনীতিকদের ইউক্রেনে অবস্থান কিংবা সফর নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিত। এই আহ্বান পরিস্থিতির নিরাপত্তাঝুঁকির মাত্রা এবং কিয়েভে কর্মরত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের জন্য অনিশ্চয়তা আরও স্পষ্ট করেছে।

“রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারও বিদেশি নাগরিকদের, বিশেষ করে কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের, ইউক্রেনে অবস্থান না করার অথবা দেশটিতে ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্ক করছে।”

রাজধানীর অবকাঠামোয় চাপ

সাম্প্রতিক সময়ে কিয়েভের অবকাঠামো ঘিরে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে রাশিয়া। শনিবারের হামলায় দিনিপ্রো নদীর ওপরের একটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোববার কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো জানান, নর্দার্ন ব্রিজের সড়ক অংশে ক্ষতি হয়েছে। একই হামলায় কাছাকাছি এলাকার গরম পানি সরবরাহব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রায় ৩০ লাখ মানুষের এই নগরীতে সেতু, জ্বালানি ও তাপ সরবরাহব্যবস্থার মতো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে দৈনন্দিন জীবন দ্রুত কঠিন হয়ে ওঠে। তীব্র শীতের সময় ঘনিয়ে আসায় তাপ ও বিদ্যুৎ–সম্পর্কিত পরিষেবা সচল রাখা ইউক্রেনের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে মানুষকে আশ্রয় নিতে হয় এবং কর্মস্থল, শিক্ষা ও যাতায়াতও ব্যাহত হয়।

রোববার সকালেই রাজধানীতে চার দফা বিমান হামলার সতর্কতা শোনা যায়। শহরের বিভিন্ন অংশে বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার আওয়াজও পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতেই ম্যার্ৎজের সফর কিয়েভে জার্মানির সমর্থনের একটি প্রকাশ্য বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জার্মানির সহায়তা ও ড্রোন উৎপাদন পরিকল্পনা

জার্মান সরকারের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভ সফরে ম্যার্ৎজ ইউক্রেনের জন্য নতুন সামরিক ও জ্বালানি সহায়তার ঘোষণা দেবেন। প্রস্তাবিত প্যাকেজে সামরিক খাতে ১০০ কোটি ইউরো এবং জ্বালানি অবকাঠামো মেরামতে ৩৫ কোটি ইউরো অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। ডলারে এই অর্থের পরিমাণ যথাক্রমে প্রায় ১১৩ কোটি ও ৩৫ কোটি ডলার।

দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ড্রোন যৌথভাবে উৎপাদন নিয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কথাও রয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার বাড়তে থাকায় এই সহযোগিতা শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার বিষয় নয়; এটি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার সঙ্গেও যুক্ত।

“আগামী কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনের সব ধরনের সহায়তা প্রয়োজন। এ কারণেই আজ আমি কিয়েভে এসেছি।”

ম্যার্ৎজ বলেছেন, রুশ হামলায় শহর, আবাসিক ভবন ও তাপ সরবরাহকেন্দ্র আক্রান্ত হচ্ছে। তাঁর সতর্কতা, রাশিয়াকে থামানো না গেলে দেশটির যুদ্ধযন্ত্র একসময় ইউরোপের অন্য দিকেও মুখ ঘোরাতে পারে।

“আজ আমি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে বলব, ‘আপনারা আমাদের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে পারেন।’”

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপট

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ সপ্তাহে বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের হামলার মূল্য কিয়েভকে দিতে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দিতে হবে। তাঁর বক্তব্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থাপনায় ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানোর ইঙ্গিত রয়েছে।

যুদ্ধের বিস্তৃত পরিসরে শুধু রাজধানী নয়, কৃষ্ণসাগরও গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের শস্যবাহী জাহাজে হামলা বাড়িয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

দুই পক্ষই বেসামরিক মানুষ এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু কিয়েভে সেতু ও গরম পানির সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা দেখাচ্ছে, যুদ্ধের প্রভাব সামরিক সীমারেখা ছাড়িয়ে নগরবাসীর মৌলিক পরিষেবাতেও পড়ছে। বিদেশি কূটনীতিকদের প্রতি রাশিয়ার সর্বশেষ সতর্কতা এবং জার্মান চ্যান্সেলরের ঝুঁকিপূর্ণ সফর—দুই ঘটনাই ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে আন্তর্জাতিক চাপ ও অনিশ্চয়তার নতুন মাত্রা তুলে ধরেছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব দ শ ক টন ত কদ?

ব দ শ ক টন ত কদ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব দ শ ক টন ত কদ matter?

ব দ শ ক টন ত কদ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.