Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ভারতে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ: ৭ শতাধিক আটক, বন্ধ মেট্রো-ইন্টারনেট

Published October 2, 2026 · Updated October 2, 2026 · By Mary Davis - patrikajournal.com

Foto : Mary Davis - patrikajournal.com

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে উত্তেজনা, আটক সাত শতাধিক

Patrikajournal.com – ভ রত স ইস র পদত য - ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা এতে অংশ নেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হতে বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পরে সাত শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আটক হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আম আদমি পার্টির সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা ও অতিশী মারলেনা। ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার জাতীয় সভাপতি বিনোদ জাখড় এবং একাধিক ছাত্রসংগঠনের কর্মীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের শুরুতে আটক ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ১৫০ বলা হলেও পরে পুলিশ সূত্রে সংখ্যাটি প্রায় ৭০০ বলে জানানো হয়।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অভিযোগ

আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এ কারণেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চেয়ে তাঁরা রাজধানীর নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করেন।

বিক্ষোভে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়াসহ নানা ছাত্রসংগঠনের উপস্থিতি ছিল। রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনটিকে ব্যাপক আকার দেয়। ভোটাধিকার ও নির্বাচনী তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রক্ষার কথাও তাঁরা তুলে ধরেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার প্রায় ৭০০ কর্মী যন্তর মন্তরের উদ্দেশে এগোচ্ছিলেন। অশোকা রোডের গোলচত্বরে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে বহু কর্মীকে আটক করা হয়। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকেও ছাত্র ও রাজনৈতিক দলের কর্মীদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

অনুমতি নিয়ে বিরোধ

সৌরভ ভরদ্বাজ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, পুলিশ তাঁদের জানিয়েছে যে বিক্ষোভের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারিভাবে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত যন্তর মন্তরে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ করতে অনুমতির প্রয়োজন কেন। তাঁর ভাষ্য, আম আদমি পার্টি প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছিল।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরও আমাকে এবং সঞ্জীব ঝাকে আটক করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় ভরদ্বাজ দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেসব মেট্রো স্টেশন চালু আছে, সেগুলোর মধ্যে নিকটবর্তী কোনো স্টেশনে নেমে সম্ভব হলে হেঁটে যন্তর মন্তরের দিকে যেতে।

বিক্ষোভকারীদের একটি অংশকে ফিরোজ শাহ রোডে ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করতে দেখা যায়। নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিভিন্ন পথে বাধা তৈরি করে। এসব পদক্ষেপের ফলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীদের ওপরও প্রভাব পড়ে।

মেট্রো স্টেশন ও ইন্টারনেট পরিষেবায় প্রভাব

পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি মেট্রো ১২টি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। বন্ধ হওয়া স্টেশনগুলোর মধ্যে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও যন্তর মন্তর রয়েছে। রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং অন্য যাত্রীদের বিকল্প পথ খুঁজতে হয়েছে।

যন্তর মন্তর এবং আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও স্থগিত করা হয়। বিক্ষোভস্থলের যোগাযোগব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় আন্দোলনে অংশ নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের তথ্য আদান-প্রদানে অসুবিধা তৈরি হয়। একই সঙ্গে এলাকাবাসী ও পথচারীদের দৈনন্দিন ডিজিটাল সেবার ব্যবহারেও প্রভাব পড়ে।

ছাত্রনেতাদের অভিযোগ

স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক আইশে ঘোষ জানান, তাঁর সংগঠন ও অন্য কয়েকটি সংগঠনের বহু সদস্য আটক হয়েছেন। দিল্লি পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আন্দোলন থামবে না বলে মন্তব্য করেন।

দিল্লি পুলিশ রাজধানীতে অপরাধ বন্ধ করতে পারছে না, কিন্তু জ্ঞানেশ কুমারের মতো কাউকে রক্ষা করার বিষয় এলে তারা রাস্তায় নেমে পড়ে।

এটি গণতন্ত্র নয়। পুলিশ যদি মনে করে আমাদের আটক করে তারা আন্দোলন থামিয়ে দিতে পারবে, তাহলে আমরা তাদের জানিয়ে দিতে চাই, এটি কেবল শুরু।

অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মীদের অভিযোগ, আটক করার সময় পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে এবং নারী বিক্ষোভকারীরাও এর শিকার হয়েছেন। যন্তর মন্তরের কাছে আটক হওয়ার আগে সংগঠনটির এক সদস্য জোর দিয়ে বলেন, দমনমূলক পদক্ষেপে তাঁদের দাবি বদলাবে না।

আপনারা যতই লাঠিচার্জ করুন বা আমাদের যতজনকেই জেলে পাঠান না কেন, জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতেই হবে।

সংগঠনটির বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে জনসাধারণের প্রশ্ন তোলা ঠেকাতেই পুলিশ এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, এনএসইউআইয়ের বিনোদ জাখড়কে সংগঠনের কার্যালয় থেকে যন্তর মন্তরমুখী পদযাত্রার সময় আটক করা হয়। তাঁর সঙ্গে সংগঠনটির আরও কয়েকজন কর্মীকেও নেওয়া হয়।

এই বিক্ষোভ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সংশোধনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে রাজনৈতিক বিরোধের তীব্রতাই সামনে এনেছে। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়ার প্রশ্ন সরাসরি নাগরিকের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন। দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ব্যাপক আটক, মেট্রো বন্ধ এবং ইন্টারনেট স্থগিতের ঘটনা তাই কেবল একটি বিক্ষোভের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ, জনপরিসরের ব্যবহার ও নির্বাচনী আস্থার প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ভ রত স ইস র পদত য?

ভ রত স ইস র পদত য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ভ রত স ইস র পদত য matter?

ভ রত স ইস র পদত য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.