ভারতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বেড়েছে
Patrikajournal.com – ভ রত ২০২৫ স ল ৯৮ শত – ভারতে ২০২৫ সালে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে নথিভুক্ত বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১৮। এর মধ্যে ১ হাজার ২৮৯টি, অর্থাৎ প্রায় ৯৮ শতাংশ ঘটনাই মুসলিমদের কেন্দ্র করে। মুসলিম ও খ্রিস্টান—দুই সম্প্রদায়কেই একসঙ্গে লক্ষ্য করা হয়েছে এমন বক্তব্যের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
ইন্ডিয়া হেট ল্যাবের সর্বশেষ মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দেশের ২১টি রাজ্য, একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং জাতীয় রাজধানী অঞ্চল দিল্লি থেকে এসব ঘটনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গড়ে দিনে চারটি করে এমন ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় মোট সংখ্যা ১৩ শতাংশ বেশি, আর ২০২৩ সালে নথিভুক্ত ৬৬৮ ঘটনার সঙ্গে তুলনা করলে বৃদ্ধি প্রায় ৯৭ শতাংশ।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে বক্তব্যের বড় অংশ
মুসলিমদের লক্ষ্য করা ১ হাজার ২৮৯টি ঘটনার মধ্যে ১ হাজার ১৫৬টিতে শুধু মুসলিমদের বিরুদ্ধে বক্তব্য ছিল। বাকি ১৩৩টিতে মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিস্টানদেরও নিশানা করা হয়। ২০২৪ সালে মুসলিমবিরোধী হিসেবে নথিভুক্ত বক্তব্যের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৪৭; এক বছরের ব্যবধানে তা প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে।
খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে ২০২৫ সালে ১৬২টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যা মোট ঘটনার প্রায় ১২ শতাংশ। এর মধ্যে ২৯টি ছিল সরাসরি খ্রিস্টানবিরোধী এবং ১৩৩টিতে মুসলিমদের সঙ্গে খ্রিস্টানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগের বছর খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ১১৫টি বক্তব্য নথিভুক্ত হয়েছিল; ফলে এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি প্রায় ৪১ শতাংশ।
ইন্ডিয়া হেট ল্যাব ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক অলাভজনক ও নির্দলীয় থিংকট্যাংক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেটের একটি প্রকল্প। প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন ও সরাসরি বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিয়ে ছড়ানো বিদ্বেষ, ভুল তথ্য এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নথিভুক্ত ও বিশ্লেষণ করে থাকে।
উত্তর প্রদেশে সর্বাধিক ঘটনা, সহিংস আহ্বানে মহারাষ্ট্র এগিয়ে
রাজ্যভিত্তিক হিসাবে উত্তর প্রদেশে সবচেয়ে বেশি—২৬৬টি—বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এরপর মহারাষ্ট্রে ১৯৩টি, মধ্যপ্রদেশে ১৭২টি, উত্তরাখণ্ডে ১৫৫টি এবং দিল্লিতে ৭৬টি ঘটনা পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত ২৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১৬টিতে বছরের অধিকাংশ সময়ে বিজেপি এককভাবে অথবা জোটসঙ্গী হিসেবে ক্ষমতায় ছিল। এসব এলাকায় ঘটনার সংখ্যা ১ হাজার ১৬৪, যা মোট নথিভুক্ত ঘটনার ৮৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে একই ধরনের এলাকায় ৯৩১টি ঘটনা ছিল; ফলে বৃদ্ধি ২৫ শতাংশ।
অন্যদিকে বিরোধী দল পরিচালিত সাতটি রাজ্যে ২০২৫ সালে ১৫৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালে সেখানে সংখ্যা ছিল ২৩৪। অর্থাৎ ওই রাজ্যগুলোতে এক বছরে এমন বক্তব্যের ঘটনা ৩৪ শতাংশ কমেছে।
সহিংসতার সরাসরি ডাক ছিল ৩০৮টি বক্তব্যে, যা মোট ঘটনার ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে ১৩৬টি ক্ষেত্রে সরাসরি অস্ত্র হাতে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মহারাষ্ট্রে ৭৮টি বক্তব্যকে বিশেষভাবে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে; ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে এমন ঘটনা ছিল ৬৪টি।
মহারাষ্ট্রে নথিভুক্ত ১৯৩টি বক্তব্যের প্রায় ৪০ শতাংশেই সরাসরি সহিংসতার আহ্বান ছিল। কোনো রাজ্যে এ হার সবচেয়ে বেশি। সহিংসতার আহ্বান জানানো শীর্ষ পাঁচ বক্তার মধ্যে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতিশ রানের নামও রয়েছে।
এপ্রিলের উত্থান ও সংঘাতপূর্ণ সময়
মাসভিত্তিক চিত্রে এপ্রিল ছিল সবচেয়ে উদ্বেগজনক সময়। ওই মাসে ১৫৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়। এই বৃদ্ধির সময় রামনবমীর মিছিল এবং পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর আয়োজন করা বিদ্বেষমূলক সমাবেশের সময়ের সঙ্গে মিলে গেছে।
২২ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত ১৬ দিনে ৯৮টি সরাসরি উপস্থিতির বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ঘটনা ধরা পড়ে। এই সময়টি ছিল পহেলগাম হামলার পরের এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সক্রিয় সামরিক সংঘাত শুরুর আগের সময়। ঘটনাগুলো দেশজুড়ে দ্রুত মুসলিমবিরোধী জনমত তৈরি ও সংগঠিত তৎপরতার ইঙ্গিত বহন করে।
ষড়যন্ত্রতত্ত্ব, বয়কট ও উপাসনালয় নিয়ে আহ্বান
২০২৫ সালে ৬৫৬টি বক্তব্যে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব তোলা হয়েছে, যা মোট ঘটনার প্রায় অর্ধেক। ২০২৪ সালের তুলনায় এ ধরনের উল্লেখ ১৩ শতাংশ বেড়েছে। ব্যবহৃত প্রচলিত শব্দগুলোর মধ্যে ছিল—
‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’, ‘পপুলেশন জিহাদ’, ‘থুক জিহাদ’, ‘এডুকেশন জিহাদ’, ‘ড্রাগ জিহাদ’ এবং ‘ভোট জিহাদ’।
১২০টি বক্তব্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক বা অর্থনৈতিক বয়কটের সরাসরি ডাক দেওয়া হয়। এসব আহ্বানের প্রধান লক্ষ্য ছিল মুসলিমরা। আগের বছরের তুলনায় এই প্রবণতা ৮ শতাংশ বেশি।
উপাসনালয় সরিয়ে ফেলা বা ভেঙে দেওয়ার আহ্বান ছিল ২৭৬টি বক্তব্যে। নিশানায় থাকা স্থাপনাগুলোর মধ্যে মসজিদ, মাজার ও গির্জা ছিল। উত্তর প্রদেশের জ্ঞানবাপী মসজিদ এবং শাহী ঈদগাহ মসজিদ ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু করা স্থাপনাগুলোর মধ্যে পড়ে।
আরও ১৪১টি বক্তব্যে সংখ্যালঘুদের অমানবিক বা মানবতাবিরোধী ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তাঁদের ‘উইপোকা’, ‘পরজীবী’, ‘পোকামাকড়’, ‘শূকর’, ‘পাগলা কুকুর’, ‘ছোট সাপ’, ‘সবুজ সাপ’ ও ‘রক্তপিপাসু জম্বি’র মতো শব্দে অভিহিত করা হয়।
সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বক্তব্যের বিস্তার শুধু সংখ্যার বিষয় নয়; এতে সহিংসতা, বয়কট, ধর্মীয় স্থাপনা এবং পরিচয়কে ঘিরে ভাষা কীভাবে জনপরিসরে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেই চিত্রও উঠে আসে। ধর্মীয় সহাবস্থান ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে এ প্রবণতা ভারতের জনপরিসরে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ভ রত ২০২৫ স ল ৯৮ শত?
ভ রত ২০২৫ স ল ৯৮ শত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ভ রত ২০২৫ স ল ৯৮ শত matter?
ভ রত ২০২৫ স ল ৯৮ শত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

