হরমুজে সাবমেরিন কেব্ল কাটার হুমকি ইরানের, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক ব্যাংকিং
হরমুজে সাবমেরিন কেবল কাটার হুমকি ও বৈশ্বিক ঝুঁকি
Patrikajournal.com – হরম জ স বম র ন কেবল কেটে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি দিয়েছে ইরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবলগুলোকে ‘বৈধ নতুন লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ জানিয়েছে। এসব কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর্থিক বাজার, ব্যাংক লেনদেন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মোহেব্বির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি বড় কেবল গেছে এবং ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক তথ্যপ্রবাহের বড় অংশ এসব কেবলের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ইরান নতুন লক্ষ্যবস্তু ও নতুন অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার বার্তা দিতে চায়। তাঁর মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এমন এক বিরতির পর্যায়ে আছে, যার পর সম্ভাব্য তৃতীয় ধাপে নতুন ভৌগোলিক ক্ষেত্র ও লক্ষ্যবস্তু সামনে আসতে পারে।
কোন কেবল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে
আইআরজিসি বিশেষভাবে এমন একটি কেবলের কথা বলেছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ মাইল বিস্তৃত। বর্ণনাটির সঙ্গে এশিয়া-আফ্রিকা-ইউরোপ-১ বা এএফই-১ সমুদ্রতলের কেবলটির মিল রয়েছে। এটি ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের সঙ্গে যুক্ত। এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার এ কেবল ব্যবহার করলেও বাংলাদেশ এর সঙ্গে যুক্ত নয়।
ইরানের এক কর্মকর্তা টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালে একাধিকবার কেবল কেটে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পুরো বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা এবং নতুন শত্রু তৈরির ঝুঁকি এড়াতে তেহরান এখন পর্যন্ত হামলার নির্দেশ দেয়নি। ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বাড়ালে হরম জ স বম র ন কেবল কেটে দেওয়ার বিষয়টি একটি বিকল্প হিসেবে থেকে যেতে পারে।
কেবল কাটা কতটা সম্ভব এবং কী প্রভাব পড়তে পারে
লন্ডনের কিংস কলেজের যুদ্ধ ও কৌশলবিষয়ক অধ্যাপক আলেসিও পাতালানোর মতে, এ ধরনের হুমকি প্রযুক্তিগতভাবে বাস্তবায়নযোগ্য। সমুদ্রতলের কেবল সাধারণত সরাসরি ও তুলনামূলক অগভীর পথ দিয়ে স্থাপন করা হয়, যাতে প্রয়োজনে মেরামত সহজ হয়। কিন্তু এই নকশার কারণেই সেগুলো অনেক সময় সংকীর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথের মধ্য দিয়ে যায়। কিছু স্থানে পানির গভীরতা ১০০ মিটারেরও কম হতে পারে।
পাতালানো বলেন, উন্নত সরঞ্জাম থাকা ডুবুরি, দূরনিয়ন্ত্রিত ডুবোযান বা স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানের সাহায্যে কেবল শনাক্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব। শুধু কেবল কাটা নয়, কোথায় এবং কত গভীরে ক্ষতি করা হচ্ছে, তার ওপর মেরামতের সময় ও ক্ষতির স্থায়িত্ব নির্ভর করে। গভীর পানিতে ক্ষতি হলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে; তবে হরমুজ প্রণালির অগভীর পানি এ ধরনের হামলার প্রাথমিক বাধা কমাতে পারে।
আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রতলে ১০ লাখ মাইলের বেশি কেবল বিস্তৃত এবং আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদানের ৯৯ শতাংশের বেশি এগুলোর মাধ্যমে হয়। হরমুজের সাতটি কেবল একসঙ্গে অচল হলে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত ও অনিয়মিত হতে পারে, আর্থিক লেনদেন ধীর হতে পারে এবং ইরানসহ বহু দেশের তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হতে পারে। এ অঞ্চলের ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো, ক্লাউড সেবা এবং ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্য-এশিয়াজুড়ে কার্যরত বহুজাতিক কোম্পানিও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
প্রশ্নোত্তর
সাবমেরিন কেবল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক, ব্যাংকিং তথ্য, বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও ক্লাউডভিত্তিক সেবার বড় অংশ সমুদ্রতলের কেবলের মাধ্যমে চলাচল করে। তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিঘ্ন ঘটলে বিকল্প পথে তথ্য পাঠাতে হয়, যা গতি কমাতে পারে।
হরম জ স বম র ন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে কি বাংলাদেশে প্রভাব পড়বে?
এএফই-১ কেবলের সঙ্গে বাংলাদেশ যুক্ত নয়। তবে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক পরস্পর সংযুক্ত হওয়ায় বড় ধরনের আঞ্চলিক বিঘ্ন হলে বিকল্প রুটে চাপ বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক সেবা ও তথ্যপ্রবাহে পরোক্ষ প্রভাব দেখা দিতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত সমুদ্রতলের কেবল কি মেরামত করা যায়?
হ্যাঁ, বিশেষায়িত জাহাজ ও সরঞ্জাম দিয়ে কেবল মেরামত করা যায়। তবে ক্ষতির অবস্থান, পানির গভীরতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানোর সময়ের ওপর মেরামতের গতি নির্ভর করে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is হরম জ স বম র ন ক?হরম জ স বম র ন ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does হরম জ স বম র ন ক matter?হরম জ স বম র ন ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.