Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

তাবিজ বা কালো জাদু দিয়ে কাউকে বশ করা কি জায়েজ

Published October 2, 2026 · Updated October 2, 2026 · By Charles Jones - patrikajournal.com

Foto : Charles Jones - patrikajournal.com

তাবিজ বা জাদুর মাধ্যমে কাউকে বশে আনার চেষ্টা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়

Patrikajournal.com – ত ব জ ব ক ল জ - পছন্দের মানুষকে বিয়ে করা, স্বামী বা স্ত্রীর মন নিজের দিকে ফেরানো, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কিংবা কাউকে নিজের কথামতো চালানোর আশায় অনেকেই তথাকথিত বশীকরণ তাবিজ, মন্ত্র বা জাদুর শরণাপন্ন হন। ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যের ইচ্ছা ও অনুভূতির ওপর কৃত্রিম প্রভাব বিস্তারের এই চেষ্টা গুরুতর গোনাহের কাজ। বিশেষত যেখানে অজানা মন্ত্র, শিরকি বাক্য, জিনের সাহায্য বা গোপন শক্তির দাবি থাকে, সেখানে ঈমানের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি হয়।

মানুষের হৃদয় জয় করা, দাম্পত্যে শান্তি আনা বা সম্পর্ক মেরামতের জন্য ইসলামে বৈধ ও সুন্দর পথ রয়েছে। দোয়া, আন্তরিকতা, উত্তম আচরণ, পারস্পরিক আলোচনা এবং শরিয়তসম্মত উপায়ে বিয়ের উদ্যোগ নেওয়াই একজন মুসলমানের করণীয়। কারও মনকে তার সম্মতি ছাড়া নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্দেশ্যে জাদু বা বশীকরণের পথ গ্রহণ করা বৈধ নয়।

জাদুর মাধ্যমে সম্পর্ক প্রভাবিত করার ভয়াবহতা

পবিত্র কোরআনে জাদুর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। জাদুর মাধ্যমে মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করা বা তাদের পারস্পরিক অবস্থান বদলে দেওয়ার বিষয়টি কোরআনের আলোচনায় এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

“তারা এমন বিষয় শিখত, যার মাধ্যমে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত।” (সুরা বাকারা: ১০২)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, জাদু মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কে অশুভ প্রভাব ফেলতে পারে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা যেমন অন্যায়, তেমনি কাউকে নিজের প্রতি বাধ্যতামূলকভাবে আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে জাদু প্রয়োগের চেষ্টাও অন্যায়। সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ; প্রতারণা, ভয় দেখানো কিংবা অদৃশ্য শক্তির নামে প্রভাব বিস্তার ইসলামী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বশীকরণ তাবিজে কী থাকতে পারে

বশীকরণ নামে ব্যবহৃত অনেক তাবিজে কী লেখা আছে, তা ব্যবহারকারীও জানেন না। কোথাও কোরআনের আয়াত বা দোয়ার নাম ব্যবহার করা হলেও তার সঙ্গে থাকতে পারে দুর্বোধ্য অক্ষর, অজানা প্রতীক, অস্পষ্ট সংখ্যার বিন্যাস, মন্ত্র বা এমন বক্তব্য যা শিরকের দিকে নিয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে জিন বা শয়তানের সাহায্য চাওয়ার বিষয়ও থাকতে পারে।

কোনো বস্তু, চিহ্ন বা তাবিজকে এমন ক্ষমতার অধিকারী মনে করা যে সেটি নিজ শক্তিতে মানুষের মন পাল্টে দিতে পারে, বিপদ দূর করতে পারে বা কারও ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে—এটি ঈমানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ধারণা। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাবিজ ব্যবহারের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন:

“যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলাল, সে শিরক করল।” (মুসনাদ আহমাদ: ১৭৪০৪)

আলেমদের মধ্যে কোরআনের আয়াত বা শরিয়তসম্মত দোয়া লিখিত তাবিজ ব্যবহারের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; কিছু উলামায়ে কেরাম তা শর্তসাপেক্ষে জায়েজ বলেছেন। তবে যে তাবিজে অজানা মন্ত্র, শিরকি শব্দ, জাদুবিদ্যার উপকরণ বা অস্পষ্ট সংকেত থাকে, তার বৈধতার কোনো সুযোগ নেই। তাই কোনো তাবিজ ব্যবহার করার আগে তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

কথিত বশীকরণকারীর কাছে যাওয়া কেন বিপজ্জনক

কিছু ব্যক্তি দাবি করে, তারা বিশেষ মন্ত্র, গোপন সাধনা, জিনের সহযোগিতা অথবা অতিপ্রাকৃত শক্তির মাধ্যমে কাউকে বশ করতে পারে। কেউ প্রেমের সম্পর্ক ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, কেউ দাম্পত্য কলহ দূর করার নামে অর্থ নেয়, আবার কেউ বিয়ের বাধা কাটানোর নিশ্চয়তা দেয়। এসব দাবির পেছনে জাদু, প্রতারণা, কুসংস্কার এবং আকিদাবিরোধী বিশ্বাস জড়িয়ে থাকার আশঙ্কা প্রবল।

মুসলমানের জন্য এমন ব্যক্তির কাছে যাওয়া এবং তার কথাকে সত্য মনে করা অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে গিয়ে তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করে এবং তার কথা বিশ্বাস করে, ৪০ দিন তার নামাজ কবুল করা হয় না।” (সহিহ মুসলিম: ২২৩০)

এই হাদিস মানুষের অদৃশ্য বিষয় জানার দাবি করা ব্যক্তি, গণক বা ভাগ্যবক্তার ওপর নির্ভর করা থেকে সতর্ক করে। কারও ভবিষ্যৎ, মনের অবস্থা কিংবা সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে নিশ্চিত জ্ঞান দাবি করা মানুষের সাধ্যের বাইরে। ফলে বশীকরণের নামে কাউকে অর্থ দেওয়া, তার দেওয়া বস্তু ব্যবহার করা বা তার নির্দেশ মেনে চলা থেকে বিরত থাকা উচিত।

সম্পর্কের সমস্যায় করণীয়

বিয়ের ইচ্ছা থাকলে সম্মানজনক ও শরিয়তসম্মতভাবে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা, প্রস্তাব দেওয়া এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া উত্তম পথ। পছন্দের মানুষকে পাওয়া না গেলে ধৈর্য ধারণ করা এবং নিজের জন্য কল্যাণকর সিদ্ধান্ত কামনা করা প্রয়োজন। জোর করে বা গোপন প্রভাবে কোনো সম্পর্ক তৈরি হলেও তাতে শান্তি ও বরকত আসার আশা করা যায় না।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব বা বিরোধ দেখা দিলে আগে পরস্পরের সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলা, ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং প্রয়োজনে বিশ্বস্ত পরিবার-পরিজন বা জ্ঞানী ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত, ইবাদত, ক্ষমাশীলতা ও সুন্দর ব্যবহার দাম্পত্য জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসবের কোনোটিই অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করার হাতিয়ার নয়; বরং আল্লাহর সাহায্য চাওয়া এবং নিজের আচরণ সংশোধনের মাধ্যম।

তাই কাউকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করা বা ইচ্ছামতো পরিচালনার জন্য তাবিজ, জাদু ও কথিত বশীকরণকারীর দ্বারস্থ হওয়া থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। ইসলামের শিক্ষা হলো—সম্পর্ক গড়তে হবে সততা, সম্মতি, ন্যায়বোধ ও আল্লাহভীতির ভিত্তিতে; অজানা শক্তি, শিরকি উপকরণ বা প্রতারণার আশ্রয়ে নয়।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ত ব জ ব ক ল জ?

ত ব জ ব ক ল জ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ত ব জ ব ক ল জ matter?

ত ব জ ব ক ল জ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.