Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ার ফজিলত ও আমল

Published October 19, 2026 · Updated October 19, 2026 · By James Martinez - patrikajournal.com

Foto : James Martinez - patrikajournal.com

সুরা ফালাক ও সুরা নাস: আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনার বিশেষ শিক্ষা

Patrikajournal.com – স র ফ ল ক ও স - মানুষের জীবনে ভয়, অনিশ্চয়তা, হিংসা, কুপ্রভাব ও অশুভ চিন্তার মতো নানা বিষয় দেখা দিতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেয় পবিত্র কোরআনুল কারিমের শেষ দুই সুরা—সুরা ফালাক এবং সুরা নাস। সংক্ষিপ্ত হলেও এই দুই সুরার বিষয়বস্তু অত্যন্ত ব্যাপক ও তাৎপর্যপূর্ণ।

সুরা ফালাক কোরআনের ১১৩ নম্বর সুরা এবং এতে রয়েছে পাঁচটি আয়াত। এর পরের সুরা নাস ১১৪ নম্বর সুরা; এতে আয়াত রয়েছে ছয়টি। উভয় সুরাতেই একটি করে রুকু আছে এবং দুটি সুরাই মদিনায় অবতীর্ণ। ইসলামী পরিভাষায় এদের একত্রে বলা হয় ‘মুআউবিজাতাইন’, অর্থাৎ আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনার দুটি বিশেষ সুরা।

এই সুরা দুটিতে মুমিনকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে—দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্য, প্রকাশ্য কিংবা গোপন সব ধরনের অনিষ্ট থেকে একমাত্র আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাইতে। সুরা ফালাকে সৃষ্টির অনিষ্ট, রাতের অন্ধকারের ক্ষতি, জাদুর কুপ্রভাব ও হিংসুকের হিংসা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। অন্যদিকে সুরা নাসে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা সৃষ্টিকারী শয়তান ও কুপ্ররোচনার অনিষ্ট থেকে রক্ষা চাওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশেষ গুরুত্বারোপ

হাদিসে সুরা ফালাক ও সুরা নাসের মর্যাদা এবং নিয়মিত পাঠের গুরুত্ব বিভিন্নভাবে উঠে এসেছে। হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দুই সুরার বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে সহিহ মুসলিমের ৮১৪ নম্বর এবং জামে তিরমিজির ২৯০২ নম্বর হাদিসে বর্ণনা রয়েছে।

আরেক সফরে হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উটের পেছনে চলছিলেন। সেই সময় মহানবী (সা.) তাঁকে বিশেষ দুটি সুরা শেখানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি সুরা ফালাক ও সুরা নাস শিক্ষা দেন। উকবা ইবনে আমের (রা.) এই শিক্ষা পাওয়ার আনন্দের কথা বর্ণনা করেছেন।

“হে উকবা! আমি কি তোমাকে পঠিত দুটি উত্তম সুরা শেখাব না?”

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে ‘কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক’ এবং ‘কুল আউজু বিরাব্বিন নাস’ শিক্ষা দেন। হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) বলেন, এই দুই সুরা শেখার আনন্দ তাঁর কাছে ভাষায় প্রকাশের অতীত ছিল। এ বর্ণনাটি সুনানে আবু দাউদের ১৪৬২ নম্বর হাদিসে পাওয়া যায়।

হজরত জাবের (রা.)-কেও রাসুলুল্লাহ (সা.) এ দুই সুরা নিয়মিত পড়ার নির্দেশ দেন। তাঁর উদ্দেশে মহানবী (সা.) বলেন:

“তুমি এই দুই সুরা পড়তে থাকবে। কারণ, এ দুটির মতো সহজে অন্য কোনো সুরা তোমরা পড়তে পারবে না।”

সুনানে নাসায়ির অষ্টম খণ্ডের ২৫৪ পৃষ্ঠা এবং সহিহ ইবনে হিববানের ৭৯৬ নম্বর হাদিসে এই বর্ণনা উল্লেখ আছে। এতে বোঝা যায়, ছোট আয়াতের এই সুরা দুটি মুখস্থ করা ও দৈনন্দিন আমলে রাখা মুমিনদের জন্য সহজ এবং তাৎপর্যপূর্ণ।

ঘুমের আগে আমলের গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দৈনন্দিন আমলের মধ্যেও সুরা ফালাক ও সুরা নাসের বিশেষ স্থান ছিল। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, তিনি রাতে শয্যায় যাওয়ার আগে এই সুরাগুলো পাঠ করতেন। সহিহ বুখারির ৫০১৭ নম্বর, সুনানে আবু দাউদের ৫০৫৮ নম্বর এবং জামে তিরমিজির ৩৪০২ নম্বর হাদিসে এ বিষয়ে বর্ণনা আছে।

রাতের ঘুমের আগে দুই হাত একত্র করে তাতে ফুঁ দেওয়া, তারপর শরীরের যতটুকু অংশে হাত পৌঁছায় সেখানে হাত বুলিয়ে নেওয়ার আমল মুসলিমদের কাছে পরিচিত। এই আমলের সঙ্গে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠের কথা হাদিসে এসেছে। এটি আল্লাহর ওপর ভরসা, তাঁর স্মরণ এবং তাঁর সুরক্ষার আবেদনকে জীবনের অভ্যাসে পরিণত করার একটি সুন্দর মাধ্যম।

দৈনন্দিন জীবনে পাঠের সময়

প্রত্যেক ওয়াক্তের ফরজ নামাজের পর সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিলাওয়াত করা উত্তম আমল হিসেবে বিবেচিত। নামাজের পর আল্লাহর স্মরণে এই সুরা দুটি পড়লে একজন মুমিন নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে রবের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ পান। বিপদ বা দুশ্চিন্তার সময়েই শুধু নয়, স্বাভাবিক সময়েও নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস পড়ার আমলও গুরুত্বপূর্ণ। এই পাঠ বান্দাকে সারাদিনের ক্ষতিকর বিষয় থেকে আল্লাহর হেফাজত কামনার শিক্ষা দেয়। এখানে সুরক্ষার মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া।

সুরা ফালাক মানুষের বাইরের ক্ষতি ও হিংসা থেকে আশ্রয় চাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সুরা নাস মন ও অন্তরের জগৎকে সুরক্ষিত রাখার আবেদন শেখায়। ফলে দুই সুরার শিক্ষা শুধু মুখে পাঠের মধ্যে সীমিত নয়; এটি মানুষের চিন্তা, আচরণ ও আল্লাহনির্ভরতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

জাদুটোনা, হিংসা, বিদ্বেষ, ভয়, অস্থিরতা এবং শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্তি চাওয়ার ক্ষেত্রে এই সুরা দুটি মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। তবে তিলাওয়াতের সঙ্গে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, সৎকাজে অবিচল থাকা এবং অন্যের ক্ষতি থেকে বিরত থাকার চেতনা ধারণ করাও জরুরি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সুরা ফালাক ও সুরা নাসের অর্থ ও শিক্ষা উপলব্ধি করার তাওফিক দিন এবং এগুলোকে নিয়মিত জীবনের আমলে পরিণত করার সামর্থ্য দান করুন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স র ফ ল ক ও স?

স র ফ ল ক ও স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স র ফ ল ক ও স matter?

স র ফ ল ক ও স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.