Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

পরমাণু শক্তির বেসামরিক ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষর

Published September 26, 2026 · Updated September 26, 2026 · By Barbara Hernandez - patrikajournal.com

Foto : Barbara Hernandez - patrikajournal.com

শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সমঝোতা

Patrikajournal.com – পরম ণ শক ত র ব স - পারমাণবিক শক্তির বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর এ চুক্তি সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ সমঝোতা স্মারকে সই করেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে স্বাক্ষর করেন দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ। চুক্তিটি দুই দেশের বিজ্ঞান, জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করা হচ্ছে।

পুরোনো উদ্যোগের ধারাবাহিকতা

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে সহযোগিতার আগ্রহ নতুন নয়। ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এ ধরনের সহযোগিতার প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নতুন সমঝোতাটি সেই দীর্ঘদিনের ধারণাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বলতে সাধারণত বিদ্যুৎ উৎপাদন, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের মতো বিষয় বোঝায়। এ ক্ষেত্রে পরমাণু শক্তির সামরিক প্রয়োগ নয়, বরং বিদ্যুৎ ও গবেষণাসহ শান্তিপূর্ণ কাজে এর ব্যবহারই মুখ্য থাকে। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি একই সময়ে নিজস্ব প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রেক্ষাপট

চুক্তি স্বাক্ষরের আগের দিন, ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি পৌলোস মরিসন দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তখনই তিনি পারমাণবিক শক্তির বেসামরিক ব্যবহারসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

ওই সফরের সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তিও সম্পন্ন হয়। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেন। এসব ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই পারমাণবিক সহযোগিতার সমঝোতা স্মারকটি দুই দেশের চলমান যোগাযোগের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে উঠেছে।

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক বিলম্ব

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতার খবরের সময়েই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানি পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার নতুন জ্বালানির চালান ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে আকাশপথ ব্যবহারের ছাড়পত্র না মেলায় তা পাঠানো যায়নি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জ্বালানি গ্রহণের প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আকাশপথ উন্মুক্ত না থাকায় নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হয়। পরবর্তী সময়সূচি পরে ঠিক করা হবে।

“আমরা বিমানবন্দরে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটমের লিয়াজোঁ অফিসার আমাদের নিশ্চিত করেন যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আকাশপথ উন্মুক্ত ছিল না। ফলে ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়েছে এবং পরবর্তী সময়সূচি পরে পুনর্নির্ধারণ করা হবে।”

কোন দেশের আকাশপথ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি কিংবা কী ধরনের বাধার কারণে চালান বিলম্বিত হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অনুমোদন এবং নির্দিষ্ট রুট ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাই এমন চালানের সময়সূচিতে পরিবর্তন হলেও নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করাই প্রধান বিবেচনা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন। এটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজ এগিয়ে চলছে।

কেন্দ্রটিতে দুটি ইউনিট রয়েছে এবং প্রতিটিতে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মিলিয়ে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। বড় আকারের এই উৎপাদন সক্ষমতা ভবিষ্যতের বিদ্যুৎ চাহিদা মোকাবিলার আলোচনায় রূপপুরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

প্রথম ইউনিটের জন্য ২০২৩ সালের অক্টোবরে ১৬৪টি নতুন জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে পৌঁছায়। রসাটমের নোভোসিবির্স্ক কারখানা থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে সেগুলো ঢাকায় আনা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার নিরাপদ গ্রিন করিডর ব্যবহার করে জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়। সে সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রশ্ন

রূপপুর প্রকল্পের বাস্তবায়ন রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত, আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতা পারমাণবিক শক্তির বেসামরিক ব্যবহারে একটি পৃথক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করছে। দুই ধারার এই যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তি, নিরাপত্তা মানদণ্ড ও দক্ষতা বাড়ানোর আলোচনাকে বিস্তৃত করতে পারে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালনায় কেবল রিঅ্যাক্টর নির্মাণই যথেষ্ট নয়; প্রশিক্ষিত জনবল, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, পরিবহন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মানার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে নতুন সমঝোতা ও রূপপুরের অগ্রগতি দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনায় বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছে।

দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পরিবহনের নতুন সূচি নির্ধারিত হলে রূপপুর প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম আরও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা কী ধরনের বাস্তব সহযোগিতায় রূপ নেয়, তা বাংলাদেশের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is পরম ণ শক ত র ব স?

পরম ণ শক ত র ব স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does পরম ণ শক ত র ব স matter?

পরম ণ শক ত র ব স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.