মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিল সংসদে পাস
সংসদে পাস দুটি বড় আইন: গুমের শাস্তি থেকে মানবাধিকার কমিশনের নতুন কাঠামো
Patrikajournal.com – ম নব ধ ক র কম শন - রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল একযোগে পাস হয়েছে — জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল। এই দুই আইন একত্রে দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায় খুলবে, বিশেষ করে যারা বছরের পর বছর গুমের শিকার হয়ে নিখোঁজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভোগ করছেন তাদের জন্য।
গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে আইনত স্বীকৃতি দেওয়া। অর্থাৎ এখন থেকে গুমের মামলায় জামিন পাওয়া যাবে না, আর অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পক্ষের মধ্যে আপসের কোনো সুযোগ থাকবে না। সাধারণ গুমের অপরাধের জন্য বিলে অন্তত তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে গুমের সংজ্ঞাও স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা বাহিনী নিজ পরিচয়ে অথবা সরকারের সমর্থনে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণ করে এবং তার স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করে বা তার অবস্থান গোপন রাখলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে।
মৃত্যু বা দীর্ঘ নিখোঁজের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান
গুমের ফলে যদি মৃত্যু ঘটে, মরদেহ উদ্ধার করা যায় না, অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয় — তখন দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে। এই কঠোর শাস্তি কাঠামো দেশে গুমের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিরোধের নতুন মাত্রা নির্ধারণ করবে।
তদন্ত ও বিচারের সময়সীমা
বিলে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বাধ্যতামূলক সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। একইভাবে বিচারকাজও সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা জজ আদালতেই গুমের অপরাধের বিচার হবে। অভিযোগ গঠনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে; নির্ধারিত সময়ে সম্ভব না হলে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীনতা-নিশ্চয়তা হিসেবে, কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা তার সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী নিজে ওই অভিযোগের তদন্ত করতে পারবে না। সরকার স্বপ্রণোদিতভাবে বা কোনো পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বাহিনী ছাড়া অন্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা আন্তবাহিনী তদন্ত দলের কাছে তদন্তভার হস্তান্তর করতে পারবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আধুনিক বিচার-ব্যবস্থা
বিলে বলা হয়েছে, এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কোনো অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীনে বিচারযোগ্য বলে প্রতীত হলে তদন্ত প্রতিবেদন ও সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পাঠাতে হবে। প্রয়োজনে চিফ প্রসিকিউটর অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারবেন।
গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও বিলে অন্তর্ভুক্ত। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিকার, ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের সুরক্ষা
ভুক্তভোগীদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে; তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে। গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ দেওয়ার বিধানও বিলে রয়েছে। পাশাপাশি গুমসংক্রান্ত তথ্যের কেন্দ্রীভূত তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মিথ্যা ও হীনমূলক অভিযোগের বিরুদ্ধেও বিলে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আদালতের কাছে অভিযোগ মিথ্যা ও হীনমূলক বলে প্রতীত হলে অভিযোগকারীকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারবেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া যাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
বিল পাসের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার 'গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ' জারি করেছিল, যেখানে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই অধ্যাদেশকে ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করে নতুন বিলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে বিলটি শক্তিশালী করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমূল পরিবর্তনের পর আগের অধ্যাদেশকে শক্তিশালী করে এই বিল আনা হয়েছে। গুম প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এটিও শক্তিশালী করে আনা হয়েছে।
জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী, আমাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আমরা গুমের এই প্রতিকার, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এই বিলটা নিয়ে আসছি।
মানবাধিকার কমিশন বিল: নতুন কাঠামো
এদিকে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে ন
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ম নব ধ ক র কম শন?ম নব ধ ক র কম শন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ম নব ধ ক র কম শন matter?ম নব ধ ক র কম শন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.