Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

অতি চালাকের গলায় দড়ি | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

Published June 30, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Charles Jones - patrikajournal.com

Foto : Charles Jones - patrikajournal.com

অতি চালাকের গলায় দড়ি

হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছিল

Patrikajournal.com – অত চ ল ক র গল য় - সিনেমার চিত্রনাট্যের তুলনায় এতটা নিখুঁত পরিকল্পনা লেখা সম্ভব হয়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সাথে সিয়া গোয়েলের বাগদান হয়েছিল। আগামী নভেম্বরে বিয়ে হওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী তাকে আকর্ষণ করতেন। দুজনে এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে কেতনকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবেন।

মে মাসের শেষ দিকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছিল। তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের কাছে কীভাবে এমন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল, সেটা অবাক হয়েছিলেন। গত ৭ মাসে সিয়া আর চেতন ফোনে ২ হাজার ৪ বার কথা বলেছিলেন। সেসব কল মোট দীর্ঘ ২৩৮ ঘণ্টা ধরেছিল।

সিয়া আর চেতন গুগলের সাহায্য নিয়ে হত্যার রীতি নির্ধারণ করেছিলেন। তাদের সিদ্ধান্ত ছিল লোহাগড় দুর্গকে হত্যার স্পট হিসেবে চূড়ান্ত করা। কিন্তু প্রথম যাত্রায় লোকজনের ভিড়ে তাদের কাজ করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ চোখ ফাঁকি দিয়েছিল

৩১ মে দুজনে লোহাগড় দুর্গে ভ্রমণ করেছিলেন। কিন্তু বাইরে লোক ছিল, তাই সিয়া কোনো কাজ করতে পারেননি। চেতন তার মোবাইল ডাটা অফ করেছিলেন যাতে জিপিএস ট্র্যাকার দ্বারা গতিবিধি অনুসরণ করা যায় না। সেই সিদ্ধান্ত ছিল তার জরুরি যোগাযোগের জন্য অন্য কর্মচারীর ফোন ব্যবহার করার দিকে।

পুনে থেকে লোহাগড় দুর্গে যাওয়ার দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। গাড়ি ব্যবহার করলে টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ প্রমাণ ছিল। সুতরাং চেতন স্কুটার ব্যবহার করেন। তিনি অনুসরণ করেন সিয়া আর কেতনকে পেছন থেকে। তার পরণে ছিল শর্টস, মাথায় হুডি আর হেডফোন ঝুলিয়ে রাখা।

হত্যার পরিকল্পনা কার্যকর হয়েছিল

হত্যার ৩৪ মিনিট আগে সিয়া চেতনকে ফোনে সিগনাল দেন। তাদের বোঝাপড়া ছিল যে লোকজন নেই হলে সিয়া পানি খাওয়া বা জুতার ফিতা বাঁধার অজুহাতে বসে যাবেন। তখন চেতন কেতনকে ধাক্কা দেবেন।

“বাঁচাও বাঁচাও” বলে চিৎকার করলে এক নিরাপত্তা রক্ষী ছুটে আসে। তারা প্রথম পুলিশকে খবর দেন আর সিয়া কেতনের মাকে ফোনে দুর্ঘটনার কথা জানান।

তাপমাত্রা যাতে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তার কারণে হুডি পরাটা সন্দেহজনক ছিল। সানজানা আগরওয়াল আপত্তি করেন কেতনের শেষকৃত্যের সময়ে। এই কারণে সিয়া কেতনের বাসায় আসেন। সেদিন সিয়ার কথায় অসংলগ্নতা ছিল। তা তার সন্দেহ আরো গাঢ় করেছিল।

চেতন কেতনের মোবাইল ডাটা অফ ছিল ১৮ জুন সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা ৪০ পর্যন্ত। যদি সেই সময় তার কল আসত, তাহলে অন্য কেউ ধরেছে বলে মনে হয়েছিল। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে সিয়া-কেতনের পেছনে হুডি পরা তরুণকে দেখে সন্দেহ করেন। সব কাজের মাঝে চেতন নিজেই আঁকড়ে ধরা পড়েছিলেন।