Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

আত্মশুদ্ধির আলোচনা | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

Published June 9, 2026 · Updated July 21, 2026 · By Betty Moore - patrikajournal.com

Foto : Betty Moore - patrikajournal.com

আত্মশুদ্ধির আলোচনা

Patrikajournal.com – আত মশ দ ধ র আল চন - আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনে মানুষের সাফল্য এবং ব্যর্থতার মাপকাঠি নির্ধারণ করেছেন স্পষ্টভাবে। বিশ্বের সম্পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি বা বাহ্যিক অর্জনগুলো সফলতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য নয়। সাফল্য এর স্থান মানুষের অন্তর এবং নফসের পরিশুদ্ধির ওপর।

আল্লাহর শপথে নফসের তিন স্তর

সুরা শামসে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় সে সফল হয়েছে যে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে যে তাকে কলুষিত করেছে।” (আয়াত ৯১০) উলামায়ে কেরামের সার্বসম্মত বিশ্লেষণ অনুযায়ী নফস তিন ভাগে বিভক্ত। প্রথম বিভাগ হলো মন্দ কাজে প্ররোচনা দেয়ার নফসে আম্মারাহ। দ্বিতীয় হলো গুনাহের কারণে নিজেকে ধিক্কার দেয়ার নফসে লাউওয়ামাহ। তৃতীয় হলো নেক আমলে প্রশান্ত হওয়ার নফসে মুতমাইন্নাহ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, “নিশ্চয় নফস মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়।” (সুরা ইউসুফ, আয়াত ৫৩)

দ্বিতীয় প্রকার নফসের উল্লেখ রয়েছে সুরা কেয়ামাহে। “আমি শপথ করি কিয়ামাহ দিবসের আরও শপথ করি সেই মনের, যে নিজেকে ধিক্কার দেয়।” (আয়াত ১-২) তাফসিরে মারেফুল কোরআনে নফসে লাউওয়ামাহকে বর্ণনা করা হয়েছে যে এটি নিজের কর্মের হিসাব নিয়ে নিজেকে কলঙ্কিত করে। যেমন কৃত গুনাহ বা ওয়াজিবকর্মে ত্রুটির কারণে নিজেকে ভর্ৎসনা করে।

হজরত হাসান বসরি (রাহ.) বলেন, “নফসে মুমিনা”। আল্লাহর কসম! মুমিন সর্বদা নিজেকে ধিক্কার দেয়। তার কর্ম আল্লাহর শানে সন্তুষ্ট হয় না কেন তার কর্মে অভাব অনুভব করে।

তৃতীয় স্তরের নফস সুরা ফজরে উল্লেখ করা হয়েছে। “হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর।” (আয়াত ২৭-৩০) তাফসিরে মারেফুল কোরআনে বলা হয়েছে, প্রশান্ত আত্মা আল্লাহর আইন ও সৃষ্টির নিয়ম মুখামুখি হয়।

নবীদের ভূমিকা

পৃথিবীতে নবী প্রেরণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষের নফস পরিশুদ্ধ করা। সুরা আলে ইমরানের ১৬৪ আয়াতে আল্লাহ বলেন, “নবীর অন্যতম কাজ হলো ইউজাক্কিহিম বা রসুল তাদের আত্মশুদ্ধি করেন।” এটি নফসের অন্তর পরিষ্কার করে উত্তম গুণ স্থাপনের জন্য আল্লাহর বিশেষ ইহসান। এই দায়িত্ব তিনি তাঁর প্রিয় নবীর ওপর ন্যস্ত করেছেন।