আত্মীয়দের অধিকার প্রদানে ইসলামের নির্দেশনা
আত ম য়দ র অধ ক র – সমাজে জীবিত থাকা মানুষের অপরিহার্য প্রয়োজন। আত্মীয়তা হলো সামাজিক জীবনের প্রধান বন্ধন। কিছু ক্ষেত্রে আত্মীয় সম্পর্ক সৌহার্দ সৃষ্টি করে, আবার কিছু স্থানে তা তিক্ততার পরিচয় দেয়। সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে পর্যবসিত হয় তাদের সম্পর্কের অবসান।
ইসলামের নির্দেশনা আত্মীয়তার রক্ষা করা
ইসলাম মানুষকে আত্মীয়স্বজনের সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখার বিধান দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা সেই সম্পর্ক রক্ষা করে, যা রক্ষার নির্দেশ আমি দিয়েছি।’ (সুরা রাদ, আয়াত ২১) রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার রক্তের সম্পর্ক বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১৩৮)
আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রিজিক (জীবিকা) প্রশস্ত হওয়া এবং আয়ু বৃদ্ধির প্রত্যাশা করে সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ন রাখে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৮৬)
হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসরা বলেন, ‘জীবিকা ও আয়ুষ্কাল বৃদ্ধির অর্থ হলো বরকত লাভ করা, ভালো কাজের সুযোগ হওয়া, সময় যথাযথ কাজে লাগানো এবং অপচয় ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া।’ (জাওয়াহিরুল হারিরিয়্যা ২/৩৫২)
মৌলিক নির্দেশনাগুলো
ইসলামে আত্মীয় সম্পর্ক রক্ষার জন্য নিম্নে সাতটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে:
১. যোগাযোগ রক্ষা করা
আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ অবিচ্ছিন্ন রাখা ইসলামি পরামর্শের প্রধান আদেশ। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে তা রক্ষা করে চলে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৯১)
২. উত্তম আচরণ করা
সুরা নিসা আয়াত ৩৬ থেকে ইরশাদ হয়েছে, ‘মা-বাবার সঙ্গে উত্তম আচরণ কর, আর উত্তম আচরণ কর নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে।’ ইসলাম আত্মীয়দের মধ্যে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
৩. অভাবগ্রস্তের প্রতি সহায়তা
রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মিসকিনকে দান করলে শুধু দানের সওয়াব আর আত্মীয়কে সহযোগিতা করলে দুটি সওয়াব হয় – দান ও আত্মীয়তা রক্ষা।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস ২৫৮২)
৪. মেহমানদারি
আত্মীয় হলে মেহমানদারি সাধারণ মুসলমানের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে সে যেন মেহমানকে সম্মান করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১৩৮)
