News

ইরানে ‘মন্দের ভাল বিকল্পের’ ফাঁদে আটকা পড়েছেন ট্রাম্প! | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

ইরানে ‘মন্দের ভাল বিকল্পের’ ফাঁদে আটকা পড়েছেন ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেছে

Patrikajournal.com – ইর ন মন দ র ভ ল – যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক বিরোধের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের সমঝোতার আশা দ্রুত ধূসর হয়ে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সপ্তাহ আগে ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে স্থাপিত নাজুক যুদ্ধবিরতি এখন এমন অবস্থায় পড়েছে যে কূটনৈতিক সংঘাতের আগে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে আসছে।

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমঝোতার পথে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করলেও, ইরান নিজের প্রভাব ও সামরিক সক্ষমতা রক্ষা করতে চাইছে। ইরান চাইছে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পর ধীরে ধীরে আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হতে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।

হোয়াইট হাউসে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি

“হোয়াইট হাউসের সামনে এখন এমন কিছু বিকল্প রয়েছে যেগুলোর কোনওটিই ভালো নয়,” বলেন আটলান্টিক কাউন্সিলের প্রজেক্ট ফর মিডল ইস্ট ইন্টিগ্রেশনের পরিচালক অ্যালিসন মাইনর।

আটলান্টিক কাউন্সিলের সদস্য অ্যালিসন মাইনরের মতে, ইরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণার চেয়ে সহনশীল ও স্থিতিশীল। তিনি দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্ব বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে একে অপরের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বেশি হতে পারে।

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এখানে পরিবাহিত জ্বালানি রফতানি বৈশ্বিক পরিমাণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হয়। এ কারণে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচনের আগে আরও চাপ ট্রাম্পের ওপর

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে, ট্রাম্পের প্রশাসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমে খারাপ হতে শুরু করেছে। তিনি নিজের দ্বারা সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা ঘোষণা করেছেন, কিন্তু জনগণের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ আবারও বেড়ে উঠছে।

রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে যে দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পকে যুদ্ধে জড়ানোর ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এ কারণে রিপাবলিকানদের জন্য নির্বাচন খুব কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর ঘটনার পর, যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ মোকাবিলার প্রস্তুতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জার্মান মার্শাল ফান্ডের গবেষক ইয়ান লেসার মন্তব্য করেন।

তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আশঙ্কা গত রবিবার ট্রাম্প এক পুনরায় ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও সামরিক পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *