কোরবানি: আল্লাহ প্রেমের নিদর্শন
ক রব ন আল ল হ প – মানুষের জীবনের সার্থকতা স্রষ্টার সন্তুষ্টি ও অকুণ্ঠ ভালোবাসার মধ্যে স্থাপিত। আল্লাহর প্রতি বান্দার প্রেম প্রকাশ করার একটি স্পষ্ট উদাহরণ হলো কোরবানি। এটি কেবল পশু জবাই নয়; বরং ব্যক্তি নিজের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তুকে স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করার সামগ্রিক প্রক্রিয়া। হৃদয়ে কুণ্ঠাবোধ ছাড়া সেই অকুণ্ঠ সাধনা করা আবশ্যক।
কোরবানির ইতিহাসে আমরা ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.) এর মধ্যে এমন একটি আত্মত্যাগ দেখতে পাই, যা মানুষের ভালোবাসার পরিমাণ সম্পর্কে অনেক বেশি স্পষ্ট। তিনি পরীক্ষার পর আল্লাহ দ্বারা পিতার সন্তান রক্ষিত হন। কোরবানি একটি স্থায়ী বিধান হিসেবে গৃহীত হয়।
কোরবানির তাৎপর্য
স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য রক্তমাংস প্রবাহিত করার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের লোভ ও পশুত্ব বিসর্জন দেওয়া। নিজের কষ্টে অর্জিত হালাল সম্পদ দ্বারা আল্লাহ প্রতি প্রেম প্রকাশ করা সম্ভব। কোরআনে লেখা হয়েছে, “আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও মরণ সবটুকুই বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য হোক” (সূরা আনআম)।
আল্লাহর কাছে পশুর রক্তমাংস কিছুই পৌঁছে না। কেবল তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে থাকে (সূরা হজ)।
সামর্থ্যবান প্রত্যেক বান্দার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকলেও যারা কোরবানি করে না, তাদের ব্যাপারে রসুল (সা.) বলেছেন, “যে সামর্থ্য আছে কিন্তু কোরবানি করে না, তাকে ঈদগাহে আসতে দাও না” (সুনানে ইবনে মাজা)।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
ঈদ এমন একটি দিন, যেখানে ধনী-গরিব সবাই আনন্দের সময় পায়। কোরবানি অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার, ২০২৩ সালে ১ কোটি ১ লাখ এবং ২০২৪ সালে ১ কোটি ৪ লাখের বেশি পশু কোরবানি করা হয়। এটি সামাজিক স্বাস্থ্য ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে বিপুল সহায়তা করে।
খামারি, পরিবহনশ্রমিক, চামড়াশিল্পী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা কোরবানির মাধ্যমে সম্পৃক্ত। প্রতি বছর দেশে এক লাখ কোটি টাকার বেশি অর্থনৈতিক প্রবাহ ঘটে। আল্লাহর বিধানের মাঝে যথাযথ পালনে অনেক ফায়দা রয়েছে।
কোরবানির সামাজিক মূল্য হলো দরিদ্রদের খাওয়ানো। দেশে অসংখ্য পরিবার সারা বছর দুবেলা গরু-ছাগলের গোশত খেতে পারে না। প্রতি বছর কোরবানি তাদের পুষ্টি আমিষের ঘাটতি মেটাতে বিপুল ভূমিকা পালন করে।
প্রকাশনা সময়
গ্রন্থনা: নুরুল ইসলাম তানঈম ৩৩ মিনিট আগে | দেশগ্রাম ১ ঘণ্টা আগে | চট্টগ্রাম প্রতিদিন ১ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন ২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম ২ ঘণ্টা আগে | চট্টগ্রাম প্রতিদিন ২ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন ২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম ২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম ২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম ২ ঘণ
