গরু পালনে ভাগ্য বদলেছে মহিউদ্দিন-কবিতার
গর প লন ভ গ য বদল – ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে কৃষক মহিউদ্দিন ও তার স্ত্রী কবিতা খাতুন দুই জনে গরু পালনের মাধ্যমে নিজেদের পরিস্থিতি উন্নত করেছেন। এই পরিবারের কথা বললে কারও মনে হবে যে এই কাজটি সহজ হয়েছে। কিন্তু আসলে এটি তাদের পরিশ্রম ও পরিকল্পনার ফলে একটি বিপ্লবের মতো পরিবর্তন ঘটিয়েছে।
গরু পালনে আয় সৃষ্টি করার যাত্রা
পূর্বে এই পরিবার শুধুমাত্র ধান চাষ করে থাকেন। কিন্তু কৃষি কাজ থেকে আয় অপর্যাপ্ত হওয়ায় সংসারে সময়ে অভাব দেখা দেয়। পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য আর তাদের জীবিকা ব্যবস্থার জন্য সমস্যা হতো। তাই এখন থেকে তারা গরু পালন শুরু করেন।
তারা ২০২১ সালে গরু পালনে প্রবেশ করেন। শুরুতে দুইটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু হয়, কিন্তু ধীরে ধীরে এই খামারে দেশি ও উন্নত জাতের সাতটি গরু রয়েছে। গবাদিপশু পালনের ফলে তাদের সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরেছে। সন্তানদের লেখাপড়া এবং পরিবারের ব্যয় আর সম্পূর্ণ আয়ের সমর্থনে সম্পন্ন হয়েছে। এই বিপ্লবে মহিউদ্দিন ও কবিতা খাতুন পরিশ্রম ও নির্ভুল পরিকল্পনার ফলে সাফল্যের দিকে এগোচ্ছেন।
গরু পালনের প্রক্রিয়া ও সমস্যা
গরু পালনের জন্য তারা প্রথমে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। কবিতা খাতুন বলেন, ‘আমরা কেবল ঘরের কাজ করে থাকি নি। স্বামীর সঙ্গে এই খামার পরিচর্যা ও চেষ্টার জন্য আমাদের সময় ব্যয় করেছি। পরিশ্রমের ফল এখন আমরা পাচ্ছি।’
সর্বপ্রথম তারা সম্পদ কর্মকর্তাদের সাহায্যে গরু পালনের প্রক্রিয়া বুঝতে সমর্থন পান। কিন্তু আগে আরও অনেক সমস্যা ছিল। স্থানীয় সম্পদ বিষয়ে অভিযোগ তুলে বলে গরু পালনের জন্য বিশেষ প্রয়োজনীয় সম্পদ নেই। তবে পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফলে এই পরিবার সফল হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পরিবারের উন্নতি
গরু পালনের জন্য মহিউদ্দিন ও কবিতা খাতুন পরিবারের পরিবর্তন দেখছেন। তারা কিছু উন্নত জাতের গরু অর্জন করতে চাইছেন। এই প্রক্রিয়া দ্বারা আরও বেশি আয় ও স্বাবলম্বনের কথা চিন্তা করছেন। কবিতা খাতুন বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যতে গরু পালনের বিষয়ে আরও উন্নয়নের স্বপ্ন আছে। সম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে সহযোগিতা বিষয়ে আমাদের আরও আগ্রহ রয়েছে।’
এই পরিবার গরু পালনের মাধ্যমে নতুন আয় উৎস খুঁজে পেয়েছেন। সমস্যাগুলো পরিকল্পনা ও সঠিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। এখন তারা গরু পালনের কাজে নতুন কৃষকদের আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের আশা হচ্ছে গরু পালনের ফলে সমগ্র অঞ্চলে পরিবর্তন আসবে।
