রিতা মজুমদারকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে জমি বিক্রির টাকা লুটের জন্য
জম ব ক র র ট ক – বগুড়ার গাবতলীতে জমি বিক্রির টাকা লুটের উদ্দেশ্যে রিতা মজুমদার (৫০) নামক একজন গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে দুই আসামি, যাদের পরিণতি ঘটেছে পুলিশের তদন্তের পর।
গত ২০ মে রাতে রিতা ও তার স্বামী বিধান মজুমদার খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সোয়া ১২টার দিকে একটি শব্দ শুনে বিধানের ঘুম ভাঙে। কিছুক্ষণ পর স্ত্রীর কক্ষ থেকে চিৎকার শুনে তিনি টর্চলাইট নিয়ে বাইরে আসেন। তখন তার স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত ছিল।
পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, ঘটনার পর তদন্ত শুরু হয়। পরে গতকাল রাতে শাওন মিয়াকে আটক করা হয়। তার জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার স্বীকার করেন এবং আনোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করেন। আনোয়ারকেও গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, আনোয়ার ও শাওন একসঙ্গে ধান কাটতেন। প্রায় ১০ দিন আগে আনোয়ার জানতে পারেন নিহতের বাড়িতে জমি বিক্রির টাকা রয়েছে। সেই টাকা লুটের পরিকল্পনা করেন তারা।
হত্যার সময় তারা গরুর খাবার রাখার ঘরে লুকিয়ে ছিলেন। পরে গভীর রাতে শাওন নিহতের ঘরের দরজায় ধাক্কা দেয়। রিতা বাইরে আসার সময় আনোয়ার তাকে চিনে ফেলেন। এতে ভয় পেয়ে তিনি হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে তার গলায় কোপ দেয়। হত্যার ফলে তার মৃত্যু ঘটে। স্বামীর চিৎকার শুনে দুই আসামি পালিয়ে যায়। পরে হাসুয়া দুটি বিলের কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেয়। পুলিশের অভিযানে সেগুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ভুক্তভোগীর মেয়ে প্রার্থনা মজুমদার এবং ছেলে বিশ্বজিৎ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবি ঘর থেকে কোনও কিছু হারায়নি। এমনকি যে ঘরে মাকে হত্যা করা হয়েছে সেখানেও কিছু হারায়নি। তাহলে কেন তার মাকে হত্যা করা হলো, সে বিষয়ে তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
