জীবাণু যেভাবে যাচ্ছে খাবার টেবিলে
চিত্র-১: শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় ফল ধুয়া হচ্ছে নদী পানির মাধ্যমে
জ ব ণ য ভ ব য – মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর শ্যামবাজার ঘাটে বুড়িগঙ্গার পানি ব্যবহার করে শাকসবজি ও ফল ধুয়ে রাস্তার পাশে স্থাপন করেছেন শ্রমিকরা। যেহেতু দক্ষিণাঞ্চল থেকে ট্রলারে আসা তরমুজ ও পেয়ারা বিশেষ করে ধুয়া পানি ব্যবহার করা হচ্ছে যেন তারা তৈরি করে বাজারে তোলা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো ভ্যান ও মিনি ট্রাকে করে বিভিন্ন বিক্রি কেন্দ্রে পৌঁছে যাচ্ছে বিক্রেতারা।
চিত্র-২: যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে শাক ধুয়া হচ্ছে অপরিষ্কৃত পানির মাধ্যমে
বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে নামানো ট্রাক থেকে বুড়িগঙ্গার পানি ব্যবহার করে পাটশাক ও পুঁইশাক ধুয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। একটি ড্রামে কালো নোংরা পানি ব্যবহার করে লাউ, শসা, বেগুন ও টম্যাটো ধুয়ে থাকেন দুই যুবক। তারা জানান, কষ্টকর বোধ হয় সামান্য পানি আনা। তাই ড্রামে সংগৃহিত পানি ব্যবহার করা হচ্ছে কাদা-বালি ধুয়া হিসেবে।
চিত্র-৩: বুড়িগঙ্গার পানি ব্যবহার করে শসা ও আমড়া ধুয়া হচ্ছে
বুধবার সকাল ১০টার দিকে বুড়িগঙ্গার ধারে সিঁড়িতে শসা ও আমড়া ধুয়ে দেখা গেছে এক কিশোরকে। পানি ব্যবহার করে গায়ে লেগে থাকা কাদা পরিষ্কার করে তারা ঝুড়িতে রাখছেন। আগেও ঝুড়িটি বুড়িগঙ্গার নোংরা পানিতে ধুয়া হয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হল সেই বিষাক্ত পানি ব্যবহার করে আসা খাবার সেখান থেকে রাজধানী এলাকার খাবার টেবিলে পৌঁছে যাচ্ছে। শিল্পখানা, হাসপাতাল ও ড্রেন থেকে বর্জ্য মিশে নদীর পানি অপরিষ্কৃত হয়ে পড়েছে। তবে আজকাল কোথাও কোথাও প্রস্তুত করা খাবার পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা নেই। এ কারণে নদীপথে আসা সবজি কাদামাখা হয়ে যায়। তার পর নোংরা পানি দিয়ে ধুয়ে চকচকে করা হয়।
“আগে ছাড়া সবজির গায়ে লেগে থাকা কাদা ধুয়ে দেখা যায়। কিন্তু পরিষ্কার পানি পর্যাপ্ত না থাকায় অনেকে পাশের নোংরা পানি ব্যবহার করেন।”
বিশেষজ্ঞদের মতে এ ধরনের পানি থেকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। ই-কোলাই, সালমোনেলা, শিগেলা, কলেরা ও হেপাটাইটিস নামের বিষাক্ত জীবাণু সবজির গায়ে লেগে বাসাবাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যায
