তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৬ দফা দাবিতে রংপুরে সংহতি সভা | | বাংলাদেশ প্রতিদিন
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছয়টি দাবি তুলে রংপুরে সংহতি সভা
Patrikajournal.com – ত স ত মহ পর কল পন - রংপুরে শুক্রবার বিকালে শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে তিস্তা বাঁচাও ও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত হন, যাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, সাংবাদিক, ছাত্র ও যুবকদের সাথে শ্রমিক, কৃষক এবং সামাজিক সংগঠনগুলি অন্তর্ভুক্ত।
প্রকল্পের পরিস্থিতি ও দাবি
সভায় বক্তারা জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন ছাড়া উত্তরের দুই কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, প্রাণ এবং প্রকৃতি আর জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে না। তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন এবং আন্দোলন সংগঠন দ্বারা দীর্ঘ এক দশক ধরে তিস্তা পানির ন্যায্য হিসাব আদায়ের দাবিতে আন্দোলন চলছে।
চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোনো কার্য গ্রহণ করেনি।
প্রকল্পের অবরোধ করা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে চীনের রাষ্ট্রদূত রংপুরে এসে একটি সংহতি সভার আয়োজনে নির্দেশ দিয়েছেন যে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো বাধা নেই।
ছয়টি দাবির বিস্তার
বক্তাদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনার পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট দাবি রয়েছে। এগুলি হল: প্রকল্পের সময়বদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণা, তিস্তা কর্তৃপক্ষ গঠন, অভিজ্ঞ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সরকারিভাবে তিস্তা বন্ড চালু করা, বালু ও পাথর সংগ্রহের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য কৃষক সমবায় ও কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার দাবি।
সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী এবং সাধারণ সম্পাদক শফিয়া রহমান সহ বিভিন্ন প্রতিনিধি উপস্থিত হন। তিস্তা বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভায় জানানো হয় যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি বছর বন্যা-ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ভিটে-মাটি দ্বারা জীবিকা হারাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি না পেয়ে কৃষকরা ফসল উৎপাদন করতে পারছে না যা উত্তরের প্রাণ-প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
তিস্তা বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান, কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম সাইফ, রংপুর মহানগর জাসদের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ এবং বাংলার চোখের প্রতিষ্ঠাতা তানবীর হোসেন আশরাফী।