দুই দশক পর কুমিল্লার চিকন পটল ফিরেছে মাঠে, কৃষকের মুখে হাসি
দ ই দশক পর ক ম ল – বরুড়া উপজেলার মাঠে দুই দশক পর চিকন পটলের চাষ আবার শুরু হয়েছে। এই ফসলের উন্নত ফলন এবং বাজারে উন্নত দরের কারণে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এক সময় এই অঞ্চলে সরু পটল সাধারণ ফসল হিসেবে চাষ করা হত, কিন্তু জলাবদ্ধতা ও চারার সংকটের কারণে তা হারিয়ে যায়।
গত দুই বছর ধরে কৃষকদের এই ফসলে ফিরে আসার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, শিলমুড়ি দক্ষিণ ইউনিয়নের মনোহরা গ্রামে কৃষক এতিম আলী ও তার ভাই মো. সেলিম পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি উদ্ভাবিত পটলের চাষ করছেন।
এক সপ্তাহে প্রায় ৩০ কেজি পটল সংগ্রহ করছেন তিনি। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮০ কেজি বিক্রি করেছেন। স্থানীয় পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি গড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন।
পটল চাষে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এটি লাভজনক ফসল হিসেবে পুনরায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একই গাছ থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে ফলন নেওয়া সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের আয় বাড়ছে। বারি পটল ১ জাত রোপণের প্রায় ৯০ দিনের মধ্যে ফলন শুরু হয়। প্রতি গাছে গড়ে ৩৮০ টি ফল ধরে এবং হেক্টরপ্রতি প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টন ফলন পাওয়া যায়। অন্যদিকে বারি পটল ২ জাত আকারে বড় এবং হেক্টরপ্রতি প্রায় ৩০ টন ফলন দেয়।
স্থানীয় কৃষক অজিত কুমার দাশ একটি ২০ শতক জমিতে পটল চাষ করছেন। তিনি বলেন, এই ফসলে সার প্রয়োগ ও চাষের পদ্ধতি সঠিক হলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। নভেম্বর মাস চারা রোপণের জন্য উপযুক্ত সময়।
বারি কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল উদ্দিন জানান, এই পটল চাষে প্রতি টাকা বিনিয়োগে তিন থেকে সাড়ে তিন টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। এছাড়া জমিতে ১০ ভাগ পুরুষ গাছ রাখা জরুরি, যাতে সুষ্ঠু পরাগায়ন হয়।
বরুড়া উপজেলার বড় গোবিন্দপুর গ্রামে শাকিল হোসেনও ১০ শতক জমিতে পটল চাষ করছেন। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা ও চারার সংকটে এই ফসল কিছুকাল বন্ধ ছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসে বারি পটল জাতের চারা ও সার বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
পটলের ফলন আগামী অক্টোবর পর্যন্ত নিয়মিত হওয়ার আশা রেখেছেন কৃষকরা। এই ফসলের উপযুক্ত চাষের জন্য সুষম সার ও কৃত্রিম পরাগায়ন নিশ্চ
