Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

নজরদারির ফাঁকেই চলছে ‘প্রেসক্রিপশন বাণিজ্য’ | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

Published June 10, 2026 · Updated July 21, 2026 · By James Martinez - patrikajournal.com

Foto : James Martinez - patrikajournal.com

নজরদারির ফাঁকে চলছে অনৈতিক প্রেসক্রিপশন বাণিজ্য

Patrikajournal.com – নজরদ র র ফ ক ই চলছ - রাজধানীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে সামান্য পিঠব্যথার কারণে প্রতিদিনের প্রেসক্রিপশন লেখার সময় ছাড়া প্রায় ষাটোর্ধ্ব বয়সে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন চিকিৎসকের কাছে গেলেন। তাঁর প্রেসক্রিপশনে ছিল ৯টি ওষুধ—আন্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট, ঘুমের ওষুধ ও পেশি শিথিলকারী। বাবার পিঠের ব্যথার জন্য ৯টি ওষুধ কেন লাগবে জিজ্ঞাসা করেন তাঁর ছেলে আসিফ ইকবাল।

‘বাবার পিঠের ব্যথার জন্য ৯টি ওষুধ কেন লাগবে? তার ওপর অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে, অথচ জ্বর বা ইনফেকশন কিছুই নেই। চিকিৎসা নিতে এসেছি, নাকি কোনো ব্যবসার অংশ হয়েছি?’

নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতা এবং আইনের ফাঁক দিয়ে ওষুধ কোম্পানির বিপণন কার্যক্রম বাড়ছে। এ কারণে সাধারণ রোগীদের সম্পূর্ণ আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে দেশের ওষুধশিল্পকে টেকসই করতে হলে বাজারের নৈতিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ সম্পর্কে গবেষণা ফলাফল

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) গবেষণা বলছে যে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ের সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ খরচ হয় ওষুধে, আর ১৭ শতাংশ রোগনির্ণয় পরীক্ষায়। একটি পরিবারের প্রতি মাসে গড়ে চিকিৎসাব্যয় তিন হাজার ৪৫৪ টাকা হয়েছে, যা পারিবারিক ব্যয়ের সর্বাধিক ১১ শতাংশ।

‘অর্থের অভাবে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেকে চিকিৎসাই নিতে পারেন না।’

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের কাজে সরাসরি জড়িত। কিন্তু চিকিৎসকদের মাধ্যমে ওষুধ পৌঁছানো পদ্ধতি এবং স্বার্থের সংঘাত নিয়ে কোনো তথ্যভাণ্ডার বা সফটওয়্যার নেই। এ কারণে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়েছে।

আইনের ফাঁকে অদৃশ্য বাণিজ্যের বৃদ্ধি

২০২৩ সালে কার্যকর হয়েছে ওষুধ আইন। এতে ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের ওষুধ তৈরির জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু কোনো চিকিৎসককে নগদ অর্থ বা উপহার দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে নীতিমালা অনুযায়ী। প্রায় সব অভিযোগ মৌখিক আকারে প্রকাশিত হয়।

ঔষধ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে সমর্থ হচ্ছে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থার জনবল সীমিত এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ধীর গতি কারণে ওষুধ কোম্পানির অনৈতিক কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন।

নীতিমালা এবং বাণিজ্যের বৃদ্ধি

বাংলাদেশে ওষুধ কোম্পানির প্রচার কর্মপ্রণালী নিয়ন্ত্রিত করে কোড অফ ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটিং প্র্যাকটিসেস নামে একটি নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু এ নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যবসার প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে না।

ঔষুধ কোম্পানির অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হচ্ছে না স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে। ওষুধ খাত বর্তমানে দেশের অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ �