বৈশ্বিক সংকট খাতুনগঞ্জ বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে
ব শ ব ক স কট র – পূর্ব বাংলাদেশের প্রধান ভোগ্যপণ্য বাজার খাতুনগঞ্জ এখন বিশ্বজুড়ে বিপর্যস্ত হওয়ার প্রতিক্ষণে সরু গলি পর্যন্ত প্রভাব ফেলছে। একসময় এখানে ট্রাকের হর্নের চাপে কুলি-মজুরের হাঁক শোনা যেত। কিন্তু আজ তার উল্টো পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনের গম মাঠ থেকে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ফলে এই বাজারের অবস্থার একটি ভারী পরিবর্তন হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের পরিস্থিতি অস্থির
খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন সংকট প্রতিদিন এখানে আসছে। তাদের বাজার স্থিতিশীলতা হারালো সময় ছিল এবং ব্যবসায়ীদের লোকসান দূর্দশা নিয়ে প্রায় সব সময় হারাচ্ছে।
“খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে হলে সরকার প্রকাশ্যে পলিসি সাপোর্ট প্রণয়ন করতে হবে। ডলারের স্থিতিশীল রেট নিশ্চিত করা এবং এলসি মার্জিন সহজ করে আমদানি কার্যক্রম স্পষ্ট করতে হবে।” – রেজাউল করিম আজাদ, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সহসম্পাদক
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে গম, ভোজ্য তেল এবং মসলাজাতীয় পণ্যের বাজারদর অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পণ্য আমদানি করতে গিয়ে আমদানিকারকদের বেশি অর্থ খরচ করতে হয়েছে। জাহাজ ভাড়া ও ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম প্রায় কয়েক গুণ বেড়েছে। পণ্য পৌঁছানোর সময় আগে ১৫ থেকে ২৫ দিন বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার দর স্থিতিশীল হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় জ্বালানি দাম বৃদ্ধির চাপ খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ীদের উপর আঁকড়ে ধরেছে। ব্যবসায়ীরা পুঁজি আটকে গেছে। বার্ষিক চাহিদা বাড়তে চলেছে কিন্তু এলসি মার্জিন বৃদ্ধি হওয়ায় কিছু পণ্যে ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ মার্জিন দিতে হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নিজস্ব কৌশল অবলম্বন করছেন। অতিক্তি মজুত করা থেকে সরে আসে ব্যবসায়ীরা। তারা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও কনজ্যুমার গুডস সম্প্রসারণ করছেন। প্রয়োজনভিত্তিক পণ্য আমদানি দিকে ঝুঁকছেন।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ সূত্র
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ ১
