ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে ১৭ বছর ধরে বিমান চালানোর অভিযোগ
ভ য় ল ইস ন স ন – কানাডার বিমান সংস্থা এয়ার কানাডার এক সাবেক পাইলট জেফরি ওয়ালকে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহারের অভিযুক্ত করে গত মঙ্গলবার (২ জুন) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তদন্তে জানানো হয় যে তিনি ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া বা কোনো বাধ্যতামূলক পরীক্ষা সম্পন্ন না করে ৯০০টিরও বেশি অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন।
অন্টারিওতে সংবাদ সম্মেলনে পিল রিজিওনাল পুলিশের ডেপুটি চিফ মিলিনোভিচ বলেন, ‘এই তদন্ত এবং এর চারপাশের বিবরণগুলো একটি সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো শোনায়।’ তিনি উল্লেখ করেন যে ওয়াল পাইলট ইন কমান্ড পদে উন্নীত হয়েছিলেন, যেখানে বোয়িং ৭৬৭, ৭৭৭ এবং ৭৮৭ বিমান উড়িয়েছেন এবং প্রায় ৩ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বেতন নিয়েছেন। তবে তার এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স ছিল না বলে পুলিশ জানায়।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি অভিযুক্ত ব্যক্তি তার নিয়োগকর্তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা উভয়ের কাছেই তার যোগ্যতার মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনা করেছিলেন।’ এয়ার কানাডার বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানায় এবং তদন্ত গত জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার আগে ওয়াল চাকরি থেকে অবসর নেন।
২০২৫ সালে পাইলটের নথিপত্র যাচাই করার সময় ওয়ালের লাইসেন্সে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে। এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি তদন্তকারীদের জানায়। আগামী ২৯ জুন তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
এয়ার কানাডা জানায় যে নিরাপত্তার কোনো আপস করা হয়নি এই ঘটনার কারণে, কারণ সব পাইলটকে ছয় মাসে একবার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিতে হয়। প্রতি বছর একজন প্রত্যয়িত ট্রান্সপোর্ট কানাডা চেক পাইলটের সাথে ফ্লাইট চেক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়াও ট্রান্সপোর্ট কানাডা ওয়ালকে জরিমানা করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে জালিয়াতি এবং নকল সিল বা মার্ক রাখার অভিযোগে মোট সাতটি ফৌজদারি মামলা।
এয়ার কানাডার সব পাইলট তাদের উড়ন্ত দক্ষতা যাচাই করার জন্য একটি বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতি ছয় মাসে একবার প্রশিক্ষণ নিতে বাধ্য ছিল বলে জানানো হয়।
