ভূরুঙ্গামারীতে বাসে আগুনের ঘটনায় মামলা, ঢাকা ও কুড়িগ্রামগামী বাস চলাচল বন্ধ
ভ র ঙ গ ম র ত – কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর ঢাকা ও কুড়িগ্রাম যাওয়ার বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ঘটনাটি যাত্রীদের সম্পূর্ণ অসুবিধার সৃষ্টি করেছে। গত সোমবার রাতে উপজেলার আন্ধারীঝাড় এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার পর এক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ঢাকাগামী স্বাধীন পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয়।
বাস চলাচল বন্ধের প্রক্রিয়া
তদন্তের পর কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতি ও উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতি ভূরুঙ্গামারী রুটে সমস্ত বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ কারণে ঢাকা যাওয়ার যাত্রীদের কুড়িগ্রাম জেলা সদরে বাসে উঠতে হচ্ছে। কুড়িগ্রাম গমনে বাস ব্যবহারকারীদেরও অন্য যানবাহন ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মামলার বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন বলেন, “বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে বাস চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।”
আগুন দেওয়া ঘটনার তদন্ত
মামলায় নূরে আলম সিদ্দিকী মুকুট বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় সর্বমোট ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি হিসাবে ২৫ থেকে ৩০ জনকে নির্দেশিত করা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সাহার সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।”
বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার ফলে যাত্রীদের সময়, অর্থ ও শ্রম বেশি ব্যয় হচ্ছে। এ ঘটনার আগে তারা রাতের বাসের টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে, বাস ভূরুঙ্গামারীতে আসবে না। তাঁদের কুড়িগ্রাম শহর থেকে বাসে উঠতে হবে। ব্যাগ ও মালপত্র নিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কুড়িগ্রাম যেতে হওয়ায় তাঁদের বেড়া বাড়ছে।
