হিজরতের শিক্ষা আশুরার তাৎপর্য
হ জরত র শ ক ষ আশ – ইসলামের ইতিহাসে হিজরত একটি বিস্ময়করী ঘটনা হিসেবে স্থান পায়। এটি কেবল ভৌগোলিক স্থানান্তরের নাম নয়; বরং সত্য ও ন্যায় দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য স্বৈরাচারী ত্যাগ এবং নতুন সভ্যতা গড়ে তোলার এক মহিমান্বিত অধ্যায়। হিজরত শব্দের আভিধানিক অর্থ ত্যাগ করা, পরিত্যাগ করা বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাওয়া। ইসলামি পরিভাষায় এটি আল্লাহ ও তাঁর রসুলের আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে দীনের নিরাপত্তা ও প্রতিষ্ঠার জন্য আবাসভূমি ত্যাগ করে অন্য কোথাও গমন বোঝায়।
মক্কায় বিপর্যয় ও হিজরতের মূল কারণ
ইসলামের সূচনালগ্নে মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিগণ চরম নির্যাতনের শিকার হন। কুরাইশ নেতারা ইসলামের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে নিজেদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্বের জন্য হুমকি মনে করেছিল। মুসলমানদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, সামাজিক বয়কট, সম্পদ লুট এবং হত্যার ষড়যন্ত্র পর্যন্ত করা হয়। আল্লাহতায়ালা আগেই তাঁর নবীকে এ ষড়যন্ত্রের সংবাদ অবহিত করেন।
‘আর স্মরণ করুন, যখন কাফিররা আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল-আপনাকে বন্দি করে রাখতে, অথবা হত্যা করতে, অথবা দেশ থেকে বের করে দিতে। তারা ষড়যন্ত্র করছিল, আর আল্লাহও পরিকল্পনা করছিলেন। আর আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী’ (আল-আনফাল-৩০)
দারুণ-নাদওয়ার বৈঠকে গৃহীত তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে হত্যা পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়। সিরাতের প্রসিদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী, কুরাইশদের সভায় নাজদের এক বৃদ্ধ শাইখের ছদ্মবেশে ইবলিশ উপস্থিত হয়েছিল। যখন বিভিন্ন মতামত আলোচনা হচ্ছিল, তখন সে হত্যা পরিকল্পনাটিকে সবচেয়ে কার্যকর বলে সমর্থন করে। আবু জাহেল মূল পরিকল্পনাটি পেশ করেন। সে বলেন, প্রত্যেক গোত্র থেকে একজন করে শক্তিশালী যুবক নির্বাচন করা হবে। তারা সবাই একযোগে মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর আঘাত করবে। ফলে তাঁর রক্তের দায়িত্ব সব গোত্রের মধ্যে বণ্টিত হবে। বনু হাশিম সমগ্র কুরাইশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না। বাধ্য হয়ে রক্তপণ গ্রহণ করবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন কুরাইশ গোত্র থেকে নির্বাচিত যুবকদের একত্র করা হয়। তারা রাতের বেলা রসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘর ঘিরে ফেলে এবং অপেক্ষা করতে থাকে যে তিনি সকালে বের হলে সবাই মিলে একযোগে তাঁকে আক্রমণ করবে। রসুলুল্লাহ (সা.) হিজরতের নির্দেশ পান। তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সুরা ইয়াসিন-এর কিছু আয়াত তিলাওয়াত করেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় ষড়যন্ত্রকারীরা তাঁকে দেখতে পায়নি। তিনি আবুবকর (রা.)-কে সঙ্গে নিয়ে হিজরতের পথে রওনা হন। হিজরত শুর�
