Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

জাতিসংঘের মূলনীতিগুলো অনেকাংশে তুলে ধরে ব্রিকস

Published September 20, 2026 · Updated September 20, 2026 · By Barbara Hernandez - patrikajournal.com

Foto : Barbara Hernandez - patrikajournal.com

ব্রিকস সম্মেলনে অনুপস্থিতির অর্থনৈতিক মূল্য কতটা

Patrikajournal.com – জ ত স ঘ র ম লন - নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে কূটনীতি, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক কৌশল নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদের দৃষ্টিতে, এই সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিক আবেগ দিয়ে বিচার করার সুযোগ নেই। এর বাস্তব ফল কী দাঁড়ায়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং বর্তমানে ‘অলটারনেটিভস’-এর নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, বিদেশনীতি-সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তের পেছনে সাধারণত একাধিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বিবেচনা কাজ করে। তাই সম্মেলনে না যাওয়াকে সরাসরি সাফল্য বা ব্যর্থতা বলার আগে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ও হারানোর জায়গাগুলো খতিয়ে দেখা দরকার।

বিনিয়োগের প্রশ্নই মূল পরীক্ষা

বর্তমান সরকারের সামনে অর্থনীতির পরিসর বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে ব্রিকসের মতো বহুপক্ষীয় মঞ্চে উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য কী সুযোগ তৈরি করতে পারত, অথবা অনুপস্থিতি কোনো বিকল্প সুবিধা দিয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন জরুরি।

“এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হলো, না যাওয়ার ফলে আমরা আসলে কী পেলাম? বিশেষ করে অর্থনৈতিক কাঠামোর দিক থেকে।”

আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে—ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও বিনিয়োগ-আলোচনা স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না। যদি বড় পরিসরে বিনিয়োগ উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়, তাহলে সম্মেলনে না যাওয়ার ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়নি বলা সম্ভব হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন কোনো কার্যক্রম না দেখা গেলে বিষয়টি ভিন্নভাবে ভাবতে হবে।

এখানে ক্ষতি না হওয়া এবং বাস্তব লাভ পাওয়া এক বিষয় নয়। কোনো সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক ক্ষতি এড়ানো গেলেও সম্ভাব্য সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। সেই পার্থক্য বোঝার জন্য সময়, তথ্য এবং ধৈর্য প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ছিল কি না, সে বিষয়ে ইমতিয়াজ আহমেদের কাছে প্রত্যক্ষ তথ্য নেই। তবে এমন চাপ সত্যি হয়ে থাকলে তা তাঁর কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। কারণ, ব্রিকসে অংশ নেওয়া কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং ঘনিষ্ঠ।

ইন্দোনেশিয়া এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুদৃঢ় সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দেশটি ব্রিকসের সঙ্গে যুক্ত হতে দ্বিধা করেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাতও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের একটি, অথচ তারাও আমন্ত্রিত ছিল। ফলে শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ কার্যকর হয়েছে—এমন ব্যাখ্যা সহজে গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে পরিচালনা করছে, সেটিও স্পষ্টভাবে বোঝা কঠিন। তবে অন্য কোনো রাষ্ট্রের চাপ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে—এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রয়োজন হবে। অনুমাননির্ভর কূটনীতি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে না।

বাংলাদেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োজন

ভারত, চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করা উচিত নয়—এমন অবস্থানের কথা দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরছেন ইমতিয়াজ আহমেদ। তাঁর বক্তব্য, দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক প্রয়োজন এবং বহুমুখী সম্পর্কের সম্ভাবনাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

“বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকেন্দ্রিক হওয়া দরকার।”

ব্রিকসে যোগ দেওয়া বা না দেওয়া শুধু একটি সম্মেলনের উপস্থিতির প্রশ্ন নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিষয়টি দেখা প্রয়োজন। বাংলাদেশকে এমন একটি অবস্থানে থাকতে হবে, যেখানে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও জাতীয় স্বার্থের জায়গাটি পরিষ্কার থাকে।

আমন্ত্রণের ধরন ও ভারতের সম্ভাব্য ভূমিকা

বাংলাদেশের অনুপস্থিতির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আমন্ত্রণটি বিমসটেকের প্রধান হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। তবে এই ব্যাখ্যা পুরোপুরি সঠিক কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। আসল মূল্যায়নের জায়গা হলো—সিদ্ধান্তটির ফলে বাংলাদেশের কী অর্জন হয়েছে।

ইমতিয়াজ আহমেদ একটি সম্ভাবনার কথাও বিবেচনায় আনেন। ব্রিকসকে সাধারণভাবে রাশিয়া ও চীনকেন্দ্রিক কাঠামো হিসেবে দেখা হয়। ভারত একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। এই জটিল ভারসাম্যের মধ্যে ভারত হয়তো বাংলাদেশের সরাসরি সম্পৃক্ততা চাইনি। এমন হলে আমন্ত্রণের ধরন এমনভাবে নির্ধারিত হয়ে থাকতে পারে, যাতে বাংলাদেশের পক্ষে অংশগ্রহণ কঠিন হয়। তবে এটি নিশ্চিত তথ্য নয়; বরং যাচাইয়ের দাবি রাখে।

যদি এমন কোনো বাস্তবতা থেকে থাকে, তাহলে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা প্রয়োজন। সম্মেলনের সময় একাধিক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়। কূটনীতিতে এই ধরনের সাক্ষাতের গুরুত্ব অনেক, কারণ আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে পারস্পরিক আস্থা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

বিমসটেকের সীমাবদ্ধতার বাস্তবতা

ব্রিকস প্রসঙ্গের সঙ্গে বিমসটেকের কার্যকারিতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই সংগঠনের মাধ্যমে বড় বিনিয়োগ বা চোখে পড়ার মতো অগ্রগতির উদাহরণ খুব বেশি দেখা যায়নি। অনেকের ধারণা, বিমসটেকের গতিপথে ভারতের প্রভাব প্রবল। ফলে অন্য সদস্য দেশগুলোর প্রত্যাশা ও বাস্তব ফলাফলের মধ্যে ফারাক থেকে যেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য তাই একটি মঞ্চকে অন্যটির বিকল্প হিসেবে দেখার চেয়ে, সব ধরনের আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সুযোগকে বাস্তব স্বার্থের আলোকে ব্যবহার করা জরুরি। ব্রিকস, বিমসটেক কিংবা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই লক্ষ্য হওয়া উচিত নতুন বিনিয়োগ, বাজার সম্প্রসারণ এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক যোগাযোগ।

সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত মূল্যায়ন এখনো সময়ের হাতে। বিনিয়োগ আসে কি না, কূটনৈতিক যোগাযোগে কোনো শীতলতা তৈরি হয় কি না, এবং ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কতটা সক্রিয় থাকে—এসব প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটির অর্থ নির্ধারণ করবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is জ ত স ঘ র ম লন?

জ ত স ঘ র ম লন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does জ ত স ঘ র ম লন matter?

জ ত স ঘ র ম লন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.