Op Ed

প্রেম-ভালোবাসা ছিল, আছে, থাকবে

khrisna-edit-1788140264-3e33b4910e

সংস্কৃতির বুকে প্রেমের সুর: বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের নতুন সংকট

Patrikajournal.com – প র ম ভ ল ব স – আজকের বাংলাদেশে মোবাইল ফোন প্রায় প্রতিটি হাতে। স্ক্রিনে নাটক, সিনেমা, সিরিজ—বিনোদনের নতুন রূপ। কিন্তু এই ডিজিটাল যুগের এক প্রান্তে একদল মানুষ দাবি করছে যে প্রেম নিয়ে চলচ্চিত্র বানানো উচিত নয়। এমনকি আইনের দরজায়ও পৌঁছে গেছে তাদের আবেদন। প্রশ্নটা সরাসরি: রোমান্টিকতা কেন অপরাধ? প্রেম কেন বিপজ্জনক? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হয় সেই যুগে, যখন সংস্কৃতি ছিল এই জাতির রক্তে-প্রাণে।

মুক্তিযুদ্ধের পর সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ

দার্শনিকদের এক প্রচলিত বাক্য আছে—পরিবর্তনই জীবনের মূল প্রবাহ। তবে পরিবর্তন সবসময় একই রঙের নয়; তা শুভ হতে পারে, অশুভও। বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ ছিল সেই শুভ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ১৯৭১ সালের পর বাঙালির জীবনে ফিরে এসেছিল আলো। রবীন্দ্রনাথের আদর্শ পুনরায় জাগ্রত হয়েছিল, আর নজরুল ইসলামের “চল্ চল্ চল্” গানের মতো এক অগ্নি-সংগীত বেজে উঠেছিল প্রতিটি ঘরে-বাসায়।

তবে এই যাত্রা একদম মসৃণ ছিল না। মাত্র তিন বছরেরও কম সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল যাত্রা থেমে গেছে। কিন্তু থামেনি। শত্রুরা—যাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালিকে ছোট করা, তাদের ক্ষমতা-কেন্দ্রিত—তাদের সব অপপ্রচারণা, ষড়যন্ত্র, আস্ফালনের পরও বাংলাদেশ পরাজিত হয়নি। এর পেছনের শক্তি ছিল সংস্কৃতি। তখন সংস্কৃতি এত শক্তিশালী ছিল যে প্রতিক্রিয়াশীলদের অস্ত্র তার গায়ে ধাক্কা খেয়ে ফিরে যেত। আর জনগণ সংস্কৃতির বুকে আশ্রয় নিত, যেমন শিশু মায়ের কোলে।

সিনেমার স্বর্ণযুগ: প্রেম ছিল মুখ্য ভাষা

সেদিনের বাংলাদেশে গান, নাচ, কবিতা, চলচ্চিত্র, নাটক, থিয়েটার—সব মিলিয়ে সমাজ ঝলমল করত। নারী-পুরুষের মধ্যে সৌজন্যের দেয়াল ছিল, কিন্তু আজকের মতো কঠোর বিভেদের প্রাচীর ছিল না। চলচ্চিত্র ছিল প্রেমের শিক্ষা। রোমান্টিক সিনেমা শেখাত বিরহের সুন্দরতা। কোনো প্রেম-চলচ্চিত্রের বেদনা সারা রাত ঘুম ভাঙিয়ে দিত। কিন্তু কোনো সিনেমাই বিকৃত কাম জাগাত না, ধর্ষণের শিক্ষা দিত না। বরং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেমময় চলচ্চিত্র মানুষকে মানুষ হতে শেখাত।

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ইতিহাস শুরু হয়েছিল পদ্মাতীরে। জন্মেরও আগে লেখকের, “মুখ ও মুখোশ” নামের প্রথম ছায়াছবি নির্মিত হয়েছিল। ঢাকার মুকুল টকিজ (পরবর্তীতে আজাদ সিনেমা) এবং চট্টগ্রামের নিরালা (পরবর্তীতে রঙ্গম) সিনেমা হলে মুক্তি পায় এই ছবি। ব্যবসাসফল এই চলচ্চিত্রের পরিচালক আবদুল জব্বার খানকে বাংলাদেশি সিনেমার জনক বলা হয়।

বিলবোর্ডে রাজ্জাক কবরী, সুচন্দা, ববিতা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল—এদের নাম দেখেই সিনেমাহলে ঢুকে যেত দর্শক। পরবর্তীতে সুজাতা, আজিমরাও সেই ঐতিহ্যের অংশ হয়ে যান। এই যুগের সিনেমা ছিল প্রেমের, বিরহের, আশার।

ডিজিটাল যুগের বিচ্ছিন্নতা ও সংস্কৃতির ক্ষয়

বিগত এক দশকে ঘটে গেছে এক বিশাল পরিবর্তন। এর পেছনে দায়ী তখনকার শাসকদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ডিজিটাল বিশ্বের প্রভাব—দুটোই। বিশ্বব্যাপী মৌলবাদ, প্রতিবেশী দেশের উগ্রবাদ, পরাজিত পাকিস্তানের বিষ-নিশ্বাস—সবকিছুর ওপর পড়েও সরকার বা সমাজ তখন পাতা দিত না। লোকদেখানো অনুষ্ঠান, চোখের সুখের জন্য করা সংস্কৃতি—খাঁচার পাখির মতো দেখতে সুন্দর, কিন্তু ডানা ছিঁড়ে। সেই ডানা-কাটা পাখিকে খাঁচে রেখে আকাশে যেসব চিল-শকুনকে উড়ে আসতে দেওয়া হয়েছে, তারাই নীরবে দেশকে জাঙ্গাটে টেনে আনছে।

এখানে বিদায়ী ফ্যাসিস্ট বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কথা বলা হচ্ছে না। বলা হচ্ছে উদারনৈতিক বাংলাদেশের বর্তমান দুরবস্থার কথা। রাতারাতি, ভোজবাজির মতো, সব উদারতা লোপ পাবে—এটা কি কেবল মুখের কথা? এই মাটিতে লালন-সাঁই, বাউল, ফকির, দরবেশ, সুফিবাদ—এই সমস্ত ঐতিহ্য এভাবে আক্রান্ত হবে, এটা কি কেউ ভেবেছিলেন? কিন্তু তা হচ্ছে, হয়েছে।

প্রেম: জীবনের অপরিহার্য অংশ

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের হাতে মোবাইল ফোন। তারা শুধু চ্যাট করে? শুধু ফোনে কথা বলে? এক প্রজন্ম হয়তো তাই করে, কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মগুলো এই মাধ্যমে নাটক-সিনেমা দেখে। বিনোদন কোনো জাতির অধিকার নয়—সব জাতির অধিকার। মুদ্রিত মিডিয়া, সংবাদপত্র, বই-পুস্তক থাকবে, তেমনি চলচ্চিত্রও থাকবে।

প্রেম মানে কি শুধু এক পুরুষ ও এক বা একাধিক নারীর যৌনতা? যারা কবিতা পড়ে না, গান শোনে না, ছবি আঁকে না, বাঁশি বাজায় না—তারা বলতে পারে “প্রেম বন্ধ হোক”। কারণটা পরিষ্কার: যে মানুষ প্রেম করে না, সে চায় নিষ্ঠুরতম, হৃদয়হীন, পাষাণ-সমাজ। সে চায় সিনেমাতে প্রেম বন্ধ।

প্রেম তখনই জীবিত হবে, যখন রাধা-কৃষ্ণ, লাইলি-মজনুর মতো আমরা প্রেমময় জীবন ভালোবাসব।

মুশকিলটা এই যে, ডিজিটালের নামে বিচ্ছিন্ন ও একাকী হয়ে যাওয়া সমাজে এমন গুরুতর বিষয় তুলেও পার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ লাইলি-মজনু, শিরিন-ফরহাদ—এই নামগুলোই বলে দেয়, কারা ছিলেন, কোন সম্প্রদায়ের মানুষ-মানবী ছিলেন, প্রেমের জন্য পুরো বিশ্ব জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। যাদের প্রেমে অ্যালার্জি বা মানা আছে, তারা দূরে থাকলেই হবে।

বাংলাদেশ ও এর বিপুল জনগোষ্ঠী ভালোবাসার বাস করে এবং করবে। এটাই অটল সত্য। সংস্কৃতি যতদিন জীবিত থাকবে, প্রেমের সুর থামবে না।

Frequently Asked Questions

What is প র ম ভ ল ব স?

প র ম ভ ল ব স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does প র ম ভ ল ব স matter?

প র ম ভ ল ব স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *