হাকিম বদলেছে কিন্তু হুকুম বহাল রয়েছে
শাসনকর্তা বদলালেও শাসনের ধরন অপরিবর্তিত: জাতীয়তাবাদের শ্রেণি-মুখোশ
Patrikajournal.com – হ ক ম বদল ছ ক ন - কোনো জাতির মুক্তির আন্দোলন যখন পুঁজিবাদের ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখনই সেটি প্রকৃতপক্ষে প্রগতিশীল ও সুবিস্তৃত আকার ধারণ করে। কিন্তু বুর্জোয়া শ্রেণির জন্য পুঁজিবাদবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করা কাঠামোগতভাবেই অসম্ভব। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ উভয়েই প্রতিরোধের পথে ছিল—এটা ঐতিহাসিক সত্য। তবে ১৯৪৭ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই ওই জাতীয়তাবাদের পরিধি সংকুচিত হয়ে যায়, আর শোষণের পুঁজিবাদী প্রকৃতি প্রকাশ পেতে শুরু করে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ কাঠামো অপরিবর্তিত থেকে যায়; বদলে যায় কেবল সিংহাসনের অধিকারী।
১৯৭১: মুক্তি ও ক্ষমতার পুনরাবৃত্তি
১৯৭৫ সালের অভ্যুত্থানের পরে নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা ক্ষমতায় পৌঁছায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় উঠতি বুর্জোয়া ও সমাজতন্ত্রীরা একই আন্দোলনের অংশ ছিল; তবে চালিকাশক্তি ছিল সমাজতন্ত্রীদের। সংগ্রামকালে উঠতি বুর্জোয়ারা সমাজতন্ত্র-বিদ্বেষ প্রকাশের প্রয়োজন মনে করেনি, তা গোপনে রেখেছিল—যা স্বাধীনতার পরে প্রকাশ পায়। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেখা যায়, রাষ্ট্রক্ষমতা কর্তৃত্ব করেছে উঠতি বুর্জোয়ারাই, ঠিক যেভাবে ১৯৪৭-এ ঘটেছিল।
১৯৭৫-এর অভ্যুত্থানে মেহনতি মানুষের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক; একইভাবে ১৯৭১-এর যুদ্ধেও মূলত তাঁরাই অস্ত্র ধরেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা তাঁদের হাতে আসেনি—চলে যায় বুর্জোয়ার দখলে। এই ঘটনার পেছনে দুটি কারণ: বুর্জোয়ার নিজস্ব শক্তি এবং বামপন্থীদের কাঠামোগত দুর্বলতা। একই মুদ্রার দুই পৃষ্ঠ।
বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের অর্থনৈতিক মূল
বাঙালি উঠতি মুসলিম বুর্জোয়ারা একসময় হিন্দু প্রতিদ্বন্দ্বীদের দ্বারা অগ্রগতির পথে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল। পাকিস্তান সেই প্রতিবন্ধক দূর করবে—এই আশা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানে দেখা যায়, অবাঙালিরা নতুন প্রতিবন্ধক হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। এই নতুন বাধা দূর করার উদ্দেশ্যেই তারা দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা দাবি করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর তাদের বিকাশের পথ প্রশস্ত হয়। তারা নিজেদের জাতীয়তাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং সেভাবেই পরিচয় দেয়। তবে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না, তারা সেটি করেনি।
সংবিধানের চার মূলনীতি ও জাতীয়তাবাদের অগ্রাধিকার
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনটি লক্ষ্য উচ্চারিত হতো—ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র; চারটি নয়। স্বাধীনতার পরে জাতীয়তাবাদ যুক্ত হয় এবং সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চারটি মূলনীতির মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে। এটি তাৎপর্যবিহীন ঘটনা নয়। বুর্জোয়ারা শাসনক্ষমতা লাভের পর জাতীয় পরিচয়কে প্রধান করে তোলে, যাতে নিজেদের ও অন্যদের শ্রেণি-পরিচয় ঢাকা পড়ে। সংবিধানে 'সমাজতন্ত্র' থাকলেও তা জাতীয়তাবাদের অধীনে চলে যায়; জাতীয় সমাজতন্ত্রের নামে পুঁজিবাদের ছদ্মবেশ প্রদান করা হয়।
বুর্জোয়া শাসকদের অধীনে আমলাতন্ত্রসহ রাষ্ট্রের সব বাহিনী, প্রতিষ্ঠান ও আইনকানুন চলে আসে। পাশাপাশি বহিঃস্থ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর সাহায্য, ঋণ ও সমর্থন লাভ হয়। বুর্জোয়ারা নিজেই তুলনামূলকভাবে বিত্তবান ছিল; রাষ্ট্রক্ষমতা প্রাপ্তির পর তাদের সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশে যারা শাসন করে, তাদের রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিটিই নিজেদের 'জাতীয়' পরিচয়ে বিজ্ঞাপিত করে—আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতীয়তাবাদী বলে দাবি করে, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিও একই পরিচয় গ্রহণ করে।
বাম আন্দোলনের কাঠামোগত দুর্বলতা
অপরপক্ষে সমাজতন্ত্রীরা অনেক দিক থেকেই দুর্বল, এমনকি বিপন্ন অবস্থায় ছিল। উপমহাদেশে কমিউনিস্ট পার্টির উদ্ভব মেহনতি মানুষের আন্দোলনের ভেতর থেকে ঘটে না। ১৯২১ সালে তাসখন্দে এম এন রায়ের উদ্যোগে এর প্রতিষ্ঠা হয়। রায় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন জাতীয়তাবাদী স্রোতে; নিজেকে কমিউনিস্ট বললেও পুরোপুরি শ্রেণিচ্যুত ও সাম্যবাদী হতে পারেননি। ফলে ১৯২৯ সালেই কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল থেকে তাকে বহিষ্কৃত করা হয়।
অনেকটা বিপরীত দিক থেকে এসে মুজফফর আহমদরা দেশের ভেতর থেকেই পার্টি গঠন করেন। কিন্তু বিশাল ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ। ভৌগোলিক ও ভাষাগত দূরত্ব ছাড়াও আত্মপ্রকাশের সমস্যা ছিল। ব্রিটিশ বুর্জোয়া শাসকেরা কমিউনিস্টদের প্রতি যতটা কঠোর ছিল, জাতীয়তাবাদীদের ক্ষেত্রে ততটা ছিল না। জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে দেনদরবার, দর-কষাকষি, এমনকি ওঠাবসাও চলত; কমিউনিস্ট পার্টির নামগন্ধ তারা সহ্য করতে পারত না। প্রমোশনলোভী দেশীয় গোয়েন্দারা কমিউনিস্টদের হন্যে হন্যে খুঁজে বেড়াত, চিঠিপত্র খুলে পড়ত।
মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা: কারাগারে প্রথম সম্মিলন
পার্টি হিসেবে যাত্রার একেবারে শুরু থেকেই কমিউনিস্ট নেতাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়। ১৯২৯ সালে দায়ের করা হয় এক মামলা—নাম ছিল মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা। ওই মামলায় প্রথমবারের মতো কমিউনিস্ট নেতারা একত্র হওয়ার সুযোগ পান, যদিও বন্দী অবস্থাতেই। আদালতে যৌথ জবানবন্দি দানের অনুমতি ব্যবহার করে তাঁরা জনসমক্ষে বক্তব্য প্রকাশ করেন। বইপত্র, পত্রপত্রিকা প্রকাশ বা বাইরে থেকে আনার সুযোগ দেওয়া হতো না; নিজেরাও পত্রিকা প্রকাশ করতে পারতেন না। একপর্যায়ে পার্টিকে নিষিদ্ধই ঘোষণা করা হয়েছিল।
মীরাট ষড়য
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is হ ক ম বদল ছ ক ন?হ ক ম বদল ছ ক ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does হ ক ম বদল ছ ক ন matter?হ ক ম বদল ছ ক ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.