আর্জেন্টিনা ম্যাচের কথা মনে করিয়ে তোপের মুখে অ্যাঙ্গোলার কোচ
অ্যাঙ্গোলার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে শুরু মিসরের, আলোচনায় আলিউ সিসের অঙ্গভঙ্গি
Patrikajournal.com – আর জ ন ট ন ম য - ২০২৭ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় পায়নি মিসর। কায়রো ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলেও গোলশূন্য ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ফারাওদের। বল দখল ও আক্রমণের উদ্যোগে এগিয়ে থেকেও প্রতিপক্ষের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারেনি হোসাম হাসানের দল।
ম্যাচ শেষে পয়েন্ট হারানোর হতাশার সঙ্গে আলোচনার জন্ম দিয়েছে অ্যাঙ্গোলার কোচ আলিউ সিসের একটি আচরণ। ডাগআউটে বসে রেফারির দিকে তাকিয়ে তিনি দুই হাত আড়াআড়িভাবে ক্রস করে বিশেষ একটি ভঙ্গি করেন। মুহূর্তটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেটি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসে।
সিসের ভঙ্গি ঘিরে বিতর্ক
অনেকের চোখে আলিউ সিসের অঙ্গভঙ্গিটি ছিল মিসরের কোচ হোসাম হাসানের পূর্বের একটি ঘটনার অনুরূপ। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ৩২ গোলে হারের সময়, আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের পর একই ধরনের ইশারা করেছিলেন হাসান। সেই স্মৃতিই নতুন করে সামনে এসেছে কায়রোর ম্যাচের পর।
কেউ কেউ আবার সিসের আচরণকে মিসরের কোচিং স্টাফ কিংবা স্টেডিয়ামে উপস্থিত স্বাগতিক সমর্থকদের উদ্দেশে করা ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। যদিও মাঠের এই দৃশ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যার কথা জানা যায়নি, সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়েছে। ফলে ম্যাচের স্কোরলাইনকে ছাপিয়ে কোচদের অঙ্গভঙ্গিও দিনের উল্লেখযোগ্য আলোচনায় জায়গা করে নেয়।
দখল ছিল মিসরের, গোল ছিল না
মাঠের লড়াইয়ে মিসর বেশি সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। আক্রমণে তারা কয়েকবার প্রতিশ্রুতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে অ্যাঙ্গোলার রক্ষণ ছিল দৃঢ়। গোলের সামনে কার্যকর সিদ্ধান্তের অভাব এবং প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ—দুই মিলিয়ে স্বাগতিকদের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েও ফল দেয়নি।
মিসরের একটি গোল অবশ্য হয়েছিল, কিন্তু সেটি শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে ওঠেনি। মোস্তফা জিজোর করা গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল করেন রেফারি। পাস দেওয়ার সময় জিজোর অবস্থান পর্যালোচনার পরও সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। গোলটি অনুমোদন পেলে ম্যাচের গতিপথ ও গ্রুপের শুরুর হিসাব ভিন্ন হতে পারত, কিন্তু ভাগ্য সেদিন মিসরের পক্ষে ছিল না।
ঘরের মাঠে এমন ম্যাচে একটি গোল প্রায়ই প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা বদলে দিতে পারে। কিন্তু অ্যাঙ্গোলা নিজেদের রক্ষণভাগ গুছিয়ে রেখে মিসরের চাপ সামলেছে। তারা গোল না করলেও মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে কায়রো ছাড়তে পেরেছে, যা বাছাইপর্বের শুরুতে তাদের জন্য আত্মবিশ্বাসের উৎস হতে পারে।
সালাহকে তুলে বদলের চেষ্টা
জয়ের লক্ষ্যেই দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন করেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান। খেলার এক ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার সময় অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহকে মাঠ থেকে তুলে আহমেদ সায়েদ জিজোকে নামানো হয়। আক্রমণে নতুন গতি আনার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে ম্যাচের পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়।
পরে হাইথাম হাসানের জায়গায় মাঠে আসেন তরুণ ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকারিম। বদলি খেলোয়াড়দের মাধ্যমে মিসর শেষ দিকে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করলেও অ্যাঙ্গোলার রক্ষণে কাঙ্ক্ষিত ফাঁক তৈরি হয়নি। শেষ বাঁশি পর্যন্ত দুই দলই গোলশূন্য থাকায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে।
সালাহর মতো গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়কে ম্যাচ চলাকালে তুলে নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ে। তবে কোচের পরিকল্পনা ছিল নতুন শক্তি ব্যবহার করে স্থবির আক্রমণকে সচল করা। সেই পরিকল্পনা কাজে লাগেনি, আর মিসরকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে পরের ম্যাচে প্রথম জয়ের সন্ধানে নামার জন্য।
গ্রুপের শুরুতে হিসাব
মিসর ও অ্যাঙ্গোলা দুদলই প্রথম ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট করে পেয়েছে। এই ড্রয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা নিয়েছে মালাউই। ২-১ গোলের জয়ে তারা তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্রুপের শীর্ষে উঠে গেছে। দক্ষিণ সুদান এখনো কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে পারেনি।
বাছাইপর্বের শুরুতে একটি ম্যাচের ফল চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ না করলেও পয়েন্টের প্রতিটি হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মিসরের জন্য তাই অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে হার এড়ানো স্বস্তির হলেও ঘরের মাঠে জয় না পাওয়া বড় সুযোগ হারানোর সমান। অন্যদিকে, অ্যাঙ্গোলা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে।
মিসরের পরবর্তী লক্ষ্য হবে আক্রমণের ধার বাড়ানো এবং তৈরি হওয়া সুযোগগুলোকে গোলে রূপ দেওয়া। অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে ম্যাচটি দেখিয়েছে যে শুধু বলের নিয়ন্ত্রণ রাখলেই ফল নিশ্চিত হয় না; রক্ষণভাগ ভাঙতে প্রয়োজন নির্ভুল শেষ পাস, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং গোলের সামনে কার্যকারিতা।
কায়রোর এই রাত তাই মিসরের জন্য মিশ্র অভিজ্ঞতার। মাঠে আধিপত্য ছিল, সুযোগও এসেছিল, কিন্তু জয় আসেনি। আর মাঠের বাইরে আলিউ সিসের হাতের ইশারা সেই হতাশাজনক ড্রকে আরও আলোচিত করে তুলেছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is আর জ ন ট ন ম য?আর জ ন ট ন ম য is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does আর জ ন ট ন ম য matter?আর জ ন ট ন ম য matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.