এবার যুদ্ধক্ষেত্রে মানবাকৃতির রোবট নামাচ্ছে চীন
চীনের সামরিক পরিকল্পনায় নতুন অধ্যায়: মানবাকৃতির রোবটকে যোদ্ধার আসনে বসানোর প্রস্তুতি
Patrikajournal.com – এব র য দ ধক ষ ত - গত মাসে চীনের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব মানবাকৃতির রোবট প্রতিযোগিতায় দর্শকেরা দেখেছেন রোবটদের লাফানো, বক্সিং করা, নাচানো — এমনকি কিছু দ্রুতগতির মডেল ১০০ মিটার দৌড়ে উসাইন বোল্টের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। মিম-টেমপ্লেটের মতো হোঁচট খেতে খেতেও দর্শকদের উচ্ছ্বাস থামেনি। কিন্তু এই উৎসবমুখী প্রদর্শনীর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পরই চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) নিজেদের সামরিক ক্যালেন্ডারে এক নতুন পাতা খুলে ফেলেছে।
প্রদর্শনী থেকে প্রশিক্ষণক্ষেত্রে: পিএলএর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া
পিএলএ ডেইলি, চীনের সামরিক বাহিনীর সরকারি সংবাদপত্র, গবেষকদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়েছে — গবেষণাগারে তৈরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে দ্রুত সামরিক প্রশিক্ষণক্ষেত্রে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে রোবটকে 'যোদ্ধা' হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায়। এই আহ্বান কেবল প্রতীকী নয়; এর পেছনে একটি সুসংগঠিত গবেষণা-পরিকল্পনার দীর্ঘশ্বাস কাজ করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ১০০টিরও বেশি চীনা সামরিক ক্রিয়া-সংক্রান্ত নোটিশ, একাডেমিক গবেষণাপত্র, পেটেন্ট আবেদন, সরকারি প্রকাশনা, সরকারি নথি এবং প্রতিরক্ষা কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে। আগে প্রকাশ্যে না আসা এসব নথি থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে চীনের সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন চাহিদার বিপরীতে হিউম্যানড রোবট পরীক্ষা করছে। একই সঙ্গে রোবট ও তাদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে, এবং সেনাদের সঙ্গে এসব রোবট কীভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে — তা নিয়েও গবেষণা চলছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে এই গবেষণার গতি আরও তীব্র হয়েছে।
গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু: পরিবেশ-সচেতনতা ও ডেটা-নির্মাণ
গবেষণার প্রধান ক্ষেত্রগুলোতে রয়েছে রোবটের চারপাশের পরিবেশ বোঝার ক্ষমতা, বিভিন্ন বস্তু ধরতে ও নাড়াচাড়া করার সক্ষমতা, এবং রোবট প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য বা ডেটা তৈরি। এই তিনটি স্তম্ভ একসাথে কাজ করলেই একটি রোবট বাস্তব পরিবেশে কার্যকরী হতে পারে।
বাণিজ্যিক বাজারে চীনের অবস্থান এই সামরিক প্রকল্পের ভিত্তি। বিওএফএ গ্লোবাল রিসার্চের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী হিউম্যানড রোবটের মোট সরবরাহের প্রায় ৯৫ শতাংশই ছিল চীনা নির্মাতাদের। এই আধিপত্য পিএলএকে দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া একটি শিল্পখাতের সুবিধা দিচ্ছে। একই সঙ্গে চীন নিজের সামরিক প্রয়োজন অনুযায়ী এই প্রযুক্তির ব্যবহার-মডেলও তৈরি করছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পাঠ: স্বয়ংক্রিয়তার নতুন মাত্রা
চীনের রোবটভিত্তিক প্রতিরক্ষা গবেষণা দেখাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তি কত দ্রুত রূপান্তরিত হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নেভিগেশন ও লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম আধা-স্বয়ংক্রিয় ড্রোন গোয়েন্দা নজরদারি ও হামলার ধরন বদলে দিয়েছে। একই যুদ্ধে রোবট ব্যবহার করা হয়েছে সরবরাহ পৌঁছে দিতে এবং আহতদের উদ্ধার করতেও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে বিবেচিত এই যুদ্ধ থেকে চীনের সামরিক বাহিনী কীভাবে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছে, তা নিয়ে রয়টার্স এর আগেই প্রতিবেদন করেছে। এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মানুষকে যেখানে পাঠাতে চাই না, সেখানে যাওয়াই প্রথমে রোবট তৈরি করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর একটি। একটি রোবট হারানোর অর্থ যদি একটি মানুষের জীবন বাঁচানো হয়, তাহলে রোবটকে ব্যবহারযোগ্য বা ত্যাগযোগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
উক্তবাহ এই যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস (ইউসিএলএ)র মেকানিক্যাল অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ডেনিস হং-এর।
নগর যুদ্ধে 'কমব্যাট রোবট': ছয়-রোবট পরিকল্পনা
ইতিমধ্যেই আরবান ওয়ারফেয়ার বা নগর যুদ্ধে হিউম্যানড রোবট কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, সে সম্পর্কে চীনের একটি পরিকল্পনা বা ধারণা তৈরি হয়েছে। এই পরিকল্পনায় ছয়টি 'কমব্যাট রোবট' থাকবে — এগুলোর মধ্যে হিউম্যানড রোবট, রোবট কুকুর অথবা চালকবিহীন যান অন্তর্ভুক্ত। এগুলোকে দুটি আক্রমণকারী দলে ভাগ করা হবে। স্থলবাহিনীর সেনাদের সঙ্গে সমন্বয় করে রোবটগুলো শত্রুর দখলে থাকা একটি ভবন তল্লাশি করবে; তারা তলা ধরে, এরপর কক্ষ ধরে ভবনটি পরিষ্কার করবে।
২০২৫ সালের আগস্টে এনইউডিটির শিয়ানভিত্তিক একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের গবেষকেরা প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এই পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। গবেষণায় এমন একটি আরবান অ্যাটাকার বাহিনীর মডেল তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে যেসব সরঞ্জাম পাওয়া যেতে পারে, সেগুলো ব্যবহারের কথা ধরা হয়েছিল। তবে গবেষণাপত্রে রোবটগুলোর কখন গুলি চালানোর অনুমতি থাকবে, কী ধরনের অস্ত্র তারা বহন করবে, কিংবা বেসামরিক মানুষের মুখোমুখি হলে তারা কী করবে — সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
সীমাবদ্ধতা ও অজানা প্রশ্ন
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পিএলএর প্রধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজি (এনইউডিটি) রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। আর রয়টার্স এমন কোনো প্রমাণও পায়নি যে চীন ইতিমধ্যে অস্ত্রসজ্জিত কোনো হিউম্যানড রোবটকে
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is এব র য দ ধক ষ ত?এব র য দ ধক ষ ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does এব র য দ ধক ষ ত matter?এব র য দ ধক ষ ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.