Patrikajournal
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সনদ অনুমোদনে বাংলাদেশ প্রস্তুত হবে কবে

Published September 2, 2026 · Updated September 2, 2026 · By Mary Davis - patrikajournal.com

Foto : Mary Davis - patrikajournal.com

১৯৮৪ সালের স্বাক্ষরের পরেও বাংলাদেশের সিডও-অনুমোদনের পথে অটুট বাধা

Patrikajournal.com – সনদ অন ম দন ব ল দ - জাতিসংঘ ঘোষিত নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সম্পর্কিত কনভেনশন — যাকে সংক্ষেপে সিডও বলা হয় — বর্তমানে বিশ্বের ১৮৯টি দেশের অনুমোদন পেয়েছে। তবুও এই সনদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরণে এখনো কিছু দেশের নাম তালিকায় দেখা যায়, আর সেই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সিডও-তে স্বাক্ষর করলেও চার দশকেরও বেশি সময় পরেও অনুচ্ছেদ ২ এবং ১৬(১)(গ)-এর ওপর দেশটির 'সংরক্ষণ' বহাল আছে। ফলে পারিবারিক আইন, উত্তরাধিকার ও বিবাহবিচ্ছেদ ক্ষেত্রে নারীর সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা নারী-অধিকার কর্মী ও আইনজীবীদের কাছে গভীর উদ্বেগের কারণ।

দুই ধারা, দুই বড় বাধা

সিডও-র অনুচ্ছেদ ২ রাষ্ট্রকে নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে নীতি প্রণয়ন ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকারে বাধ্য করে। অন্যদিকে অনুচ্ছেদ ১৬(১)(গ) বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও দায়িত্বের কথা বলে। বাংলাদেশে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রথার প্রভাবের কারণে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ধারার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি কার্যকর করা হয়নি। জাতিসংঘ সিডও কমিটি বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের এই সংরক্ষণ সনদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

রাজনৈতিক-সামাজিক মানসিকতাই আসল সমস্যা

আন্তর্জাতিক সিডও দিবস সামনে রেখে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম নারীর প্রতি বৈষম্য ও বর্তমান নীতিগত বাধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সমস্যাটি কৌশলগত নারী আন্দোলনের নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক মানসিকতার। তার মতে, নারী-পুরুষের সম্পত্তিতে সম-অধিকার নিশ্চিত হলে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, আর নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে ব্যক্তিগত জাতিগত অধিকারও সংরক্ষিত হবে।

কৌশলগতভাবে আমরা পিছিয়ে নেই। এটা বাস্তবতা যে সামাজিক মানসিকতা, সামাজিক পটভূমি, সামাজিক সংস্কৃতি, রাজনৈতিক কমিটমেন্ট—এই জাতিগতগুলোতে নারীর অধিকার রক্ষার বিষয়টি শতভাগ অনুকূলে না থাকা এই অবস্থা হচ্ছে।

আইন সংশোধন কি যথেষ্ট?

এই দুই অনুচ্ছেদ পূর্ণাঙ্গভাবে মানতে আইন সংশোধনই কি একমাত্র পথ? এই প্রশ্নের উত্তরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইফফাত আরা গিয়াস বলেন, অনুচ্ছেদ ১৬(১)(গ) পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নিতে শুধু একটি আইন সংশোধন করলে চলবে না। বিদ্যমান লৈঙ্গিকভিত্তিক বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইনগুলোর সংস্কার প্রয়োজন — তালাকের অধিকার, বৈবাহিক সম্পত্তিতে নারীর সমতা এবং সন্তানের অভিভাবকত্বে পিতা-মাতার সমান আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তবে এ জন্য ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার প্রয়োজন নেই; রাষ্ট্র ধর্মীয় কাঠামো বজায় রেখেও লৈঙ্গিকসমতা-সংগত বিধিবদ্ধ সংস্কার করতে পারে।

তিনি আরও জানান, সরাসরি অনুচ্ছেদ ২ ও ১৬(১)(গ) প্রত্যাহার করলেই রাতারাতি উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তন হবে, তা নয়। কারণ উত্তরাধিকারের বিষয়গুলো সিডও-র ১৬(১)(h) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে অনুচ্ছেদ ২-এর পূর্ণ রূপায়ণ রাষ্ট্রকে নারীর অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতার মধ্যে ফেলবে।

মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশে প্রায়ই বলা হয়, ধর্মভিত্তিক পারিবারিক কাঠামোর কারণে সিডও-র পূর্ণ প্রয়োগ সম্ভব নয়। কিন্তু তিউনিসিয়া, মরক্কো ও তুরস্কের মতো মুসলিমপ্রধান দেশগুলো তাদের নিজস্ব পারিবারিক আইনের সংস্কার ঘটিয়ে লৈঙ্গিকসমতা নিশ্চিতকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০০৪ সালে মরক্কো তাদের পারিবারিক আইন বা মুদাওয়ানা সংশোধন করে নারী ও পুরুষকে পরিবারের সমান দায়িত্ব দেয়, নারীদের তালাকের অধিকার সহজ করে এবং বহুবিবাহ প্রায় অসম্ভব করে তোলে। ১৯৫৬ সালের পারিবারিক আইন সংস্কারের পর তিউনিসিয়া ২০১৭ সালে অমুসলিম পুরুষদের সঙ্গে মুসলিম নারীদের বিয়ের আইনি বাধা দূর করে এবং সিডও সনদের সব ধরনের রিজার্ভেশন প্রত্যাহার করে নেয়।

প্রস্তুতির প্রশ্ন এখনো খোলা

এই তুলনামূলক প্রেক্ষাপটে নারী-অধিকার কর্মী, আইন বিশেষজ্ঞসহ অনেকে প্রশ্ন তুলছেন: সিডও সনদ অনুমোদনে বাংলাদেশ প্রস্তুত হবে কবে? চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ বজায় রাখার ফলে দেশের পারিবারিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া পশ্চাৎমুখী হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পূরণে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির অভাবই এখন সবচেয়ে বড় বাধা, আর এই বাধা দূর না হলে সিডও-র মূল উদ্দেশ্য — নারীর সম-অধিকার ও সম-দায়িত্ব — বাংলাদেশে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা দূরেই থাকবে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is সনদ অন ম দন ব ল দ?

সনদ অন ম দন ব ল দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does সনদ অন ম দন ব ল দ matter?

সনদ অন ম দন ব ল দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.