সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে কি জায়গা হবে: নারী যোদ্ধাদের
সিরিয়ার নতুন সামরিক কাঠামোয় নারী যোদ্ধাদের ভবিষ্যৎ: অনিশ্চয়তায় ওয়াইপিজে
Patrikajournal.com – স র য় র স ন ব - হাসাকা প্রদেশের পাহাড়ি ঢাল বেয়ে সূর্যাস্তের নীল-সবুজ আলো ছড়িয়ে পড়ছে। সেই আলোর দিকে মুখ করে দৌড় দিচ্ছেন কয়েকজন তরুণী — কারও হাতে একে-৪৭ রাইফেল, কারও ক্যামেরা। শত্রু নয়, লক্ষ্য। এই দৃশ্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক বড় প্রশ্ন: সিরিয়ার নতুন সামরিক কাঠামোতে কি জায়গা পাবেন ওয়াইপিজে (কুর্দি নারী সুরক্ষা ইউনিট)র যোদ্ধারা? আইএসবিরোধী যুদ্ধে ইয়াজিদি সম্প্রদায়কে উদ্ধার এবং রোজাভা নামে পরিচিত স্বাধীনশাসিত অঞ্চলের প্রতিরক্ষায় যে ভূমিকা পালন করেছিল এই নারী বাহিনী, তা বিশ্বজুড়ে পরিচিত। কিন্তু আজ সেই পরিচয়ের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবছে।
এসডিএফ ভাঙার সিদ্ধান্ত ও নারীদের বাদপাঠ
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে — সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ভেঙে নতুন সামরিক বাহিনীতে একীভূত করা হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এসডিএফের পুরুষ যোদ্ধারা সেনাবাহিনীতে পদ পাবেন। কিন্তু ওয়াইপিজের নারী যোদ্ধাদের ক্ষেত্রে নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নারীদের সামরিক বাহিনীর যোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ধারণাটাই মৌলিকভাবে প্রত্যাখ্যাত।
সিরিয়ার প্রেসিডেনশিয়াল টিমের প্রতিনিধি মোস্তফা আবদি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের আইন অনুযায়ী নারীরা রাষ্ট্রের যেকোনো উচ্চ পদে নিযুক্ত হতে পারেন, তবে সামরিক বাহিনীর যোদ্ধা হিসেবে কাজ করার সুযোগ তাদের নেই। এরপর ওয়াইপিজের নারীদের শুধু প্রশাসনিক পদের প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা এককভাবে তা ফিরিয়ে পাঠিয়েছেন। যুদ্ধের মাঠে অস্ত্র ধরে যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের এখন কাগজ-কলমে বসতে বলা হচ্ছে — এই পরিস্থিতিই বর্তমান সংঘাতের মূল বিন্দু।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের মাধ্যমে সিরিয়ায় একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। এরপর দেশকে একীভূত করার লক্ষ্যে নতুন সরকার এসডিএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। প্রায় এক বছর ধরে এই আলোচনা চললেও তেমন অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এসডিএফ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আকস্মিক সামরিক অভিযান শুরু করলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। চাপে পড়ে এসডিএফ সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে নিজেদের অন্তর্ভুক্তিতে সম্মত হয়।
গত ২৭ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওয়াইপিজে জানিয়েছে, তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে যাতে ওয়াইপিজেকে একটি পৃথক ও সুসংগঠিত সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একীভূত করা যায়। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। অপেক্ষা ছাড়া এই নারীদের হাতে আর কিছু নেই।
যুদ্ধের মাঠ থেকে প্রশাসনিক টেবিলের দিকে
হাসাকার ওয়াইপিজে রোশান ব্রিগেডের সদস্য, ২২ বছর বয়সী সিনা জুডি, এক ব্যারাকে বসে দলের সঙ্গীদের কুর্দি ভাষার বিপ্লবী স্লোগান আরবিতে অনুবাদ শিখিয়েছিলেন। তাঁর গল্পের শুরু ২০১৪ সালে — আইএস দেইর আজ-জোর দখল করলে ছোট্ট জুডি ঘর হারান। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, নারীদের একা বাইরে বের হওয়ারও অনুমতি ছিল না। তবে আইএসের নৃশংসতা তাঁকে যুদ্ধে নামানোর কারণ ছিল না। আসল মোটিভেশন আসে ২০১৮ সালে, যখন এসডিএফ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তুরস্কের স্থল অভিযান শুরু হয়। তখন জুডির বয়স মাত্র ১৪ বছর।
২০১৯ সালে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে, আইএসের পতনোন্মুখ খেলাফতের বিরুদ্ধে দেইর আজ-জোর মুক্তির যুদ্ধে অংশ নেন তিনি।
আইএস যোদ্ধারা নারীদের অস্ত্রের মুখোমুখি হতে ভয় পেত। সেই লড়াইয়ে আমার অনেক সহযোদ্ধা নিহত হন।
জুডির কাছে ওয়াইপিজেতে থাকা মানেই স্বাধীনতা — তবে সেই স্বাধীনতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কঠোর সামরিক জীবন। ওয়াইপিজে সদস্যদের 'ক্যাডার' বলা হয়। চাকরির চুক্তি নেই, নির্দিষ্ট ছুটি নেই, সামান্য দৈনিক ভাতা পান। পুরো জীবন সংগঠনের আদর্শ ও সংগ্রামের জন্য উৎসর্গ। জুডি বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছিলেন এবং পরিবারও সিদ্ধান্তটি মেনে নিয়ে উৎসাহিত করেছিল।
আমি নিজের জীবনের লক্ষ্য নিজেই বেছে নিয়েছিলাম।
পরিবারের ঐতিহ্য ও নারী-সমতা
২০ বছর বয়সী সুসান বিরহাতও ওয়াইপিজের সদস্য। ২০২২ সালে ১৬ বছর বয়সে তিনি এই সংগঠনে যোগ দেন। তাঁর বাবা পুরুষ বাহিনী পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজে)র কর্মকর্তা ছিলেন, আর তাঁর চার বোনও অস্ত্র ধরেছেন। বিরহাতের মতে, ওয়াইপিজেকে অবশ্যই সামরিক বাহিনীতে যোদ্ধার ভূমিকা দেওয়া উচিত। তাঁর যুক্তি — সেনাবাহিনীতে নারীর উপস্থিতি সামরিক বাহিনীর কঠোরতা ও সহিংসতার লাগাম টেনে ধরতে পারে। তবে একই নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করতেও আপত্তি নেই তাঁর।
আমাদের বাহিনী স্বীকৃতি পেলে আমরা পুরো সিরিয়ার নারীদের স্বাধীনতার জন্য কাজ করব।
আলোচনার মর্যাদাহানি ও রাজনৈতিক দূরত্ব
ওয়াইপিজের মুখপাত্র রুকসান মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিক আলোচনার পর এপ্রিল মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র একবার বৈঠক হয়েছে। সেখানে ওয়াইপিজেকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে, সে বিষয়ে একটি প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছিল। প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি। পরবর্তী বৈঠকের অনুরোধও উপেক্ষা করা হয়েছে।
ওয়াইপিজের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা হলো যোদ্ধার পরিবর্তে শুধু প্রশাসনিক কাজে যুক্ত হওয়া। কিন্তু ওয়াইপিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল বিরোধ শুধু সামরিক কাঠামো নিয়ে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে রোজাভার রাজনৈতিক আদর্শের গভীর পার্থক্য। সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই স্বাধীনশাসিত অঞ্চলে গণতন্ত্র এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত আছে — একটি এমন কাঠামো যা নতুন সরকারের কেন্দ্র
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স র য় র স ন ব?স র য় র স ন ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স র য় র স ন ব matter?স র য় র স ন ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.