Bangladesh

ছেলে নিখোঁজ, পুলিশ পরিচয়ে ফোন, বিকাশে ৮ হাজার টাকা খোয়ালেন বাবা

Abdul-Muhaimin-Radhin

চশমা কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ কলেজছাত্র, পুলিশ পরিচয়ে ফোন করে বাবার কাছ থেকে নেওয়া হলো ৮ হাজার টাকা

Patrikajournal.com – ছ ল ন খ জ প ল – বগুড়ার কলেজছাত্র আব্দুল মুহাইমিন রাধিনের সন্ধান না মেলার উদ্বেগের মধ্যেই তাঁর পরিবারের সঙ্গে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। নিখোঁজের তিন দিন পর একজন ব্যক্তি নিজেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক পরিচয় দিয়ে রাধিনের বাবাকে ফোন করেন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ছেলেটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে জানিয়ে জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসার খরচের কথা বলা হয়। পরে বিকাশে ৮ হাজার টাকা পাঠানোর পর ওই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। থানায় যোগাযোগ করে পরিবার জানতে পারে, ফোনকারী ব্যক্তি পুলিশের সদস্য নন।

রাধিন বগুড়ার সৈয়দ আহমেদ কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি নিশিন্দারা উপশহরে। তিনি স্কুলশিক্ষক আব্দুর রহিমের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের জন্য ঘটনাটি দ্বিগুণ কষ্টের হয়ে উঠেছে—একদিকে তরুণ ছেলের কোনো খোঁজ নেই, অন্যদিকে তার অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

১৪ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বন্ধ মোবাইল

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চশমা কেনার উদ্দেশ্যে নিশিন্দারা উপশহরের বাসা থেকে বের হন রাধিন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মাকে ফোন করে জানান, রিকশায় বাসায় ফিরছেন। সেটিই ছিল পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ যোগাযোগ। এর পর থেকেই তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি বাড়িতে ফেরেননি।

পরদিন ছেলে নিখোঁজ থাকার ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তাঁর বাবা আব্দুর রহিম। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে প্রথম কয়েকটি ঘণ্টা ও দিন পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উৎকণ্ঠার সময় হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ফোনকল বা নতুন তথ্য দ্রুত আশা তৈরি করতে পারে। সেই মানসিক অবস্থাকেই প্রতারকেরা কাজে লাগিয়েছে বলে পরিবারের ধারণা।

পুলিশ শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার একটি চশমার দোকান এবং আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করছে। রাধিন কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে দেখা হয়েছিল কি না কিংবা বাসায় ফেরার পথে তাঁর গতিবিধি কী ছিল—এসব বিষয়ে ধারণা পেতেই ফুটেজগুলো দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ভিডিওতে তাঁকে অপহরণের কোনো দৃশ্য মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এলেঙ্গা থানার এসআই পরিচয়ে ফোন

১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার আগেই আব্দুর রহিমের কাছে একটি ফোন আসে। কলকারী নিজেকে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই আরিফ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, রাধিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং দ্রুত ওষুধ কেনার জন্য টাকা প্রয়োজন।

“১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার আগে একজন ফোন করে নিজেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই আরিফ পরিচয় দেন। তিনি জানিয়েছেন আমার ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার।”

খবরটি পাওয়ার পর আব্দুর রহিম সাধারণ ডায়েরির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সোহাগ ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর বক্তব্য, ওই নম্বরটি যাচাই করে নম্বরটি সঠিক বলে জানানো হয়েছিল এবং তাঁকে এলেঙ্গায় যেতে বলা হয়। এরপর ছেলের চিকিৎসার ব্যয় মেটানোর কথা ভেবে বিকাশে ৮ হাজার টাকা পাঠান তিনি।

“এরপর আমি জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সোহাগ ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি ফোন নম্বরটি যাচাই করে বলেন, নম্বরটি সঠিক আছে। আমাকে এলেঙ্গা যেতে বলেন। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করে ছেলের চিকিৎসার খরচের জন্য বিকাশে ৮ হাজার টাকা পাঠাই।”

এলেঙ্গার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ওই নম্বরে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার সঙ্গে কথা বলে পরিবার নিশ্চিত হয়, পুলিশের কোনো সদস্য এমন ফোন করেননি। তখনই তাঁদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, নিখোঁজ ছেলের খোঁজের আশঙ্কা ও উদ্বেগকে কেন্দ্র করে প্রতারণা করা হয়েছে।

“এলেঙ্গার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ওই নম্বরে আবার ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানায় যোগাযোগ করে জানতে পারি, ওই ব্যক্তি পুলিশের কেউ নন। আমি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছি।”

পরিবারের ক্ষোভ, তদন্তে কললিস্টের অপেক্ষা

ছেলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পাওয়ায় আব্দুর রহিম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরি করার পরও ছেলের সন্ধানে প্রত্যাশিত সহায়তা পাননি। এর মধ্যেই প্রতারণার মাধ্যমে ৮ হাজার টাকা হারাতে হয়েছে তাঁকে।

“জিডি করার পরও ছেলের সন্ধানে পুলিশের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছি না। এর মধ্যে প্রতারক চক্রের কারণে ৮ হাজার টাকা হারালাম।”

এসআই সোহাগ ফকির জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে এখন পর্যন্ত রাধিনকে জোর করে তুলে নেওয়া বা অপহরণের কোনো আলামত দেখা যায়নি। তবে এতে নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাঁর ফোনটি ঘটনার দিন থেকেই বন্ধ থাকায় কললিস্ট পাওয়া গেলে তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

“সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে না তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে। তাঁর মোবাইল ফোন ওই দিন থেকেই বন্ধ। মোবাইলের কললিস্ট পাওয়া গেলে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।”

এ ধরনের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের কাছে পরিচয়দাতা ব্যক্তির নাম, কর্মস্থল ও যোগাযোগ নম্বর যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কেউ পুলিশ বা হাসপাতালের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জরুরি অর্থ দাবি করলে সংশ্লিষ্ট থানার বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিত নম্বরে আলাদাভাবে যোগাযোগ করে তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে রাধিনের পরিবারের প্রধান প্রত্যাশা এখন একটিই—কলেজছাত্র রাধিনকে দ্রুত নিরাপদে খুঁজে পাওয়া।

Frequently Asked Questions

What is ছ ল ন খ জ প ল?

ছ ল ন খ জ প ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ছ ল ন খ জ প ল matter?

ছ ল ন খ জ প ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *