Bangladesh

উচ্ছেদ অভিযানের চার মামলায় ২০০০ আসামি, মিরপুর থানার সামনে হকার ও স্বজনদের ভিড়

mrpr-thn_aTcKOVp

মিরপুর উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে চার মামলায় প্রায় ২ হাজার আসামি

Patrikajournal.com – উচ ছ দ অভ য ন র – রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা করা হয়। পুলিশ বলছে, চার মামলায় প্রায় ২ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই অজ্ঞাতনামা। এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মিরপুর-১০ ও মিরপুর-২ এলাকার ফুটপাতে হকারদের দেখা যায়নি। মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাত ছিল প্রায় ফাঁকা। সেখানে ভাঙা চৌকি, তার, আলো লাগানোর ফোল্ডারসহ উচ্ছেদের পর পড়ে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী দেখা যায়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সেগুলো সরানোর কাজ করেন।

থানার ফটকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজনদের ভিড়

মিরপুর মডেল থানার সামনে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের ভিড় ছিল। অনেকেই পরিবারের সদস্যের খোঁজ নিতে থানায় আসেন। কয়েকজন নারীকে কান্না করতেও দেখা যায়।

হানিফ নামের এক ব্যক্তি বলেন, বুধবার রাতে তাঁর জামাই রুবেলকে বাসা থেকে পুলিশ নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাঁকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রুবেলের খোঁজ নিতে তিনি থানার সামনে অপেক্ষা করছিলেন।

“বুধবার রাতে আমার জামাই রুবেলকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। তাঁকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।”

আরেক ব্যক্তি জানান, তাঁর ছেলে সেলিমকে পুলিশ আটক করেছে। থানা থেকে একটি প্রিজন ভ্যান বের হওয়ার সময় অপেক্ষমাণ স্বজনেরা সেটির পেছনে ছুটে যান এবং ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন।

তিন মামলা মিরপুরে, একটি কাফরুলে

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা করেছে সংস্থাটি। পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকেও পৃথক মামলা হয়েছে। তিন মামলার প্রতিটিতে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের একটি গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে সেখানে এজাহার দেওয়া হয়েছে। ওই মামলাতেও ৪০০ থেকে ৫০০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনার পর মিরপুর-১০ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গোলচত্বর থেকে মিরপুর-২ অভিমুখী সড়কেও হকারদের উপস্থিতি ছিল না।

যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভাসমান দোকান সরিয়ে পথচারীদের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত করার কথা ছিল।

হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচের দোকান অপসারণের সময় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন লাগে। এতে মার্কেটের পাঁচটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হকার ও দোকানিদের একাংশের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে; কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

গাড়িতে আগুন ও যান চলাচলে বিঘ্ন

সংঘর্ষের মধ্যে সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়। এ কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ পর্যন্ত সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

দুপুরের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে উচ্ছেদ অভিযান আবার শুরু হয়। মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়।

সাধারণ প্রশ্ন

কয়টি মামলা হয়েছে? মিরপুর মডেল থানায় তিনটি ও কাফরুল থানায় একটি—মোট চারটি মামলা হয়েছে।

কতজনকে আসামি করা হয়েছে? চার মামলায় মোটামুটি ২ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই অজ্ঞাতনামা।

উচ্ছেদ অভিযান কোথায় চালানো হয়? মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেট এবং মিরপুর-১৩ পর্যন্ত ফুটপাত এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়।

Frequently Asked Questions

What is উচ ছ দ অভ য ন র?

উচ ছ দ অভ য ন র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does উচ ছ দ অভ য ন র matter?

উচ ছ দ অভ য ন র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *