নেছারাবাদে প্রতিবন্ধী কার্ড পেতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
Patrikajournal.com – ন ছ র ব দ প রত – পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় প্রতিবন্ধী কার্ডের আবেদন ও ফরম জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অসহায় পরিবারের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, অনলাইন আবেদন থেকে শুরু করে কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে কথিত দালালের কাছে অর্থ দিতে হচ্ছে। কেউ কেউ সাড়ে চার হাজার টাকা, আবার কেউ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
সরকারি এই সেবার জন্য কার্যালয়ে কোনো ফি লাগার কথা নয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দীন। ফলে দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিবারকে অর্থ দিতে বাধ্য করার অভিযোগটি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ফরম জমা দিতে এসে অভিযোগ
রোববার উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ফরম জমা দিতে না পেরে অভিযোগ জানান সোহাগদল ইউনিয়নের শেখপাড়া গ্রামের সাহানা নামে এক নারী। তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলের কার্ড করানোর জন্য স্থানীয় হাফিজা আক্তার নামে এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। সাহানার বক্তব্য, হাফিজা আক্তার এলাকায় ঘুরে বিভিন্ন মানুষের প্রতিবন্ধী কার্ডের কাজ করে দেন বলে পরিচিত।
সাহানা জানান, অনলাইনে আবেদন করার কাজের জন্য তিনি প্রথমে ৫০০ টাকা দেন। প্রায় দুই সপ্তাহ পর হাফিজা আক্তার একটি ফরম নিয়ে আসেন এবং সেটি অফিসে জমা দেওয়ার জন্য আরও ২ হাজার টাকা চান বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে কার্ড পাওয়ার সময় আরও ২ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়ার প্রস্তুতি ছিল বলে সাহানার দাবি।
তাঁর স্বামী করাতকলে অল্প বেতনে চাকরি করেন উল্লেখ করে সাহানা বলেন, এত টাকা দেওয়া তাঁদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানাকে বিষয়টি জানান। প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা নিতে গিয়েও অর্থের সংকটে পড়তে হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার দাবি
সাহানার অভিযোগ, তাঁর এলাকার আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও ফরম জমা দেওয়ার নামে প্রথমে ৫০০ টাকা এবং পরে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যারা অর্থ দিয়েছেন, তাঁদের কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক কম জটিলতা দেখা গেছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রশাসনিক অনুসন্ধান প্রয়োজন।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের স্বামীর সঙ্গে হাফিজা আক্তারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্কের কারণেই দালালচক্রের কার্যক্রম সহজ হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে রেহানা বেগম এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।
রোববার কার্যালয়ে গিয়ে হাফিজা আক্তারকে পাওয়া যায়নি। সেখানে আকলিমা নামে আরেক নারীকে কয়েকটি প্রতিবন্ধী কার্ডের ফরমসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে দেখা যায়। এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে চাইলে তিনি দ্রুত সরে যান। ফলে তাঁর কাছে থাকা কাগজপত্রের উদ্দেশ্য কিংবা তিনি কারও হয়ে কাজ করছিলেন কি না, সে বিষয়ে তখন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সমাজকর্মীর বক্তব্য
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেহানা বেগমের স্বামী প্রথমে তাঁর স্ত্রী অসুস্থ বলে কথা বলতে নিষেধ করেন। পরে রেহানা বেগম তাঁকে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যেতে বললে তিনি চলে যান।
রেহানা বেগম বলেন, তিনি কোনো দালালকে চেনেন না এবং অফিসে ফরম জমা পড়লে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারেই কাজ করেন। তাঁর স্বামীর সঙ্গে হাফিজা আক্তারের কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এ অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।
“আমি কোনো দালালকে চিনি না। অফিসে এসে ফরম জমা দিলেই স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করি। দালালদের সঙ্গে আমার স্বামীর কোনো সখ্য নেই।”
কার্ড পেতে অফিসে টাকা লাগে না
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দীন জানান, তিনি নতুন দায়িত্বে এসেছেন এবং অফিসের কাজে বাইরে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিস্তারিত জানাতে পারেননি। তবে অভিযোগটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে প্রতিবন্ধী কার্ডের আবেদন, ফরম পূরণ বা কার্ড পাওয়ার জন্য সমাজসেবা কার্যালয়ে কোনো টাকা লাগে না।
“আমি নতুন এসেছি। অফিসের কাজে একটু বাইরে আছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। প্রতিবন্ধী ফরম পূরণসহ কার্ড পেতে অফিসে কোনো টাকা লাগে না।”
এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারীদের জন্য বিষয়টি জানা গুরুত্বপূর্ণ যে, সরকারি কার্যালয়ের নির্ধারিত সেবা নিতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত সহায়তা ও পরিচয়সংক্রান্ত সেবা দরিদ্র পরিবারের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সেখানে মধ্যস্বত্বভোগীর কারণে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হলে প্রকৃত উপকারভোগীরা পিছিয়ে পড়তে পারেন।
কার্যালয়ে কথিত দালালদের ফরম নিয়ে অবস্থান এবং আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু ব্যাখ্যা চান স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, কারা আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার কাজে যুক্ত, কারও সঙ্গে অফিসের কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ আছে কি না এবং কোনো অর্থ আদান-প্রদান হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ন ছ র ব দ প রত?
ন ছ র ব দ প রত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ন ছ র ব দ প রত matter?
ন ছ র ব দ প রত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

