বগুড়ায় অচল পলিশেডে দুই বছর ধরে আটকে কৃষিজমি, ক্ষতির মুখে চাষিরা
Patrikajournal.com – ব এড স র প রকল প – নিরাপদ সবজি, ফল ও ফুল উৎপাদনে আধুনিক সেচব্যবস্থা ও পলিশেড ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে বগুড়ায় সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের পাঁচটি পলিশেড স্থাপনের দুই বছর পরও সেগুলো কার্যকর হয়নি। চাষাবাদ শুরু হওয়ার বদলে প্রায় পাঁচ বিঘা জমি কার্যত ব্যবহারের বাইরে চলে গেছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি।
বগুড়া সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নের মহিষবাথান ও বালুপাড়া, গোকুল ইউনিয়নের গোকুল, মোকামতলা ইউনিয়নের গনেশপুর এবং দেউলী ইউনিয়নের পাকুড়তলা গ্রামে এই পাঁচটি পলিশেড নির্মাণ করা হয়। এলাকাগুলোতে দেখা গেছে, স্থাপনাগুলোর অনেকটিতে আগাছা জন্মেছে, কোথাও পলিথিন ছিঁড়ে ঝুলছে বা মাটিতে পড়ে আছে। লোহার কাঠামোতেও মরিচার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
সেচ আছে, সময়মতো পানি নেই
প্রকল্পের আওতায় কৃষকের জমিতে ডিপ টিউবওয়েল ও সোলারচালিত সেচব্যবস্থা বসানো হয়েছে। তবে কৃষকদের বক্তব্য, এ ব্যবস্থার উৎপাদিত পানি প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায় না। তাঁদের অভিযোগ, সকাল ১০টার আগে পাম্প সচরাচর কাজ করে না এবং দুপুরের কিছুক্ষণ পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। শীতের দিনে সূর্যালোক কমে গেলে সমস্যাটি আরও প্রকট হয়।
ফসলের জমিতে নিয়মিত ও সময়মতো সেচ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পলিশেডভিত্তিক চাষে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, আলো ও পানির ব্যবস্থাপনা একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। সেচযন্ত্র চললেও যদি পানি তোলার সময় কৃষিকাজের প্রয়োজনের সঙ্গে না মেলে, তাহলে চারা রোপণ ও পরিচর্যার পুরো পরিকল্পনাই ব্যাহত হতে পারে।
কৃষকদের আরও অভিযোগ, নিম্নমানের সোলার প্যানেল, যন্ত্রপাতির ত্রুটি এবং বিদ্যুৎ-সংযোগ না থাকার কারণে স্থাপনাগুলো ব্যবহারের উপযোগী হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় ফগার মেশিন ও ফ্যান চালানো সম্ভব হয়নি বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
চারা নষ্ট, আয়ের সুযোগও হারালেন কৃষক
মহিষবাথান গ্রামের কৃষক আলফাজ উদ্দিন প্রকল্পের জন্য নিজের ২৯ শতাংশ জমি দিয়েছেন। দুই বছর আগে তাঁর জমিতে পলিশেড ও সেচযন্ত্র স্থাপন করা হলেও তিনি কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন শুরু করতে পারেননি। চলতি বছরে আগাম টমেটো উৎপাদনের আশায় তিনি তিন হাজার চারা রোপণ করেছিলেন। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও সেচের অভাবে সেগুলো মারা গেছে বলে তিনি জানান।
পলিশেডে বিদ্যুৎ-সংযোগ না থাকায় ফগার মেশিন ও ফ্যান চালানো যায়নি। ফলে সেখানে চাষাবাদ করা সম্ভব হয়নি।
আলফাজ উদ্দিনের অভিযোগ, প্রতিটি স্থাপনায় প্রায় এক কোটি টাকা করে বাজেট ধরা হলেও মাঠপর্যায়ে ২০ লাখ টাকার বেশি কাজ হয়েছে বলে তাঁর মনে হয়নি। এই অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্পের ব্যয় ও কাজের পরিমাণ নিয়ে স্পষ্ট ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
গনেশপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ৪৪ শতাংশ জমিতেও পলিশেড ও সেচপাম্প বসানো হয় দুই বছর আগে। বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি সেখানে ফসল ফলাতে পারেননি। এক মাস আগে সাড়ে তিন হাজার টমেটোর চারা লাগিয়েও একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।
এই জমিতে কলা চাষ করতে পারলে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় করতে পারতাম। সরকারি প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার পর দুই বছর ধরে জমিটা পড়ে আছে। এক মাস আগে সাড়ে ৩ হাজার টমেটোর চারা লাগিয়েছিলাম। সেগুলোও মারা গেছে।
হেলাল উদ্দিনের ভাষ্য, প্রকল্পটি তাঁর লাভের পথ তৈরি করার বদলে লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি স্থাপনা হওয়ায় তিনি নিজ উদ্যোগে পলিশেড সরাতেও পারছেন না; আবার সেটি ব্যবহার করে পরিকল্পিত চাষও করতে পারছেন না।
বিএডিসি আমাকে লাভের বদলে ক্ষতির মুখে ফেলেছে। এখন এমন অবস্থা সরকারি প্রকল্প বলে পলিশেড সরাতেও পারছি না, আবার ঠিকমতো ফসলও চাষ করতে পারছি না।
কাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
সরকারের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ ও ব্যয়ের এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল পানিসাশ্রয়ী সেচপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানো। কিন্তু পলিশেডগুলো অচল থাকায় এর প্রত্যাশিত সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছায়নি। জমির ব্যবহার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চারা, শ্রম ও সম্ভাব্য আয়ের ক্ষতিও তাঁদের বহন করতে হচ্ছে।
মাগুরার আদর্শ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম রাহিদ জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠান প্রতিটি পলিশেড নির্মাণের জন্য বিএডিসির কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ-সংযোগ, ফগার মেশিন, সোলার প্যানেল এবং অন্য কিছু কাজ পৃথক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিল।
তবে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পলিশেড দুই বছরের মধ্যে কেন ব্যবহারের অনুপযোগী হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেচব্যবস্থা, প্যানেল, বিদ্যুৎ-সংযোগ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির গুণগত মান কাদের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে এবং কাজ গ্রহণের আগে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী আসমাউল বিন হোসেন জানিয়েছেন, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকল্পে মোট ব্যয়ের সঠিক অঙ্ক তিনি জানাতে পারেননি।
‘পানিসাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি এবং পলিশেড নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি, ফল ও ফুল উৎপাদন প্রকল্পের’ পরিচালক মাহবুবর রহমান বলেন, অর্থসংকটের কারণে প্রকল্পে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এখন বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পলিশেডগুলো চালুর কথা তিনি জানিয়েছেন।
কৃষকদের প্রত্যাশা, শুধু স্থাপনা চালুর ঘোষণা নয়, সেচের নির্ভরযোগ্যতা, বিদ্যুৎ-সংযোগ, ফ্যান ও ফগার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করে দ্রুত চাষাবাদের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। তা না হলে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত অবকাঠামোই তাঁদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির প্রতীকে পরিণত হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ব এড স র প রকল প?
ব এড স র প রকল প is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ব এড স র প রকল প matter?
ব এড স র প রকল প matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

