Bangladesh

কাপ্তাইয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ, আসছে তিন উপজেলা থেকেও

kpti_qOYuyan

কাপ্তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে

Patrikajournal.com – ক প ত ইয় ব ড়ছ ড – রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। শুধু কাপ্তাইয়ের বাসিন্দারাই নন, আশপাশের রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলা থেকেও অনেকে চিকিৎসার জন্য এখানে আসছেন। ফলে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে নিয়মিত রোগীদের পাশাপাশি ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

গত সাত দিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন এবং একজন এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি না হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

আক্রান্তদের মধ্যে নারী বেশি

সাম্প্রতিক সাত দিনের ২৫ জন রোগীর মধ্যে ১৩ জন নারী, ১০ জন পুরুষ এবং ২ জন শিশু। এ সময় কোনো রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হয়নি। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এ পর্যন্ত হাসপাতালে ৪৪৯ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় ২৫ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। রোগীর অবস্থা জটিল হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি রাখা হয়।

শয্যা আছে, তবে জনবল ও সরঞ্জামের সংকট

ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কর্মীর স্বল্পতা হাসপাতাল পরিচালনায় চাপ বাড়াচ্ছে। রোগীর সংখ্যা আরও বাড়লে সেবা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনবলের পাশাপাশি কিছু স্যালাইন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর পর্যাপ্ততা নিয়েও সংকট রয়েছে। হাসপাতালটির মোট শয্যা ৫০টি হলেও এখানে ডেঙ্গুর পাশাপাশি নানা ধরনের সাধারণ ও জরুরি রোগীও চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে সীমিত সক্ষমতার মধ্যে একাধিক ধরনের রোগীকে সামাল দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লা অং মারমা বলেন, গত মাসের তুলনায় এখন ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। কাপ্তাইয়ের বাইরে রাঙ্গুনিয়া, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসায় হাসপাতালের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।

“ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।”

প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর

ডেঙ্গু মোকাবিলায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সতর্কতার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশে জমে থাকা পানি এড়িয়ে চলতে হবে। ব্যবহৃত পাত্র, টব, ড্রাম বা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।

জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা বা দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা সম্ভব হয়।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী প্রচার কার্যক্রম চালু হয়েছে। প্রতি শনিবার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

“ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করে সেখানে মশকনিধন ওষুধ ছিটানোর ব্যবস্থা করা হবে। হটস্পটগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা যেন নির্ধারিত স্থানে আবর্জনা ফেলেন, সে ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পরে ওই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত থাকলে মশার প্রজননস্থল কমাতে সহায়তা হতে পারে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন খলিল

চিৎমরম বাজার ঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. খলিল (৩৮) ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন। তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

“আমার ডেঙ্গু পজিটিভ। আমি উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। এখানে চিকিৎসার মান ভালো।”

কাপ্তাই ও সংলগ্ন উপজেলা থেকে রোগীর আগমন বাড়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সক্ষমতা ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পৃথক শয্যার ব্যবস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল, স্যালাইন, ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত হলে রোগীদের সেবা দেওয়া আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে বাড়ি ও জনসমাগমস্থল পরিচ্ছন্ন রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার কামড় এড়াতে সচেতনতা বাড়ানো ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Frequently Asked Questions

What is ক প ত ইয় ব ড়ছ ড?

ক প ত ইয় ব ড়ছ ড is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ক প ত ইয় ব ড়ছ ড matter?

ক প ত ইয় ব ড়ছ ড matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *