Islam

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত ও দোয়া

Namaj

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত, সময় ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

Patrikajournal.com – ত হ জ জ দ ন ম—রাতের শেষ ভাগে ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে নফল নামাজ আদায় করা হয়, তাকে তাহাজ্জুদ বলা হয়। নিরিবিলি এই সময়ে বান্দা একান্তভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া, ক্ষমা ও প্রয়োজনের কথা জানাতে পারেন। নফল ইবাদত হলেও তাহাজ্জুদের ফজিলত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

তাহাজ্জুদ ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ নয়। তাই এটি আদায়ের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। অন্তরের আন্তরিকতা, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের রবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ পান।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময়

এশার নামাজের পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদের সময় থাকে। তবে ঘুমানোর পর রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশে উঠে এ নামাজ আদায় করা উত্তম। দুই রাকাত করে যতটুকু সামর্থ্য হয় পড়া যায়। সাধারণভাবে দুই, চার, ছয় বা আট রাকাত পড়া হয়।

ত হ জ জ দ ন ম পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক রাকাতসংখ্যা নেই। সময় কম থাকলে দুই রাকাতও আন্তরিকতার সঙ্গে আদায় করা যেতে পারে। নামাজ শেষে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে দোয়া করাও বৈধ ও গুরুত্বপূর্ণ।

তাহাজ্জুদের নিয়ত

নিয়ত মূলত অন্তরের ইচ্ছা। তাই তাহাজ্জুদ পড়ার আগে মনে স্থির করলেই নিয়ত হয়ে যায় যে, আল্লাহর জন্য দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হবে। মুখে আরবিতে নিয়ত বলা বাধ্যতামূলক নয়।

তবে কেউ মুখে প্রচলিত নিয়ত পড়তে চাইলে বলতে পারেন:

نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ لِلَّهِ تَعَالَى رَكْعَتَيْ صَلَاةِ التَّهَجُّدِ، مُتَوَجِّهًا إِلَى الْقِبْلَةِ الشَّرِيفَةِ، اللَّهُ أَكْبَرُ

বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকআতাই সালাতিত তাহাজ্জুদি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলাল কিবলাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

অর্থ: আমি কাবা শরিফের দিকে মুখ করে আল্লাহ তাআলার জন্য দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম। আল্লাহ মহান।

নামাজে কী পড়বেন

তাহাজ্জুদের নামাজ সাধারণ নফল নামাজের মতোই আদায় করা হয়। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে কোরআনের যেকোনো সুরা বা আয়াত পড়া যায়। দীর্ঘ কিরাত পড়ার সুযোগ থাকলে তা পড়া যেতে পারে, তবে ছোট সুরা পড়লেও নামাজ শুদ্ধ হবে।

সিজদা ও নামাজ শেষে মন খুলে দোয়া করা এ ইবাদতের বিশেষ সৌন্দর্য। গুনাহ মাফ, হেদায়েত, সুস্থতা, রিজিকের বরকত, পরিবার ও পরকালের কল্যাণ চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যায়।

রাতের ইবাদতে কোরআনের দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) গভীর রাতে জেগে সুরা আলে ইমরানের শেষাংশের আয়াত তিলাওয়াত করতেন বলে হাদিসে বর্ণিত আছে। এসব আয়াতে আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা, জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয় এবং ক্ষমাপ্রার্থনার শিক্ষা রয়েছে।

رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ، رَبَّنَا إِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ، رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ

অর্থ: হে আমাদের রব, আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র; আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা ইমানের আহ্বান শুনে ইমান এনেছি। অতএব আমাদের গুনাহ ক্ষমা করুন, ত্রুটিগুলো দূর করুন এবং নেককারদের সঙ্গে আমাদের মৃত্যু দিন।

তাহাজ্জুদের সময় পড়ার দোয়া

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের নামাজে দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর প্রতি বিশ্বাসের ঘোষণা সম্বলিত দোয়া পড়তেন। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত দোয়াটির শুরু হলো:

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ لَكَ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ

এর অর্থ: হে আল্লাহ, সব প্রশংসা আপনার জন্য। আসমান-জমিন ও এর মধ্যে যা কিছু আছে, সবকিছুর পরিচালনাকারী এবং মালিক আপনি। আপনি আসমান ও জমিনের নুর। আপনি সত্য, আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য, আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য এবং কিয়ামত সত্য।

দোয়ার শব্দ পুরোপুরি মনে না থাকলে ভেঙে পড়ার কারণ নেই। ত হ জ জ দ ন ম-এর সময় আল্লাহর কাছে নিজের ভাষায় ক্ষমা, রহমত ও কল্যাণ চাওয়াও ইবাদতের অংশ। অন্তরের বিনয় ও আন্তরিকতাই এখানে সবচেয়ে মূল্যবান।

তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

তাহাজ্জুদ পড়তে কি ঘুমানো জরুরি?

তাহাজ্জুদ সাধারণত ঘুম থেকে জেগে আদায় করা হয়। তবে এশার পর রাতের বেলায় যে নফল নামাজ পড়া হয়, তা রাতের নফল ইবাদত হিসেবে সওয়াবের কাজ।

তাহাজ্জুদ না পড়লে কি গুনাহ হবে?

না, তাহাজ্জুদ নফল নামাজ। এটি না পড়লে গুনাহ হয় না। তবে নিয়মিত আদায় করলে আল্লাহর নৈকট্য ও অতিরিক্ত সওয়াবের আশা করা যায়।

তাহাজ্জুদের পর বিতর পড়া যাবে কি?

যাঁরা রাতে জাগার আশা করেন, তাঁরা তাহাজ্জুদের পর বিতর আদায় করতে পারেন। আর জাগার আশঙ্কা না থাকলে এশার পরই বিতর পড়ে নেওয়া উত্তম।

মাসিকের সময়ে তাহাজ্জুদ পড়া যাবে?

মাসিকের সময়ে নামাজ আদায় করা যায় না। তবে এ সময় আল্লাহর কাছে দোয়া, জিকির, ইস্তিগফার এবং দরুদ পাঠ করা যায়।

Frequently Asked Questions

What is ত হ জ জ দ ন ম?

ত হ জ জ দ ন ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ত হ জ জ দ ন ম matter?

ত হ জ জ দ ন ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *