টুইন টাওয়ার থেকে লাফিয়ে পড়া এক অচেনা মানুষের ছবি
Patrikajournal.com – ট ইন ট ওয় র থ ক – ট ইন ট ওয় র থ—২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার দিন তোলা একটি ছবি আজও মানুষের মনে গভীর বেদনা তৈরি করে। আগুন ও ধোঁয়ায় ঘেরা টুইন টাওয়ারের ওপরের তলায় আটকে পড়া মানুষের মধ্যে একজনকে নিচে পড়তে দেখা যায় সেই ছবিতে। পরে ছবিটি ‘দ্য ফলিং ম্যান’ নামে পরিচিত হয়।
ছবিতে মানুষটির দুই হাত শরীরের পাশে, একটি পা সামান্য বাঁকানো এবং পোশাকের সাদা অংশ বাতাসে উড়ছে। তাঁর দেহভঙ্গির স্থিরতা ছবিটিকে আরও অস্বস্তিকর ও শক্তিশালী করে তুলেছে। এটি শুধু একটি পতনের ছবি নয়, বরং ভয়াবহ এক দিনের ব্যক্তিগত মানবিক ট্র্যাজেডির প্রতিচ্ছবি।
ক্যামেরায় ধরা শেষ মুহূর্ত
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী রিচার্ড ড্রু সেদিন হামলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। চারপাশের বিশৃঙ্খলার মধ্যে তিনি দেখেন, টাওয়ারের ওপরের দিক থেকে মানুষ নিচে পড়ছেন। ২০০ মিলিমিটার লেন্সযুক্ত ক্যামেরায় তিনি ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি ছবি তোলেন।
সেই ধারাবাহিক ছবির একটি ফ্রেমে মানুষটির শরীর প্রায় সোজা উল্লম্ব রেখার মতো দেখা যায়। টাওয়ারের কঠিন কাঠামোর বিপরীতে তাঁর অবয়ব ছবিটিকে এক ধরনের নির্মম জ্যামিতি দিয়েছে। ট ইন ট ওয় র থ প্রসঙ্গে এই ছবির আলোচনা তাই কেবল সংবাদচিত্রের সীমায় আটকে নেই।
একটি ছবিই কখনো কখনো বিপর্যয়ের অসংখ্য অদেখা ব্যক্তিগত গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।
পরদিন ছবিটি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অনেক পাঠক ও সম্পাদক ছবিটি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, মৃত্যুর মুখোমুখি একজন মানুষের শেষ মুহূর্ত প্রকাশ করা কতটা নৈতিক এবং এতে পরিবারগুলোর শোক কতটা সম্মান পায়।
কেন ছবিটি বিতর্ক তৈরি করেছিল
হামলার সময় টাওয়ারের ওপরের অংশে থাকা অনেক মানুষের সামনে নিরাপদে বেরিয়ে আসার দৃশ্যমান পথ ছিল না। ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার দৃশ্য প্রকাশ সাংবাদিকতার দায়, মানবিক সংবেদনশীলতা এবং ব্যক্তিগত মর্যাদা নিয়ে কঠিন বিতর্ক তৈরি করে। অনেক সংবাদপত্র প্রথমবার প্রকাশের পর ছবিটি আর ছাপেনি; টেলিভিশনেও এমন দৃশ্য দেখানো সীমিত করা হয়।
তবু ছবিটি ইতিহাস থেকে মুছে যায়নি। কারণ, এর ভেতরে পরিচয়হীন একজন মানুষের শেষ মুহূর্তের পাশাপাশি সেদিনের অসহায়তার ব্যাপক চিত্রও ধরা আছে। ট ইন ট ওয় র থ নিয়ে আলোচনায় ছবিটি মনে করিয়ে দেয় যে, বড় বিপর্যয়ের প্রতিটি সংখ্যার পেছনেও থাকে একটি পরিবার ও একটি জীবন।
পরিচয়ের অনুসন্ধান
কানাডীয় সাংবাদিক পিটার চেনি ছবির মানুষটির পরিচয় খুঁজতে চেষ্টা করেন। পোশাক ও দেহাবয়ব দেখে তাঁর ধারণা ছিল, তিনি সম্ভবত টাওয়ারের বিখ্যাত রেস্তোরাঁ ‘Windows on the World’-এর কোনো কর্মী হতে পারেন। অনুসন্ধানে প্রথমে নরবার্তো হার্নান্দেজের নাম সামনে আসে।
নরবার্তোর পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রথমে ছবির সঙ্গে তাঁর মিল দেখলেও তাঁর স্ত্রী ও মেয়েরা তা মানতে পারেননি। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, নরবার্তো সেদিন নীল চেক শার্ট ও নীল জিনস পরে কাজে গিয়েছিলেন। ছবির পরের ফ্রেমগুলোতে সাদা পোশাকের নিচে কমলা রঙের কাপড় দেখা যাওয়ায় সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।
পরে সম্ভাব্য পরিচয় হিসেবে জোনাথন ব্রাইলির নাম উঠে আসে। তিনিও ‘Windows on the World’-এ কাজ করতেন এবং সাধারণত সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, কালো হাই-টপ জুতা ও কমলা রঙের টি-শার্ট পরতেন। তাঁর ভাইয়ের স্মৃতিতেও ছিল সেই কমলা টি-শার্টের কথা।
তবে পোশাকের মিল থাকলেও ছবির মানুষটি জোনাথন ব্রাইলি ছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। নরবার্তো হার্নান্দেজ, জোনাথন ব্রাইলি অথবা অন্য কেউ—প্রশ্নটির চূড়ান্ত উত্তর এখনো অমীমাংসিত। ট ইন ট ওয় র থ-এর এই ছবির সবচেয়ে গভীর বেদনা সম্ভবত এই অনিশ্চয়তাতেই।
প্রশ্নোত্তর
‘দ্য ফলিং ম্যান’ ছবিটি কে তুলেছিলেন?
ছবিটি তুলেছিলেন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আলোকচিত্রী রিচার্ড ড্রু।
ছবির মানুষটির পরিচয় কি নিশ্চিত?
না। জোনাথন ব্রাইলি ও নরবার্তো হার্নান্দেজের নাম নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো পরিচয়ই চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ছবিটি এত আলোচিত কেন?
ছবিটি ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার মানবিক বিপর্যয়কে এক ব্যক্তির শেষ মুহূর্তের মাধ্যমে তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি সংবাদ প্রকাশের নৈতিকতা ও শোকের প্রতি সম্মান নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ট ইন ট ওয় র থ ক?
ট ইন ট ওয় র থ ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ট ইন ট ওয় র থ ক matter?
ট ইন ট ওয় র থ ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

