National

বিদ্যুতে ভোগান্তি চলছে, গ্যাসে স্বস্তির আশা

khrisna-edit-1788220441-e0c65b9f4d

বিদ্যুৎ-গ্যাসের দ্বৈত সংকটে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবন

Patrikajournal.com – ব দ য ত ভ গ ন – বিদ্যুৎ বিভাগের সব প্রচেষ্টার পরেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াটের ঊর্ধ্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। চাহিদার বৃদ্ধির সঙ্গে তুলনামূলকভাবে প্রতিদিন ২ হাজার থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা দেশের শিল্প, কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। একই সময়ে গ্যাসের সরবরাহেও সংকটের ছাপ লক্ষণীয়। তবে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে খোলাবাজার থেকে এলএনজি কার্গোর জোগান নিশ্চিত হওয়ায় গ্যাস-সংকট কিছুটা হলেও মৃদু হতে পারে।

লোডশেডিং-এর প্রকৃত চিত্র

গত সোমবার বেলা ১টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার বিদ্যুৎ-তথ্য বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে সংকটের মাত্রা। রোববার রাত ১টার সময়ে লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৫৩৫ মেগাওয়াট। সোমবার বেলা ১টার সময়েও লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯০৪ মেগাওয়াট। এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লোডশেডিং-এর চাপ কোনো মুহূর্তেই ১ হাজার ৯১৬ মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়নি। অন্তত ৬ ঘণ্টা ধরে ৩ হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতির মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত হয়েছে। আর ২ হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি ছিল ঠিক ৬ ঘণ্টা।

এই মাত্রাছাড়া লোডশেডিং-এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত। শিল্পকারখানা, পোলট্রি খামার, গরু-খামার, সেচ ব্যবস্থা ও কৃষি-কাজ—সবকিছুই বিপাকে। কিছু এলাকায় উত্তেজিত জনতা আবারও বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও-এর মতো ঘটনা ঘটানো শুরু করেছে।

ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থার সংকট

ঢাকা শহরাঞ্চলের দুই বিতরণ সংস্থা—ডেসকো ও ডিপিডিসি—গ্রামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি ফিডার লাইনে দিনে অন্তত তিনবার করে লোডশেডিং দিচ্ছে। জুলাইয়ে কম হলেও আগস্টে ঢাকার তীব্র লোডশেডিং-এ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। কেবল দিনে নয়, রাতের বেলায়ও কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

ঢাকার উত্তরাঞ্চলের বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেসকো সোমবারের লোডশেডিং-সূচি প্রকাশ করেছে। সেই সূচিতে দেখা যায়, ৬১৮টি ১১ কেভি ফিডার লাইনের প্রতিটিতে সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সমান পালা করে অন্তত তিন ঘণ্টা হারে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। গরমের সময়ে ডেসকোর সর্বোচ্চ চাহিদা ১ হাজার ৪২১ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ ১ হাজার মেগাওয়াটের নিচেই আটকে আছে।

অন্যদিকে ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিপিডিসি লোডশেডিং-সূচি প্রকাশ না করলেও বিতরণ এলাকার গ্রাহকেরা দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

গ্যাস-সংকট: এলএনজি ও দেশীয় উৎসের দুই-মুখী চাপ

দেশীয় গ্যাসের মজুত কমতে থাকায় প্রতিবছর ১১৫ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সেই হিসাবে প্রতি মাসে অন্তত ১১ কার্গো এলএনজির প্রয়োজন। কিন্তু গত জুলাই ও আগস্টে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন, কার্গো সংকট, বৈরী আবহাওয়াসহ নানা কারণে মাত্র ছয় কার্গো এসেছে। ফলে এলএনজি থেকে গ্যাসের সরবরাহ দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে, যদিও ওই টার্মিনালের সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এদিকে গত দুই মাসে দেশীয় গ্যাসের উত্তোলনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে দৈনিক ১ হাজার ৬৩০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেশীয় কূপগুলো থেকে আসত; এখন সেটা ১ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে।

সেপ্টেম্বরে স্বস্তির সম্ভাবনা

পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, সেপ্টেম্বরের জন্য বেশ চড়া দামে আট কার্গো এলএনজি কেনা ইতিমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। ক্রয় কমিটির পরবর্তী বৈঠকে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনা নিশ্চিত করা হবে। সেপ্টেম্বরে ১০ কার্গো এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত হলে সেই মাসে গ্যাস-সংকট আরও কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সেপ্টেম্বরের জন্য কেনা আট কার্গো এলএনজির প্রতিটির দাম ইউনিটপ্রতি (এমএমবিটিইউ) ২৩ থেকে ২৪ ডলার করে খরচ হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যা ৬টার সময়ে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে ৭১২ মিলিয়ন ঘনফুট হারে এলএনজি আসছিল, যা গত দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেই সময়ে সামগ্রিকভাবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যাচ্ছিল ২ হাজার ৩২২ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট বিবেচনা করা হলেও ২ হাজার ৭০০ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পেরেছিল পেট্রোবাংলা।

সংকটের প্রেক্ষাপট ও প্রভাব

বিদ্যুৎ ও গ্যাস—উভয় খাতেই সরবরাহ-চাহিদার ব্যবধান বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের শিল্প-উৎপাদন, কৃষি-সেচ ও গৃহস্থালি ব্যবহার তিনই বিপর্যস্ত। লোডশেডিং-এর দীর্ঘায়ন শিল্পকারখানাগুলোকে উৎপাদন বন্ধ বা ধীরগতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা রপ্তানি-লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মসংস্থান উভয়কেই ঝুঁকিতে ফেলে। কৃষি-খাতে সেচ-বিচ্ছিন্নতা ফসলের গুণগত মান ও পরিমাণ দুটোই কমিয়ে দিচ্ছে। জনজীবনের দৃষ্টিতে রাতের বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতা নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা-সেবার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

গ্যাস-সংকটের ক্ষেত্রে দেশীয় কূপের উৎপাদন-ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এলএনজি-নির্ভরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম-দরিতে দেশের শিল্প-খরচ সরাসরি প্রভাবিত হয়। সেপ্টেম্বরে ১০ কার্গো নিশ্চিত হলে সাময়িক স্ব

Frequently Asked Questions

What is ব দ য ত ভ গ ন?

ব দ য ত ভ গ ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব দ য ত ভ গ ন matter?

ব দ য ত ভ গ ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *