News

ঋণ খরায় ব্যবসা-শিল্প | | বাংলাদেশ প্রতিদিন

ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে পড়ছে ঋণ খর য় ব যবস শ ল - বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে মূল্যস্ফীতি প্রতিরোধে অর্থনৈতিক গতি প্রায় স্থগিত হয়ে গেছে। বেসরকারি খাত এখন ঋণ খরায়

Desk News
Published May 21, 2026
Reading time 1 minutes
Conversation No comments

ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে পড়ছে

ঋণ খর য় ব যবস শ ল – বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে মূল্যস্ফীতি প্রতিরোধে অর্থনৈতিক গতি প্রায় স্থগিত হয়ে গেছে। বেসরকারি খাত এখন ঋণ খরায় আবার অচল হওয়ার পথে। দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধি দেখানো হলেও বাস্তবে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ঋণ প্রবাহ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে মোট ঋণ বিতরণ হয়েছে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। এক বছর আগে এটি ছিল ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.০৩ শতাংশ। মার্চে সেই পরিমাণ আরো কমেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রেখেছে ৮.৫ শতাংশ। এই লক্ষ্য কোনো মাসেই অর্জন হয়নি। ব্যাংকারদের মতে উচ্চ সুদের হার, বিনিময় হার ও মূল্যস্ফীতি—এই তিনটি মৌলিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান এখনো পরিষ্কার নয়। এতে ঋণ অনুমোদন ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাজনৈতিক চাপ কিছুটা কমলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়নি। বরং মূল্যস্ফীতি, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি ও জ্বালানিসংকট একসঙ্গে বিনিয়োগকে নিরুৎসাহ করছে। বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এখন ঝুঁকিমুক্ত সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ট্রেজারি বিল ও বন্ডে তুলনামূলক বেশি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল আয় থাকায় এই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। মার্চে সরকার ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ৩৩ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে, যা এপ্রিল মাসে ৪৬ হাজার কোটি টাকায় বেড়ে দাঁড়ায়। এতে বোঝা যায় বেসরকারি খাতকে ঋণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখলেও সরকার ঠিকই ব্যাংক খাতের ওপর দিনে দিনে আরো বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

ঋণ খরার কারণ অনুসন্ধান

বিনিয়োগ স্থবিরতা, ব্যবসায়িক আস্থার ভাঙন এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার মুখে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আংশিক ফিরলেও বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য শর্ত এখনো অনুপস্থিত। মূল্যস্ফীতি, লজিস্টিক ব্যয় ও সামগ্রিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায়ীদের নতুন করে ঝুঁকি নিতে নিরুৎসাহ করছে। মার্চ মাসে জ্বালানিসংকট পরিস্থিতিকে আরো চাপের মধ্যে ফেলেছে। একাধিক সমস্যা আগে থেকেই ছিল। �

Leave a Comment