গুনাহকে তুচ্ছজ্ঞান করার পরিণতি
গ ন হক ত চ ছজ ঞ – ফারসি ভাষা থেকে আগত ‘গুনাহ’ শব্দটি বাংলা সমাজে বিস্তৃত হয়েছে। একই অর্থে এটি বাংলায় ‘পাপ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। বাংলা অভিধানে এর অর্থ হিসেবে অন্যায়, কলুষ ও দুষ্কৃতি সমূহ উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর আদেশ পালন না করা পরিভাষা
আরবি ভাষায় পাপ বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত পরিভাষাগুলো হলো আল ইছম, আল খাত্বা, আল খাত্বিআহ, আল মাসিয়াহ, আয্ যান্ব ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, কিন্তু মূলত সম্পর্কে কথিত হয়েছে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর আদেশ পালন না করা বা বিরুদ্ধাচরণ করা কাজগুলো।
সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৫৩ এ ইয়ুসুফ (আ.) বলেন, ‘আর আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না। নিশ্চয়ই মানুষের মন মন্দপ্রবণ। শুধু ওই ব্যক্তি ছাড়া, যার প্রতি আমার রব দয়া করেন, আর আমার রব ক্ষমাশীল ও দয়াবান।’
একজন মুমিন ব্যক্তি সব সময় মনকে পাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করা জরুরি। ছোট ছোট গুনাহ থেকে বাঁচতে আমাদের প্রতিদিন প্রচেষ্টা চালানো দরকার। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা ছোট ছোট গুনাহ থেকে বেঁচে থেকো। কেননা ছোট ছোট গুনাহ মিলে বড় গুনাহে পরিণত হয় এবং মানুষের ধ্বংসের মাধ্যম হয়।’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২২৮৬০)
পাপের গুরুত্ব ও পরিণতি
পরিণতি সম্পর্কে জানা বোঝা পরিণতি হলো কুদৃষ্টি, গুনাহগুলো যেমন হিংসা, বিদ্বেষ, খেয়ানত এবং মা-বাবার অবাধ্যতা প্রমাণ করে দেখা যায়। মানুষের মধ্যে অনুশোচনার অভাব ও ঈমানি দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে কিন্তু তা তুচ্ছ জ্ঞানে নেওয়া হচ্ছে। যেমন ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, ‘ছোট গুনাহগুলো এক এক করে জমা হতে থাকে। অতঃপর মৃত্যুর সময় এগুলোই ঈমানহারা হওয়ার কারণ হয়।’ (ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন : ৩/৬০)
আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, ‘তোমরা বহু এমন (পাপ) কাজ করছ, সেগুলো তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও সূক্ষ্ম। কিন্তু আমরা সেগুলোকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে বিনাশকারী মহাপাপ বলে গণ্য করতাম।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪৯২)
গুনাহের প্রভাব ও সতর্কতা
ইমাম ইবনে কায়্যিম (রহ.) বলেন, দুনিয়া ও আখিরাতে গুনাহের কুপ্রভাব এমন ক্ষতিকর হয়, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—
১. ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়া। কারণ ইলম হচ্ছে নুর, যা আল্লাহ মানুষের অন্তরে দান করেন। আর গুনাহ ওই নুরকে নিভিয়ে দেয়।
২. রিজিক থেকে বঞ্চিত হওয
