তৃতীয় ভাষা হিসেবে আরবি ভাষার গুরুত্ব: জাতীয় শিক্ষানীতিতে বাস্তাবায়নের রূপরেখা
ত ত য় ভ ষ হ স – বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মাধ্যমে দেশে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স সর্বোচ্চ হয়েছে যা প্রায় ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এই মূল্যবান অর্থ সরবরাহ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ছয়টি তেলসমৃদ্ধ দেশ— সৌদি আরব, ইউনিটেড আরব ইউনিটেড ইমারাত, ওমান, কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইন— মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৪৫% থেকে ৪৭% অবদান অবদান সরবরাহ করে।
যদিও আরবি ভাষার প্রতি অবদান বিশাল, বাংলাদেশের শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ভাষাগত সমস্যার কারণে সংকটের মুখোমুখি হন। ভাষাগত দক্ষতার অভাবে অধিকাংশ কর্মী মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত শ্রমক্ষেত্রে তীব্র যোগাযোগ সমস্যার সম্মুখীন হন, যা তাদের জীবনমান ও কর্মদক্ষতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একাধিক প্রমাণ দেখায় যে বাংলাদেশের শিক্ষানীতিতে আরবি ভাষার বাস্তবায়ন অসম্পূর্ণ।
বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে আরবি ভাষা শিখাকে এখনো বাধ্যতামূলক করা হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপানের মতো দেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে কর্মীদের বাধ্যতামূলক আরবি শিক্ষার ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত। তার পরিবর্তে মাত্র তিন দিনের প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন ক্ষেত্রে একটি ছোট বইয়ের মাধ্যমে কিছু সাধারণ শব্দ শেখানো হয়।
সংকটের কারণে প্রায় ৫২% বাংলাদেশি কর্মী মধ্যপ্রাচ্যে কর্মক্ষেত্র, চিকিৎসাসেবা ও দৈনন্দিন জীবনে সংকটের মুখোমুখি হন। বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যকে কেবল জনশক্তি রপ্তানির বাজার হিসেবে দেখে এসেছে, সমমর্যাদার রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে নয়।
আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান আধুনিক অর্থনীতিতে। যেমন, সৌদি ভিশন ২০৩০ এর মতো প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের শ্রমিকদের সহায়তা করতে চায় কিন্তু ভাষাগত সেতুবন্ধন অনুপস্থিত হওয়ায় তাদের জোরালো সমর্থন পাওয়া যায় না।
বাংলাদেশ তার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশীয় শক্তির (ভারত ও চীন) টানাপোড়েন সামলাতেই বেশি ব্যস্ত থাকে। ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য আরব বিশ্বের সাথে মনস্তাত্ত্বিক ও ভাষাগত সেতুবন্ধন প্রয়োজন। এই দিকটি বর্তমানে গৌণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি বড় �
